জামালপুরে খেয়ালখুশির বরাদ্দ: অনিয়ম তদন্তে জেলা প্রশাসনের তিন সদস্যের কমিটি
জামালপুরের সাত উপজেলায় বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বরাদ্দের কাজে অনিয়ম ও খেয়ালখুশিমতো প্রকল্প নিয়ে প্রথম আলোতে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। ইতিমধ্যে অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন।
কমিটিতে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এ কে এম আবদুল্লাহ-বিন-রশিদকে আহ্বায়ক করা হয়েছে। অন্য দুজন হলেন স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) জামালপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী রোজদিদ আহম্মেদ ও গণপূর্ত অধিদপ্তরের জামালপুরের নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়ের একজন প্রতিনিধি। কমিটিকে ১০ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে জামালপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইউসুপ আলী প্রথম আলোকে বলেন, প্রকাশিত প্রতিবেদনটি নজরে এসেছে। অনেক জায়গা থেকেও প্রতিবেদন চেয়েছে। অনিয়মের বিষয়গুলো খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আজ বুধবার প্রথম আলোতে ‘জামালপুরে খেয়ালখুশির বরাদ্দ, আধা কাজে পুরো বিল’ শিরোনামে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এরপর বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। অনেকেই নিজেদের ব্যক্তিগত ফেসবুকে প্রতিবেদনটি শেয়ার করে মতামত প্রকাশ করেন।
হৃদয় আহমেদ নামের এক তরুণ প্রতিবেদনটি শেয়ার করে লেখেন, ‘জামালপুরের সাত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে বরাদ্দের নামে জামালপুরের মানুষের টাকা লুটেপুটে খেয়েছেন। এসব সবার সামনে তুলে ধরেছে প্রথম আলো। ওই সময়ের ইউএনওরা এখন কোথায় আছেন, তাঁদের খুঁজে বের করে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।’
জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি মজাহিদ বিল্লাহ ফারুকী প্রথম আলোকে বলেন, রাষ্ট্রীয় সম্পদ ব্যবহারের ক্ষেত্রে অনিয়ম হলে কর্তৃপক্ষের উচিত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া। এই তথ্যনির্ভর অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে যেসব অনিয়মের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, তা গুরুতর। অস্তিত্বহীন প্রকল্প মানেই অর্থ আত্মসাৎ। কাজ শেষ না করে সমুদয় অর্থ উত্তোলনও তা–ই। এসব তথ্য প্রতিবেদনে সুনির্দিষ্টভাবে দেখানো হয়েছে। কাজেই এগুলো চিহ্নিত করা খুব সহজ। আর্থিক দুর্নীতির বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা না নিলে সমাজে ভুল বার্তা যাবে। এটি কোনোভাবেই প্রত্যাশিত নয়।