আড়াই মাস পর ২৬ ভরি সোনা, ২৫ লাখ টাকাসহ আটজন গ্রেপ্তার

রাজশাহীতে সোনার দোকানে চুরির মামলায় গ্রেপ্তার সাতজন। আজ বৃহস্পতিবার সকালে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের সদর দপ্তরেছবি: প্রথম আলো

চুরির প্রায় চার মাস আগে রাজশাহীর সাহেববাজার এলাকায় আসা-যাওয়া শুরু করে একটি চক্র। কখনো ব্যবসায়ী, কখনো ক্রেতা সেজে বিভিন্ন হোটেলে অবস্থান করে তারা নজরদারি করে ‘কারুশ্রী জুয়েলার্স’ ও আশপাশের এলাকা। ঠিক করে নেয় দোকানে ঢোকা ও পালানোর পথ।

এরপর গত ১৯ জুন ভোরে পাশের একটি সোনার দোকানের তালা খুলে ভেতরে ঢুকে দেয়াল কেটে কারুশ্রী জুয়েলার্সে চুরি করে চক্রটি। এ ঘটনায় সাত ব্যক্তি ও চোরাই সোনা কেনার অভিযোগে এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীসহ আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। এর আগে আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে গ্রেপ্তার সাতজনকে ঢাকা থেকে রাজশাহীতে নিয়ে আসা হয়। দুপুরে আরএমপির মুখপাত্র উপপুলিশ কমিশনার গাজিউর রহমান আরএমপির সদর দপ্তরের সম্মেলনকক্ষে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।

পুলিশ জানায়, ১৯ জুন ভোরে ১০–১২ জনের একটি দল সাহেববাজারে কারুশ্রী জুয়েলার্সের সামনে জটলা তৈরি করে। পরে পাশের ‘আফিয়া জুয়েলার্সের’ তালা খুলে ভেতরে ঢুকে ওই দোকানের পশ্চিম পাশের দেয়াল কেটে কারুশ্রী জুয়েলার্সে প্রবেশ করে। জুয়েলার্সটির মালিক তূর্য সরকারের এজাহার অনুযায়ী, প্রায় ২০০ ভরি সোনা, ১ হাজার ২০০ ভরি রুপা ও নগদ ২৫ লাখ টাকা চুরি হয়। এ ঘটনায় তূর্য সরকার পরদিন বাদী হয়ে বোয়ালিয়া মডেল থানায় মামলা করেন। মামলার তদন্তে আরএমপির ডিবি, সাইবার ইউনিট ও সিসিটিভি ক্যামেরা ইউনিট কাজ শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে চক্রটির সদস্যদের শনাক্ত করা হয়।

পুলিশের ভাষ্য, চক্রটি একটি মুঠোফোন একবারের বেশি ব্যবহার করে না। সিম কার্ডও থাকে অন্য ব্যক্তিদের নামে। এমনকি যাঁদের নামে এসব সিম নিবন্ধিত, তাঁদের অনেকেই নিজেদের নামে সিম থাকার বিষয়টিও জানেন না। চক্রের সদস্যরা দ্রুত স্থান পরিবর্তন করেন এবং কোনো এলাকায় স্থায়ীভাবে অবস্থান করেন না। চুরির আগে তিন থেকে চার মাস ধরে নির্দিষ্ট এলাকা ও প্রতিষ্ঠানের তথ্য সংগ্রহ করেন তাঁরা। বছরে এক থেকে দুটি বড় ধরনের চুরি করে এই চক্র।

তদন্তের একপর্যায়ে ৮ সেপ্টেম্বর রাতে খুলনা থেকে রুস্তম আলী শেখ (৬৪) নামের একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া থানার মাধবপুরা গ্রামের স্বপন (৬২), উজ্জ্বল (৩৭), রিয়াজ (৩৯), ইউনুস (৪৫), বাগেরহাটের শরণখোলা থানার খোন্তাকাটা গ্রামের আবু তালেব (৪৫), কালাম শেখকে (৪৮) গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চোরাই মালামাল কেনার অভিযোগে চাঁদপুরের কচুয়া থানার বড়নীখোলা গ্রামের স্বর্ণ ব্যবসায়ী রবিউল হাসানকেও (৪৫) গ্রেপ্তার করা হয়।

আরএমপি জানিয়েছে, রবিউলের হেফাজত থেকে ২৬ ভরি সোনা, ৬২ ভরি রুপা এবং চোরাই সোনা বিক্রির ২৫ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের পর রবিউল অসুস্থ হয়ে পড়লে পুলিশি পাহারায় তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চুরি যাওয়া অন্য মালামাল উদ্ধার এবং ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের শুক্রবার সকালে আদালতে হাজির করে প্রত্যেকের সাত দিনের রিমান্ড চাওয়া হবে।

আরও পড়ুন