শ্রেণিকক্ষে তালা দিয়ে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, পরীক্ষা বর্জন

শিক্ষক অপসারণের প্রতিবাদে পরীক্ষা বর্জন করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা। আজ বেলা ১১টায় কলেজ ক্যাম্পাসেছবি : প্রথম আলো

৯ শিক্ষককে অপসারণের প্রতিবাদে পরীক্ষা বর্জন করে বিক্ষোভ করেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা। আজ বুধবার সকাল ১০টা থেকে এ কর্মসূচি শুরু হয়, চলে বেলা তিনটা পর্যন্ত। এতে শিক্ষার্থীরা নতুন যোগ দেওয়া ৯ শিক্ষকের নিয়োগ বাতিলের দাবি জানিয়েছে।

শিক্ষার্থীদের দাবি, আজ সকালে ১০টা থেকে তাদের উচ্চমাধ্যমিক প্রথম বর্ষের তথ্য ও বিজ্ঞানপ্রযুক্তি পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল। তবে তারা পরীক্ষায় অংশ নিতে গিয়ে দেখে, আগে থেকে পাঠদান করানো ৯ শিক্ষক অনুপস্থিত। নতুন করে ৯ শিক্ষক যোগ দিয়েছেন। এ কারণে আগের শিক্ষকদের ফিরিয়ে আনার দাবিতে তারা পরীক্ষা বর্জন করে। এ বিষয়ে জানতে অধ্যক্ষের কক্ষেও যায়। তবে সন্তোষজনক উত্তর না পাওয়ায় তারা অধ্যক্ষর কার্যালয় ও শ্রেণিকক্ষে তালা দেয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবরেটরি কলেজ সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে ৪৭ জন শিক্ষক কর্মরত। এর মধ্যে নতুন করে কলেজ শাখায় যোগ দিয়েছেন ৯ জন। তাঁদের চলতি ৫ ফেব্রুয়ারি নিয়োগ দেওয়া হয়। এ ছাড়া একই প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ মো. আবদুল কাইয়ুম ৯ ফেব্রুয়ারি নিয়োগ পান। তিনি সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামের ভাই। এসব নিয়োগ নিয়েই মূলত বিতর্ক উঠেছে। প্রতিষ্ঠানটির একাধিক শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর অভিযোগ, স্বজনপ্রীতি ও দলীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে এসব নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের এ তালা দেওয়া কর্মসূচির ফলে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ শ্রেণিকক্ষেই আটকা পড়েছে।

আন্দোলনে থাকা প্রতিষ্ঠানটির একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. নাঈম হাসান বলে, ‘প্রথম পরীক্ষার সময় যেসব স্যার ছিলেন, আজ এসে দেখি তাঁরা নেই। অধ্যক্ষও নতুন। এ কারণে আমরা পুরোনো শিক্ষকদের ফিরিয়ে আনার দাবিতে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করছি। প্রশাসন কোনো আশ্বাস না দেওয়া পর্যন্ত আমরা কর্মসূচি চালিয়ে যাব।’

একই কথা বলে শিক্ষার্থী উমাইরা হাসান। সে বলে, ‘আগের শিক্ষকদের সঙ্গে আমাদের পিতৃতুল্য সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল। নতুন শিক্ষকদের আচরণে আমরা সন্তুষ্ট নই। এ বিষয়ে অধ্যক্ষের কাছে অভিযোগ জানালেও আমরা সহযোগিতা পাইনি।’

জানতে চাইলে অধ্যক্ষ মো. আবদুল কাইয়ুম বলেন, ‘যাঁরা পুরোনো ছিলেন, তাঁদের কেন বাদ দেওয়া হয়েছে, এ বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারব না। আমরা নতুন যাঁরা নিয়োগ পেয়েছি, সবাই সমন্বয় করে একাডেমিক কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছি।’

জানতে চাইলে কর্মসূচিতে থাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর হোসেন শহীদ সরওয়ার্দী বলেন, ‘আমি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেছি। আমি তাদের দাবি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনকে জানাব।’

তবে যোগ্যতার ভিত্তিতেই সবাইকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে দাবি করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘তাঁর ভাইকে যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বাকিদেরও পরীক্ষা নিয়ে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আজ যে প্রতিবাদ কর্মসূচি হচ্ছে, সেটিতে শিক্ষকেরা ছাত্রদের ব্যবহার করছেন বলে তিনি মনে করেন। কয়েক দিনের জন্য শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হলেও পরবর্তী সময়ে এটি ঠিক হয়ে যাবে।’