১০ ট্রাক অস্ত্র মামলায় জেল খাটা সেই মরিয়ম গ্রেপ্তার

মরিয়ম বেগমছবি: প্রথম আলো

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলা পরিষদের সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মরিয়ম বেগমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল শনিবার রাত ১০টার দিকে উপজেলার বৈরাগ ইউনিয়নের উত্তর বন্দর এলাকা থেকে কর্ণফুলী থানা–পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা একটি মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

মরিয়ম এলাকায় ‘বদনী মেম্বার’ নামে পরিচিত। তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি পদে ছিলেন। দুই দফায় উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। এর আগে দুবার ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য পদেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

২০০৪ সালে চট্টগ্রামের আনোয়ারার সিইউএফএল ঘাটে ১০ ট্রাক অস্ত্র আটক হয়। পরে সে ঘটনায় করা মামলার অভিযোগপত্রে আসামি করা হয় মরিয়মকে। ওই মামলায় প্রায় ছয় মাস জেল খেটেছেন তিনি। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে তিনি ২০১৪ সালে মামলাটি থেকে খালাস পেয়েছেন।

মরিয়ম বেগম বৈরাগ ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য পদে প্রথমবারের মতো নির্বাচিত হন ২০০৩ সালে। ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলা মাথায় নিয়েই ২০১১ সালে পুনরায় নারী সদস্য নির্বাচিত হন। ২০১৪ সালে মামলাটি থেকে খালাস পাওয়ার পর ওই বছরই আওয়ামী লীগের সমর্থনে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ নেন। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে জয়ী হন তিনি। ২০১৯ সালে একই পদে দলের সমর্থনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। এরপর ২০২৪ সালে একই পদে নির্বাচন করে হেরে যান তিনি।

গত বছরের ১৬ সেপ্টেম্বর মরিয়মের ছেলে আখতার হোসেন (৩৮) যৌথ বাহিনীর অভিযানে অস্ত্র–মাদকসহ গ্রেপ্তার হন। অভিযানে তাঁর কাছ থেকে ১টি নকল পিস্তল, ১২টি ইয়াবা, ২৫০ গ্রাম গাঁজা, ৩টি সামরিক গ্রেডের ওয়াকি–টকি সেট, ৩টি সামরিক গ্রেডের কম্পাস, ২১টি মুঠোফোন, ৯৫টি সিম কার্ড, পেনড্রাইভ, মেমোরি কার্ড, ১৮টি দেশীয় অস্ত্রসহ নির্যাতনের বিভিন্ন উপকরণ উদ্ধার করা হয়।

জানতে চাইলে কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহিনূর আলম প্রথম আলোকে বলেন, মরিয়ম বেগমকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা একটি মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আজ রোববার তাঁকে আদালতে পাঠানো হবে।