নাটোরের চারটি আসনে ১১ জন কোটিপতি প্রার্থী

নাটোরের চারটি সংসদীয় আসনে নির্বাচনে কোটিপতি প্রার্থীরাছবি: সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নাটোর জেলায় কোটিপতি প্রার্থীর ছড়াছড়ি। জেলার চারটি আসনে বিএনপি মনোনীত চার প্রার্থীসহ অন্তত ১১ জন কোটিপতি প্রার্থী রয়েছেন।

নাটোর-১ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ফারজানা শারমীন, স্বতন্ত্র থেকে তাইফুল ইসলাম, মোহাম্মদ ইয়াসির আরশাদ ও মোয়াজ্জেম হোসেন; নাটোর-২ আসনে বিএনপির রুহুল কুদ্দুস তালুকদার, তাঁর স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন; নাটোর-৩ আসনে বিএনপির আনোয়ার হোসেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী দাউদার মাহমুদ, এনসিপির এস এম জার্জিস কাদির ও জামায়াতে ইসলামীর সাইদুর রহমান এবং নাটোর-৪ আসনে বিএনপির আবদুল আজিজ তাঁদের হলফনামায় কোটি কোটি টাকার সম্পদের হিসাব উল্লেখ করেছেন।

নাটোর-১

পেশায় আইনজীবী ফারজানা শারমীন তাঁর হলফনামায় আয়কর রিটার্নে সম্পদের পরিমাণ উল্লেখ করেননি। তবে অস্থাবর সম্পদ হিসেবে (বর্তমান আনুমানিক মূল্য) ৩ কোটি ২০ লাখ টাকা এবং স্থাবর সম্পত্তি হিসেবে বনানীতে ৫ কাঠা জমির ওপর নির্মিত ৫ তলা ও বনশ্রীতে ১ দশমিক ৬২৯ কাঠার ওপর নির্মিত একটি ভবনের তথ্য উল্লেখ করেছেন। যার মূল্য উল্লেখ করেননি। গৃহনির্মাণ ঋণ হিসেবে ১ কোটি ৪৬ লাখ ৪২ হাজার ৪৭৭ টাকা দায়ের কথা উল্লেখ করেন। তবে ওই ঋণ গত বছরের ১০ ডিসেম্বর পরিশোধ করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি তাঁর স্বামীর পেশা হিসেবে ‘ব্যবসা’ উল্লেখ করলেও তাঁর সম্পদ ও আয়ের কোনো বিবরণ উল্লেখ করেননি।

স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ ইয়াসির আরশাদ পেশায় একজন চিকিৎসক। মনোনয়নপত্রে স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের বর্তমান মূল্য দেখিয়েছেন সাত কোটি টাকা। এর দুই কোটি অস্থাবর ও পাঁচ কোটি স্থাবর সম্পদ। ব্যাংকে জমা আছে ৪০ লাখ ৬৪ হাজার ৭৬০ টাকা। বার্ষিক আয় দেখিয়েছেন ১০ লাখ ৪৫ হাজার ৪১৪ টাকা। এর মধ্যে ৬ লাখ ১৬ হাজার টাকা পান বাসাভাড়া থেকে। বাকিটা ব্যবসা ও সঞ্চয়পত্র থেকে।

তাইফুল ইসলাম (টিপু) বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহদপ্তর সম্পাদক। তিনি দলীয় মনোনয়ন পাননি; হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী। আগের পেশা ‘ব্যবসা’ দেখালেও বর্তমানে ‘আইনজীবী’। আয়কর রিটার্নের ঘরে তাঁর সম্পদের পরিমাণ লেখা আছে ৪ কোটি ৩৩ লাখ ১০ হাজার ৮৯ টাকা। বার্ষিক আয় ৩ কোটি ৬২ লাখ ৭০ হাজার ১৫৬ টাকা। আইন পেশা থেকে ২২ লাখ ৭০ হাজার ও কৃষি খাত থেকে ১ লাখ টাকা দেখানো হলেও বাকি আয় কোন খাত থেকে তার উল্লেখ নেই। হাতে নগদ টাকা আছে ৩ কোটি ১০ লাখ ১২ হাজার ১১১ টাকা। তবে ব্যাংকে ঋণ রয়েছে ১৪ লাখ ৬৪ হাজার ৪৩৬ টাকা। তাঁর ব্যাংকার স্ত্রীর সম্পদের পরিমাণ ৯৪ লাখ ৯ হাজার ১৫২ টাকা।

মোয়াজ্জেম হোসেনের সম্পদের পরিমাণ ১ কোটি ১৬ লাখ ৮৬ হাজার ২০৪ টাকা। বার্ষিক আয় ১৩ লাখ ৮৬ হাজার ৫৭৬ টাকা। তবে তিনি তাঁর হলফনামায় স্থাবর-অস্থাবর কোনো সম্পদের পরিমাণ উল্লেখ করেননি। আয়ের উৎস বাসাভাড়া থেকে ১ লাখ ২৬ হাজার, চাকরি (যদিও পেশা হিসেবে চাকরি দেখাননি) থেকে ৬৭ হাজার ৪৪০ এবং অন্যান্য উৎস (সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি) থেকে ১১ লাখ ৯০ হাজার ১৩৬ টাকা উল্লেখ করা হয়েছে।

