বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার ট্রলারে পৌনে দুই লাখ ইয়াবা, মিয়ানমারের ৬ নাগরিক আটক

বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার ট্রলার থেকে জব্দ করা ইয়াবা বড়ি ও আটক মিয়ানমারের নাগরিকেরা
ছবি: প্রথম আলো

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার সেন্ট মার্টিন দ্বীপের কাছাকাছি বঙ্গোপসাগর থেকে ১ লাখ ৭০ হাজার ইয়াবা বড়িসহ একটি মাছ ধরার ট্রলার জব্দ করেছেন কোস্টগার্ড ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সদস্যরা। গতকাল সোমবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে সেন্ট মার্টিনের ছেঁড়াদিয়ার কাছাকাছি এলাকায় অভিযান চালিয়ে ট্রলারটি জব্দ করা হয়।

এ সময় মাদক চোরাচালানের অভিযোগে মিয়ানমারের ছয় নাগরিককে আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিরা হলেন কেফায়েত উল্লাহ (২২), মোহাম্মদ শরীফ (২৭), মোহাম্মদ হোসেন (৩৮), ছৈয়দুর রহমান (৪৩), মোহাম্মদ হোসেন (২৭) ও নূর হোসেন (২১)। তাঁরা ওই ট্রলারের মাঝিমাল্লা ও সবার বাড়ি মিয়ানমারের আকিয়াব জেলায় বলে জানিয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।

অধিদপ্তরের টেকনাফ বিশেষ অঞ্চলের মো. সিরাজুল মোস্তফা প্রথম আলোকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মিয়ানমার থেকে বঙ্গোপসাগরের সেন্ট মার্টিন এলাকা দিয়ে মাদকের একটি বড় চালান বাংলাদেশে পাচারের তথ্য পায় অধিদপ্তর। সেই তথ্যের ভিত্তিতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও কোস্টগার্ড যৌথ অভিযানে যায়।

সিরাজুল মোস্তফা বলেন, গতকাল রাত তিনটার দিকে সেন্ট মার্টিনের ছেঁড়াদিয়া থেকে আনুমানিক তিন নটিক্যাল মাইল দক্ষিণ-পূর্বে মিয়ানমার সীমান্তে একটি মাছ ধরার ট্রলার জলসীমা অতিক্রম করে বাংলাদেশের সীমানায় আসতে দেখেন তাঁরা। ট্রলারটিকে থামানোর সংকেত দিলে সেটি মিয়ানমারের দিকে পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় ট্রলার থেকে অভিযান চালানো দলে হামলা করা হয়। কোস্টগার্ডের সদস্যরা চার রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে ট্রলারটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেন। পরে ওই ট্রলারে তল্লাশি চালিয়ে বস্তাভর্তি ১ লাখ ৭০ হাজার ইয়াবা বড়ি পাওয়া যায়। এ ঘটনায় ট্রলারটি জব্দের পাশাপাশি মিয়ানমারের ছয় নাগরিককে আটক করা হয়। তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

সিরাজুল মোস্তফা আরও বলেন, বঙ্গোপসাগরে ট্রলার থেকে ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় আটক ছয়জনের বিরুদ্ধে সরকারি কাজে বাধা, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ও অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে টেকনাফ থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। আগামীকাল সকালে আটক ব্যক্তিদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে।