হামের সংকটের জন্য সরকার নিজেদের দায় এড়িয়ে যেতে পারে না: নাহিদ ইসলাম

চট্টগ্রামে এনসিপির যোগদান অনুষ্ঠানে দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহসহ অন্যরা। আজ বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবেছবি: প্রথম আলো

বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ‘দেশে হামের প্রকোপ ছড়িয়ে পড়েছে। শতাধিক শিশু মারা গেছে। এই সংকটের জন্য যারা প্রকৃতভাবে দায়ী, তাদের বিচার নিশ্চিত করতে হবে। কিন্তু শুধু পূর্ববর্তী সরকারের ওপর দায় চাপিয়ে দিয়ে বর্তমান সরকার নিজেদের দায় এড়িয়ে যেতে পারে না। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিন। তদন্ত করুন। আমরা চাই না একটি শিশুও হামের কারণে মারা যাক।’

আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের জুলাই-বিপ্লব স্মৃতি হলে এলডিপি ও বিভিন্ন সংগঠনের নেতা–কর্মীদের এনসিপিতে যোগদান অনুষ্ঠানে অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন নাহিদ ইসলাম। সাবেক সিটি মেয়র মনজুর আলমের যোগ দেওয়ার গুঞ্জন থাকলেও তিনি যোগ দেননি।

অনুষ্ঠানে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আজ বাংলাদেশে নতুন করে একটি সংকট তৈরি হয়েছে। আপনারা দেখেছেন, সংসদে বৃহত্তর চট্টগ্রামেরই একজন সন্তান অকপটে বলে ফেলেছেন, নির্বাচনের আগে তাঁরা সংস্কারের প্রশ্নে জনগণের কাছে যে কমিটমেন্ট দিয়েছিলেন, নির্বাচন শেষে তাঁদের আসল রূপ প্রকাশ পেয়েছে। তাঁরা কখনোই সংস্কারের প্রতি প্রকৃতভাবে কমিটেড ছিলেন না।’

নাহিদ বলেন, ‘বাংলাদেশের সংস্কার এবং জুলাই গণহত্যার বিচার বাস্তবায়ন করতে হলে সেটি এনসিপিকেই করতে হবে। সংস্কারের পক্ষে, বিচারের পক্ষে আমাদের সংসদের ভেতরে ও বাইরে আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। সেই আন্দোলনের জন্য তরুণ প্রজন্ম এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী সব পক্ষকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।’

পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গ আমাদের পার্শ্ববর্তী অঞ্চল হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা দেখেছি, নির্বাচনের আগে কয়েক লাখ ভোটারের নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়া হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে মুসলমানদের ওপর নির্যাতন, তাদের ভোটাধিকার হরণ; এসবের প্রভাব বাংলাদেশেও পড়বে। পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের পর বাংলাদেশের দায়িত্ব আরও বেড়ে গেছে। বাংলাদেশকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে।’

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন দলটির মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি বলেন, ‘বিএনপির অসংখ্য নেতা-কর্মী আজ আমাদের কাছে এসে দুঃখ প্রকাশ করেন। তাঁরা বলেন, ১৭ বছর ধরে তাঁরা নিজেদের অর্থ, শ্রম, সময় সবকিছু ব্যয় করেছেন। জেল খেটেছেন, নির্যাতন সহ্য করেছেন, মামলা–মোকদ্দমায় জর্জরিত হয়েছেন; কিন্তু আজ তাঁদের দুঃখ হয়। কারণ, বিএনপি হাইজ্যাক হয়ে গেছে আওয়ামী লীগের দ্বারা।’

এনসিপির চট্টগ্রাম মহানগরের যুগ্ম সমন্বয়কারী আরিফ মঈনুদ্দিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন এনসিপির ঢাকা দক্ষিণের আহ্বায়ক ইসহাক সরকার, চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ মোহাম্মদ সুজা উদ্দিন, কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব সাগুফতা বুশরা মিশমা, কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সংগঠক জুবাইর হাসান আরিফ, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য জুবাইরুল আলম মানিক, কেন্দ্রীয় সংগঠক রাসেল আহমেদ প্রমুখ।

এনসিপির দাবি, চট্টগ্রামে ৭০০ নেতা–কর্মী যোগ দিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন এলডিপির কেন্দ্রীয় ভাইস প্রেসিডেন্ট জাফর আহামদ চৌধুরী, জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম দল চট্টগ্রামের যুগ্ম আহ্বায়ক সুলতান মোহাম্মদ আবু তালেব, জাসাসের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো. খায়রুল বারী আইরিশ, চিকিৎসক মালেকা আফরোজ, চট্টগ্রাম ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটির শিক্ষক নাভিদ আহমদ চৌধুরী প্রমুখ।

চট্টগ্রামে এনসিপির অনুষ্ঠান ঘিরে প্রেসক্লাবের আশপাশে পুলিশের নিরাপত্তা ছিল। দুপুর থেকেই সেখানে এনসিপি, যুবশক্তি, ছাত্রশক্তি ও নারীশক্তির নেতা-কর্মীরা ভিড় করেন। অনুষ্ঠান শুরুর পর মিলনায়তনে মঞ্চের কোনায় নেতা-কর্মীদের হট্টগোল শুরু হয়। সেখানে সাংবাদিকদের সঙ্গে নেতা-কর্মীদের বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে কয়েকজন সাংবাদিক মিলনায়তনের দ্বিতীয় তলায় উঠে যেতে বাধ্য হন।