টাকাসহ জামায়াতের কর্মীদের আটক করলেন বিএনপির নেতা–কর্মীরা, পরে ফেরত

সিরাজগঞ্জ–২ আসনে ভোট কেনার অভিযোগ তুলে টাকাসহ জামায়াতের কর্মীদের আটক করেন বিএনপির নেতা–কর্মীরা। আজ বুধবার কামারখন্দের চৌবাড়ি পশ্চিমপাড়া গ্রাম এলাকায়ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

সিরাজগঞ্জ–২ (সদর ও কামারখন্দ) আসনে কামারখন্দ উপজেলায় ভোট কেনার অভিযোগ তুলে টাকাসহ জামায়াতের কর্মীদের আটক করেন বিএনপির নেতা–কর্মীরা। পরে প্রশাসনের লোকজন আসার পর ওই টাকা ফেরত দেন তাঁরা। জামায়াতের অভিযোগ, নির্বাচনী কেন্দ্রের খরচের টাকা ছিনিয়ে নিয়েছিলেন বিএনপির কয়েকজন কর্মী।

উপজেলার চৌবাড়ি পশ্চিমপাড়া গ্রাম এলাকায় আজ বুধবার বেলা সাড়ে তিনটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।

এ বিষয়ে উপজেলার রায়দৌলতপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবদুল মান্নান (মধু) বলেন, ‘জামায়াতের লোকজন আচরণবিধি লঙ্ঘন করে ভোট কেনার জন্য এই টাকা নিয়ে মাঠে এসেছিলেন। এ কারণে আমার ছেলে উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আমির হামজা ও স্থানীয় বিএনপির নেতা–কর্মীরা বিষয়টি জানতে পেরে টাকাসহ তাঁদের হাতেনাতে আটক করেন। তাঁদের কাছ থেকে ৭১ হাজার টাকা পেয়েছিলেন। পরে প্রশাসনের লোকজন এসে ওই টাকা আবার তাঁদের ফেরত দিয়েছেন।’

এই অভিযোগ অস্বীকার করে কামারখন্দ উপজেলার জামায়াতের নায়েবে আমির আতাউর রহমান বলেন, নির্বাচনী কেন্দ্রের খরচের টাকা নিয়ে যাওয়ার সময় বিএনপির নেতা হাবিব ও মধুর নেতৃত্বে তাঁদের কর্মীদের কাছ থেকে প্রায় দুই লাখ টাকা ছিনিয়ে নেন এবং তাঁদের লাঞ্ছিত করেন। এ ঘটনার ভিডিও তাঁদের কাছে রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

আরও পড়ুন

ওই ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান নির্বাচনী আচরণবিধি প্রতিপালনের দায়িত্বে থাকা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল্লা আল মামুন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, সিএনজিচালিত অটোরিকশায় যাওয়ার সময় জামায়াতের সমর্থক চারজনকে বিএনপির নেতা–কর্মীরা আটক করেন। তাঁদের দাবি, ভোট কেনার জন্য টাকা নিয়ে তাঁরা মাঠে নেমেছেন। ওই নেতাদের কাছ থেকে ৭১ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁদের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া একটি ব্যাগে জামায়াতে ইসলামীর নামসংবলিত টি–শার্ট ও বেশ কিছু ব্যাজ পাওয়া গেছে।

আবদুল্লা আল মামুন আরও বলেন, জামায়াতের নেতা–কর্মীরা দাবি করেছেন, তাঁদের কাছ থেকে দুই লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে, যা পোলিং এজেন্টদের খরচ দেওয়ার জন্য নেওয়া হচ্ছিল। আর টি–শার্ট ও ব্যাজ স্বেচ্ছাসেবকদের ব্যবহারের জন্য। এ সময় তাঁদের কাছে বেশ কিছু পোলিং এজেন্টের ফরমও পাওয়া গেছে। টাকার অঙ্কে গরমিল ও উভয় পক্ষের বক্তব্য সন্দেহজনক মনে হওয়ায় বিষয়টি তদন্তের জন্য জুডিশিয়াল (বিচারিক) কমিটিতে পাঠানো হয়েছে।