চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকায় গৃহশিক্ষিকার লাশ উদ্ধার, দুজন আটক
চাঁপাইনবাবগঞ্জের পৌর এলাকার নামো শংকরবাটী চৌকাপাড়ার মহল্লার একটি বাড়ি থেকে আজ মঙ্গলবার সকালে মরিয়ম বেগম (৫৫) নামে এক গৃহশিক্ষিকার বস্তাবন্দী লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় বাড়ির মালিক ও তাঁর স্ত্রীকে আটক করেছে পুলিশ। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ২৫০ শয্যার জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
নিহত মরিয়ম বেগম পৌর এলাকার রাজা রামপুর উজ্জ্বলপাড়ার মোসাদ্দেক হোসেনের স্ত্রী। আটক দুজন বাড়ির মালিক মো. রুবেল (৩৫) ও তাঁর স্ত্রী সুমি বেগম। বাড়িতে মরিয়ম বেগমের বস্তাবন্দী লাশ থাকার বিষয়টি সুমি বেগমের স্বামী রুবেল নিজেই ৯৯৯-এ ফোন করে জানান।
পুলিশ ও নিহতের ছোট ভাই মোস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মরদেহের মাথা ও ঠোঁটে আঘাতের চিহ্ন এবং কান ছিঁড়ে সোনার দুল ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছিল। পরে অবশ্য উদ্ধার করা হয়েছে।
মোস্তাফিজুর রহমান জানান, তাঁর বোন এলাকায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়ান। যে বাড়ি থেকে লাশ উদ্ধার হয়েছে, সেই বাড়ির পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক মেয়েকেও পড়াতেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে সোনার কানের দুলের জন্য তাঁর বোনকে হত্যা করা হয়েছে।
মোস্তাফিজুর বলেন, গতকাল সোমবার সকালে তাঁর বোন প্রাইভেট পড়ানোর জন্য বাড়ি থেকে বের হন। স্বামীর সঙ্গে দুপুর ১২টার দিকে শেষ কথা হয়। ফোনে তিনি তখন জানিয়েছিলেন, কিছুক্ষণের মধ্যেই বাড়ি ফিরে রান্না করবেন। এরপর তাঁকে আর ফোনে পাওয়া যাচ্ছিল না। রাতে থানায় জিডি করতে গেলে শুধু নাম–ঠিকানা নেওয়া হয়, কিন্তু জিডি গ্রহণ করা হয়নি।
পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস প্রথম আলোকে জানান, নিহত মরিয়ম বেগমের কান থেকে ছিঁড়ে নেওয়া সোনার এক জোড়া কানের দুল উদ্ধার করা হয়েছে। আটক সুমি বেগম স্বীকার করেছেন, দুল জোড়া ওই এলাকার একটি সোনার দোকানে ১২ হাজার টাকায় গতকাল সোমবার দুপুরে বিক্রি করেছিলেন। স্বর্ণকারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, কানের দুলের জন্য সুমি বেগম এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়েরের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।