চার দিন ধরে নিখোঁজ ছিলেন গৃহবধূ, ঘরের পাশে পুকুরে ভেসে উঠল হাত-পা বাঁধা লাশ

মরদেহপ্রতীকী ছবি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে নিখোঁজের চার দিন পর ঘরের পাশের পুকুর থেকে রত্না দাস নামের এক গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার বিকেলে উপজেলার ভলাকুট ইউনিয়নের খাগালিয়া গ্রামের একটি পুকুর থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। লাশটি ভারী একটি বস্তুর সঙ্গে দড়ি দিয়ে বাঁধা ছিল।

নিহত রত্না (৩০) উপজেলার খাগালিয়া গ্রামের কুড়েরহাটি গ্রামের সুশীল দাসের স্ত্রী। তিনি সরাইল উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের মধ্যপাড়ার মহল্লাল দাসের মেয়ে। তাঁর বছরের একটি সন্তান রয়েছে। তাঁর স্বামী সুশীল দাস জেলা শহরের একটি হোটেলে কাজ করেন।

স্বজনদের ভাষ্য, রত্না ঘরে একা ঘুমাতেন। দুর্বৃত্তরা ঘরে থাকা নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে গেছে। পরে ঘরে থাকা রশি দিয়ে সিমেন্টের স্লাবের মতো ভারী বস্তুর সঙ্গে তাঁকে বেঁধে পুকুরে ফেলে হত্যা করা হয়েছে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহিনুল ইসলাম। প্রথম আলোকে মুঠোফোনে তিনি বলেন, বাড়ি থেকে ৫০ ফুট দূরে একটি পুকুর থেকে ওই নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়। মরদেহের অর্ধেক ওপরে ভাসমান ছিল এবং বাকি অর্ধেক অংশ পানির নিচে ছিল। লাশের গলা শাড়ি দিয়ে প্যাঁচানো ছিল, দুই হাত ও পা রশি দিয়ে সিমেন্টের একটি স্লাবের মতো বস্তুর সঙ্গে বাঁধা ছিল। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। ঘটনার মূল রহস্য উদ্‌ঘাটনসহ জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে রত্নার স্বামীর মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও সংযোগ বন্ধ পাওয়া যায়। কথা হয় রত্নার মামা বিনোদ দাসের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘এই হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই। আমার ভাগনিকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমরা এর সুষ্ঠু তদন্ত চাই।’

স্থানীয় লোকজন ও নিহত নারীর পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ১৭ অক্টোবর রাতে হঠাৎ নিজ বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন রত্না। অনেক খোঁজাখুঁজি করে কোথাও তাঁর সন্ধান পাচ্ছিল না পরিবার। পরদিন তাঁর স্বামী সুশীল দাস নাসিরনগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

এর মধ্যে আজ বুধবার বিকেলে সুশীল দাসদের বাড়ির পাশেই একটি পুকুরে কিছু একটা ভাসতে দেখেন স্থানীয় লোকজন। পরে সেখানে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় একটি লাশ দেখতে পান তাঁরা। খবর পেয়ে স্বজনেরা এসে লাশটি রত্নার বলে শনাক্ত করেন। পরে নাসিরনগর থানা–পুলিশ লাশ উদ্ধার করে নিয়ে যায়।