নতুন মোটরসাইকেল কেনার তিন দিনের মাথায় দুর্ঘটনায় কিশোরসহ নিহত ২
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় তিন দিন আগে নতুন মোটরসাইকেল কিনে ঘুরতে বের হয়ে যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় এক কিশোর ও এক তরুণ নিহত হয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ভাঙ্গা গোলচত্বর এলাকায় এক্সপ্রেসওয়ের ইন্টারসেকশনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত দুজনের একজন মোটরসাইকেলচালক ভাঙ্গার জান্দি গ্রামের বাসিন্দা ও মালয়েশিয়াপ্রবাসী শাহাদাত আহমেদের ছেলে কাওসার আহমেদ ওরফে রাতুল (১৭)। অপরজন রাজু মাতুব্বর (২০)। তিনি উপজেলার শুকুরহাটি গ্রামের মুদিদোকানি খোকন মাতুব্বরের ছেলে।
তুজারপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য বিল্লাল শেখ বলেন, কাওসারের আগে একটি ছোট (কম সিসির ইঞ্জিন) মোটরসাইকেল ছিল। সে নতুন একটি মোটরসাইকেল কেনার জন্য বাড়িতে চাপ দেয়, এমনকি আত্মহত্যা করবে বলে হুমকিও দেয়। তিন দিন আগে কাওসারের মা তাকে নীল রঙের একটি মোটরসাইকেল কিনে দেন।
হাইওয়ে পুলিশ জানায়, একটি মোটরসাইকেলে করে দুই আরোহী ভাঙ্গার দিকে আসছিলেন। তাঁদের পেছন পেছন গোল্ডেন লাইন পরিবহনের বাসটি আসছিল। ঘটনাস্থলে আসার পর মোটরসাইকেলটির গতি কমিয়ে দিলে বাসটি
মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দিয়ে চলে যায়। এতে মোটরসাইকেলের চালক ও আরোহী গুরুতর আহত হন। পরে পুলিশ ও এলাকাবাসী তাঁদের উদ্ধার করে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সোহাগ মিয়া বলেন, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কাওসার ও রাজুকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসা হয়। গুরুতর হওয়ায় দুজনকেই ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে কাওসারকে স্থানান্তরের চেষ্টাকালে সে মারা যায়।
আহত রাজুকে ফরিদপুরের পরিবর্তে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে পদ্মা সেতু পার হওয়ার পর তিনি মারা যান বলে জানান ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার সার্জেন্ট আজাদুর রহমান। গোল্ডেন লাইন পরিবহনের বাসটি শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।