আইয়ুব হোসেন শায়িত তাঁরা বাবা-মায়ের কবরের পাশে

আইয়ুব হোসেনের জানাজা। আজ বুধবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে মেহেরপুর সদর উপজেলার রাজনগর ঘোড়ামারা গ্রামে
প্রথম আলো

রাজধানীর উত্তরায় গার্ডার পড়ে নিহত প্রাইভেট কারের মালিক আইয়ুব হোসেন ওরফে রুবেলের দাফন মেহেরপুরে তাঁর গ্রামের বাড়িতে সম্পন্ন হয়েছে। আজ বুধবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে মেহেরপুর সদর উপজেলার রাজনগর ঘোড়ামারা গ্রামে জানাজা শেষে বাবা-মায়ের কবরের পাশে তাঁকে শায়িত করা হয়।

এর আগে গতকাল মঙ্গলবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে আইয়ুব হোসেনের মরদেহ নিজ গ্রামে এসে পৌঁছে। সেখানে পৌঁছার পর স্বজনসহ এলাকার শত শত মানুষ তাঁকে শেষবারের মতো একনজর দেখতে ভিড় করে। এ সময় পরিবারের সদস্যদের আহাজারি ও মাতম করতে দেখা যায়।

আরও পড়ুন

রাজনগর জামে মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা মোস্তাফিজুর রহমান আইয়ুব হোসেনের জানাজায় ইমামতি করেন। এ সময় এলাকার জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সাধারণ মানুষ জানাজায় অংশ নেন।

আইয়ুব হোসেনের বড় বোন আদুরি খাতুন প্রথম আলোকে বলেন, বেশ কয়েকটি ব্যবসা করে আইয়ুবের আর্থিক অবস্থার পরিবর্তন ঘটে। ঢাকায় তাঁর কয়েকটি ফ্ল্যাট রয়েছে। আর যেসব সম্পত্তি রয়েছে, সেগুলো ভাগ-বাঁটোয়ারার জন্য আইয়ুবের তিন স্ত্রী বাড়িতে আসেন। জানাজা শেষে দুই স্ত্রী ও তাঁদের সন্তানেরা ঢাকায় ফেরত যান। আদুরি খাতুন বলেন, ‘আইয়ুবের কোথায় কী সম্পত্তি রয়েছে, তা আমরা কেউ জানি না। তবে গ্রামের বাড়িতে তাঁর অংশ ফেলে রাখা হয়েছে।’

আরও পড়ুন

আইয়ুব হোসেনের ভাতিজা সাইফুল ইসলাম বলেন, এভাবে কোনো প্রকারের নিরাপত্তাবেষ্টনী ছাড়া ব্যস্ত সড়কে নির্মাণের কাজ করা হচ্ছিল। এ ঘটনায় পরিবার থেকে মামলা করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সরকার ব্যবস্থা নেবে বলে শোনা যাচ্ছে।

আইয়ুব হোসেনের একমাত্র ছেলে হৃদয়ের (২৬) বিয়ে হয় গত শনিবার। সোমবার ছিল ছেলের বাড়িতে বউভাতের অনুষ্ঠান। সেই অনুষ্ঠান শেষে তাঁরা গাড়িতে মেয়ের বাড়িতে ফিরছিলেন। আইয়ুব হোসেন ছেলে ও ছেলের বউকে গাড়িতে করে পৌঁছে দিচ্ছিলেন। গাড়িটি চালাচ্ছিলেন আইয়ুব হোসেন। গাড়িতে ছিলেন ছেলে হৃদয় ও হৃদয়ের স্ত্রী রিয়া মনি (২১)। আরও ছিলেন হৃদয়ের শাশুড়ি ফাহিমা (৩৭), খালাশাশুড়ি ঝরনা (২৮) এবং ঝরনার দুই সন্তান জান্নাত (৬) ও জাকারিয়া (২)। উত্তরায় গাড়িটির ওপর আকস্মিক বাস র‍্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্পের উড়ালসড়কের গার্ডার পড়লে পাঁচজন নিহত হন। তাঁদের মধ্যে শুধু হৃদয় ও তাঁর স্ত্রী রিয়া মনি বেঁচে যান।