বিতর্কের মধ্যেই কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজে ৬ শিক্ষকের নতুন পদায়ন

জলাবদ্ধতায় তলিয়ে ছিল কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রের পুরো আঙিনা। ১৩ জুলাই তোলাপ্রথম আলোর ফাইল ছবি

কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের সাত শিক্ষককে বদলির আদেশ নিয়ে বিতর্কের মধ্যে কলেজটিতে নতুন করে ছয়জন শিক্ষককে পদায়ন করা হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সরকারি কলেজ-২ শাখা থেকে রোববার এ–সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। ওই শিক্ষকদের ২৮ জুলাইয়ের মধ্যে বর্তমান কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত হয়ে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত ১৩ জুলাই। সেদিন জলাবদ্ধতার মধ্যে হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি মাড়িয়ে কেন্দ্রে গিয়ে পরীক্ষা দিতে হয়েছিল কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রের প্রায় এক হাজার এইচএসসি পরীক্ষার্থীকে। এ ঘটনার ১০ দিনের মাথায় কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের সাত শিক্ষককে একই আদেশের মাধ্যমে কক্সবাজার, সিলেট, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, বরগুনাসহ বিভিন্ন জেলায় বদলি করা হয়েছে। এরপর বিষয়টি নিয়ে শুরু হয় বিতর্ক আর সমালোচনা।

আরও পড়ুন

বদলির আদেশের প্রতিবাদ জানিয়ে গত শনিবার কলেজটির শিক্ষার্থীরা কলেজ প্রাঙ্গণে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। তাঁদের দাবি ছিল, শিক্ষকদের বদলি নয়, কুমিল্লা নগরের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধান করতে হবে। কর্মসূচি চলাকালে বদলিকৃত ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ মহসীন শিক্ষার্থীদের আন্দোলন বন্ধের আহ্বান জানিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তাঁর সেই ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, জলাবদ্ধতার মতো দীর্ঘদিনের নাগরিক সমস্যার দায় শিক্ষকদের ওপর চাপানো হয়েছে।

এর এক দিন পরই নতুন শিক্ষক পদায়নের এই সিদ্ধান্ত এল। এ ঘটনায় আগে বদলিকৃত কয়েকজন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

আগে বদলিকৃত কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের একজন শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে বলেন, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পর বিষয়টি পুনর্বিবেচনার সুযোগ না দিয়েই নতুন শিক্ষকদের পদায়ন করা হয়েছে। তাঁদের ভাষ্য, জলাবদ্ধতার ঘটনায় দায় শিক্ষকদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে, যা দুঃখজনক।

শিক্ষকদের বদলির আদেশের বিরুদ্ধে অবস্থান কর্মসূচিতে ছিলেন কলেজটির শিক্ষার্থী সালমা আক্তার। নতুন শিক্ষকের পদায়নের পর আজ বিকেলে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের শিক্ষকদের বদলির আদেশ প্রত্যাহার না করে উল্টো নতুন শিক্ষকদের পদায়ন করা হয়েছে। আমরা এমন সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানাচ্ছি। আমরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করব।’ তিনি বলেন, এ ঘটনায় শিক্ষকদের বদলি না করে জলাবদ্ধতা সমস্যার সমাধান করা দরকার ছিল।

আরও পড়ুন