দিনাজপুরে পরিবহনশ্রমিকদের দুই পক্ষে দফায় দফায় সংঘর্ষ, দুই বাসে আগুন

শ্রমিকদের দুই পক্ষের সংঘর্ষের সময় দুটি বাসে আগুন দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার বিকেলে দিনাজপুর শহরের কালিতলা এলাকায়ছবি: প্রথম আলো

দিনাজপুরে এক শ্রমিকনেতার মুক্তির দাবিতে থানা ঘেরাও ও সড়ক অবরোধকে কেন্দ্র করে শ্রমিকদের দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় সড়ক অবরোধের জন্য রাখা দুটি বাস ও একটি মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়া হয়। পরে ফায়ার সার্ভিস এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

সংঘর্ষে কয়েকজন নারীসহ অন্তত ২০ জন শ্রমিক আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে মো. পলাশ (৪০) নামের এক শ্রমিকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাঁকে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

আরও পড়ুন

এর আগে গতকাল বুধবার রাতে দিনাজপুর শহরের মহারাজা বটতলী (রাজারহাট) এলাকা থেকে জেলা মোটর পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ বাদশাকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ। তিনি জেলা শ্রমিক লীগের সাবেক নেতা। জুলাই অভ্যুত্থানের পর সংবাদ সম্মেলন করে শ্রমিক লীগের পদ ছাড়েন। আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর মোটর পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের ত্রিবার্ষিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। ওই নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন বাদশা।

এ ঘটনার পর আজ সকাল সাতটা থেকে বাদশার মুক্তির দাবিতে একদল শ্রমিক কোতোয়ালি থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ শুরু করেন। এ সময় জেলা শহরের বিভিন্ন প্রবেশপথে বাস-ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহন আড়াআড়িভাবে রেখে সড়ক অবরোধ করা হয়। এতে শহরের সঙ্গে অভ্যন্তরীণ ও আন্তজেলা সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ মানুষ।

শ্রমিক নেতার মুক্তির দাবিতে থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ। বৃহস্পতিবার সকালে কোতোয়ালি থানা চত্বরে
ছবি: প্রথম আলো

প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন বলেন, বিক্ষোভের এক পর্যায়ে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কোতোয়ালি থানা এলাকায় দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েন শ্রমিকেরা। তাঁদের এক পক্ষ বাদশার অনুসারী এবং অপর পক্ষ শ্রমিকনেতা মো. হিরুর অনুসারী হিসেবে পরিচিত। দুপুর ১২টা থেকে বেলা আড়াইটা পর্যন্ত থানার প্রধান ফটকের বাইরে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষ চলে। এতে অন্তত ২০ জন শ্রমিক আহত হন। সংঘর্ষের সময় সড়কে থাকা দুটি বাসে আগুন দেওয়া হয় এবং মাছরাঙা টেলিভিশনের ক্যামেরাপারসন মো. রুবেলের মোটরসাইকেলটি আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়।

দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার মাসুদুর রহমান জানান, আহত ১৭ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

বেলা তিনটার দিকে থানা এলাকার নিয়ন্ত্রণ নেন শ্রমিকনেতা মো. হিরুর অনুসারীরা। আধা ঘণ্টা পর পুলিশের পাহারায় শ্রমিকনেতা শেখ বাদশাকে আদালতে নেওয়ার পর কারাগারে পাঠানো হয়। এ সময় পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের পাশাপাশি বেশ কয়েকজনকে লোকজনকে লাঠিসোঁটা ও দেশি অস্ত্র হাতে দেখা যায়।

শ্রমিক নেতার মুক্তির দাবিতে থানার প্রধান ফটকের সামনে বাস আড়াআড়িভাবে রেখে সড়ক অবরোধ। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় কোতোয়ালি থানার সামনে
ছবি: প্রথম আলো

দিনাজপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আবদুল হালিম প্রথম আলোকে বলেন, কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল বাদে অন্য সব সড়ক থেকে যানবাহন সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এখন যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। গ্রেপ্তার আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।