শিবচরে চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রীকে কারখানায় আটকে রেখে ধর্ষণের অভিযোগ ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে

ধর্ষণ
প্রতীকী ছবি

মাদারীপুরের শিবচরে একটি কারখানায় আটকে রেখে চতুর্থ শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে মিজান সরদার (৫০) নামের স্থানীয় এক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে মাদবরেরচর ইউনিয়নের একটি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

এরপর আজ শুক্রবার সকালে ওই স্কুলছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে শিবচর থানায় মামলা করেন। এরপর দুপুরে পুলিশ উপজেলার মাদবরেরচর ইউনিয়নের শিকদারকান্দি এলাকায় অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেন।

মিজান সরদার একই এলাকার মৃত লুৎফর রহমানের ছেলে। মাদবরেরচর ইউনিয়নে পোড়া ইঞ্জিন অয়েল রিসাইকেল করার একটি কারখানা রয়েছে তাঁর।

শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন আজ দুপুরে প্রথম আলোকে বলেন, গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ওই স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছেন অভিযুক্ত ব্যক্তি। ওই স্কুলছাত্রী হাসপাতালে রয়েছে। আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ওই স্কুলছাত্রীর নানাবাড়ি মিজান সরদারের কারখানার পাশে। নানাবাড়িতে থেকে লেখাপড়া করে সে। গতকাল বিকেলে কারখানাটির পাশে ঘুরতে যায় ওই স্কুলছাত্রী। এ সময় কারাখানার শ্রমিক সাজ্জাত তাঁকে কারখানার ভেতরে ডেকে নিয়ে যান। পরে সাজ্জাতকে কারখানা থেকে বের করে দিয়ে ওই স্কুলছাত্রীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ধর্ষণ করেন কারখানার মালিক মিজান সরদার। খবর পেয়ে ওই স্কুলছাত্রীর বাবা রাত আটটার দিকে কারখানার ভেতর থেকে মেয়েকে উদ্ধার করতে গেলে তাঁকে মারধর করেন মিজান।

এ সময় স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে ওই স্কুলছাত্রীকে কারখানার ভেতরে রেখে পালিয়ে যান তিনি। পরে স্থানীয় ব্যক্তিদের সহযোগিতায় ওই স্কুলছাত্রীকে উদ্ধার করে শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে তার পরিবার। এ ঘটনায় আজ সকালে ওই স্কুলছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে শিবচর থানায় মিজান সরদারকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করেন। এরপর পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তারের আগে মিজান সরদার তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘আমার কারখানায় ওই মেয়েটি স্বেচ্ছায় আসে। পরে আবার স্বেচ্ছায় চলে যায়। ওই মেয়ের সঙ্গে কোনো অন্যায় করিনি। আমাকে ফাঁসানো হচ্ছে।’

মামলার বাদী ওই স্কুলছাত্রীর বাবা প্রথম আলোকে বলেন, ‘মিজান সরদার আমার মেয়ের ওপর অত্যাচার চালিয়েছে, আমি তাঁর বিচার চাই।’ ওই কারখানার শ্রমিক সাজ্জাত হোসেন বলেন, ‘সন্ধ্যায় আমাকে কারখানা থেকে চলে যেতে বলার পর আমি আর সেখানে যাই নাই। পরে ওখানে কী ঘটেছে, আমি তা বলতে পারব না।’

অভিযুক্ত মিজান সরদারের প্রতিবেশী আবদুল কাইয়ুম বলেন, ‘মিজান সরদার আগেও একটা মেয়েকে তাঁর কারখানায় আটকে রেখে ধর্ষণ করেছেন। এ ঘটনায় তখন স্থানীয় সালিস বৈঠকে বিচার হয় তাঁর। আবার এমনটা ঘটিয়েছেন বলে শুনেছি। তাঁর বিচার হওয়ার দরকার।’