নাটোর-২

বিএনপির প্রার্থী এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদারের নামে মামলার সংখ্যা যেমন বেশি (৪৪টি স্থগিত, ৩৯টিতে খালাস), সম্পদেও জেলার প্রার্থীদের মধ্যে এগিয়ে তিনি। হলফনামায় সম্পদের পরিমাণ ৮ কোটি ৫২ লাখ ৫৪ হাজার ১৮ টাকা। ৭ কোটি ৬২ লাখ ৫৬ হাজার ৮৪১ টাকার অস্থাবর এবং ৮৯ লাখ ৯৭ হাজার ১৭৭ টাকার স্থাবর সম্পদ। যদিও হলফনামার ১০ (ক) দফায় স্থাবর সম্পত্তির মূল্য যোগ করে দেখাননি। বার্ষিক আয় দেখিয়েছেন ৭৩ লাখ ৩৫ হাজার ৭৮ টাকা। পেশা হিসেবে ‘আইনজীবী’ উল্লেখ করা হলেও একটি টাকাও এই পেশা থেকে দেখানো হয়নি। আয় দেখানো হয়েছে কৃষি খাত থেকে ২ লাখ ৪০ হাজার ও ব্যাংক-বিমা খাত থেকে ৭০ লাখ ৯৫ হাজার ৭৮ টাকা। পেশায় গৃহিণী হলেও সম্পদ ও আয়ের দিক থেকে তাঁর স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন এগিয়ে। তাঁর সম্পদের পরিমাণ ৮ কোটি ৪৬ লাখ ২৬ হাজার ৮৭২ টাকা। বার্ষিক আয় ২ কোটি ৬৮ লাখ ৭৪ হাজার ৯৭৩ টাকা। এর মধ্যে ব্যাংক-বিমা খাত থেকে ২ কোটি ৩৮ লাখ ৭৪ হাজার ৯৭৩ টাকা ও অন্যান্য উৎস থেকে ৩০ লাখ টাকা (সুনির্দিষ্ট নেই))।

স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবিনা ইয়াসমিন বিএনপি প্রার্থী এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদারের স্ত্রী। পেশায় গৃহিণী এই প্রার্থীর সম্পদের পরিমাণ ৮ কোটি ৪৬ লাখ ২৬ হাজার ৮৭২ টাকা। বার্ষিক আয় ২ কোটি ৬৮ লাখ ৭৪ হাজার ৯৭৩ টাকা। এর মধ্যে ব্যাংক-বিমা খাত থেকে ২ কোটি ৩৮ লাখ ৭৪ হাজার ৯৭৩ টাকা ও স্বামীর উপহার বাবদ ৩০ লাখ টাকা।

নাটোর-৩

এস এম জার্জিস কাদির এনসিপি মনোনীত প্রার্থী। তাঁর সম্পদের পরিমাণ ১ কোটি ৩৭ লাখ ১৩ হাজার ৫২৯ টাকা। তাঁর নগদ টাকা আছে ১ কোটি ১২ লাখ ৩৭ লাখ ৩২৭ টাকা। ছয় লাখ টাকা বার্ষিক আয়ের একমাত্র উৎস অবসরকালীন ভাতা। স্ত্রীর ব্যাংকে ১০ লাখ টাকা গচ্ছিত থাকলেও তাঁর কোনো গয়না নেই। স্ত্রীর ৯৫ শতক কৃষিজমি থাকলেও প্রার্থীর নিজের কৃষি-অকৃষি জমি নেই। তিনি পৈতৃক সূত্রে পাওয়া বাড়িতে বসবাস করেন।

সাইদুর রহমান জামায়াতে ইসলামের মনোনীত প্রার্থী। অবসরপ্রাপ্ত এই কলেজ শিক্ষকের সম্পদের পরিমাণ ১ কোটি ২৫ লাখ ১০ হাজার ৭৪২ টাকা। বছরে আয় করেন ৬ লাখ ৩৮ হাজার ২০৪ টাকা। তাঁর হাতে নগদ আছে ৩০ লাখ ৪০ হাজার ২০৪ টাকা।

বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আনোয়ারুল ইসলাম একজন অধ্যাপক। নিজের সম্পদের পরিমাণ ১ কোটি ৬১ লাখ ৩০ হাজার টাকা। ব্যাংকঋণ (সিসি) আছে ১ লাখ ৬১ হাজার ৬১৭ টাকা। তাঁর স্ত্রীর সম্পদের পরিমাণ ১ কোটি ৯১ লাখ ২৫ হাজার টাকা।

দাউদার মাহমুদ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক। দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। পেশায় ব্যবসায়ী এই প্রার্থীর সম্পদের পরিমাণ ৩ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। ২ কোটি ৬৫ হাজার টাকার স্থাবর সম্পদ ছাড়াও তাঁর ৯০ লাখ টাকার অস্থাবর সম্পদ রয়েছে। আয়ের বড় অংশ আসে ব্যবসা থেকে। তাঁর বার্ষিক আয় ১০ লাখ ৬৫ হাজার ৪৪৬ টাকা।

নাটোর-৪

বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আবদুল আজিজের আয়ের একমাত্র উৎস কৃষি। তিনি হলফনামায় (৭ এর ‘ক’ ও ‘খ’ দফা) স্থাবর সম্পদের পরিমাণ ৩ কোটি ৯৫ লাখ ২৭ হাজার ৩৫০ টাকা ও অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ৮০ লাখ ৮৬ হাজার ৪২৪ টাকা উল্লেখ করেছেন। অথচ হলফনামার ১০ এর ‘ক’ দফায় আয়কর রিটার্নে মোট সম্পদের পরিমাণ উল্লেখ করেছেন ৩৬ লাখ ৮৬ হাজার ৬৮৬ টাকা। বার্ষিক আয় দেখিয়েছেন ৫ লাখ ৭৯ হাজার ৩১৬ টাকা। চলতি অর্থবছরে আয়কর দিয়েছেন ৩ হাজার ৬৪৮ টাকা।