বিরোধের জেরে পারিবারিক কবরস্থানে ঠাঁই হলো না বৃদ্ধের, অন্য স্থানে দাফন

মরদেহপ্রতীকী ছবি

পূর্ববিরোধের জেরে চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে পারিবারিক কবরস্থানে এক বৃদ্ধকে দাফন করতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। শেষ পর্যন্ত স্বজনেরা বাড়ির আঙিনায় তাঁকে দাফন করেছেন। গতকাল রোববার উপজেলার কুলশী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বেলা ১১টার দিকে মারা যান নুরুল ইসলাম মিয়াজী (৮৫)। স্বজনেরা পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।

অভিযোগ উঠেছে, নুরুলের ভাতিজা সৌদি আরবপ্রবাসী মো. আলমের পরিবারের সদস্যরা দাফনে বাধা দেন। এ কারণে বাদ আসর নির্ধারিত সময়ে জানাজা ও দাফন সম্ভব হয়নি।

দুই পক্ষকে নিয়ে সমঝোতার মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। পরে রাতে বাড়ির আঙিনায় কবর খোঁড়ার কাজ হয়ে যায়। বৃদ্ধকে সেখানেই দাফন করা হয়েছে।
মীর মাহবুবুর রহমান, শাহরাস্তি থানার ওসি

নুরুল ইসলামের ভাগনে খোকন পাটোয়ারী প্রথম আলোকে বলেন, ‘মামার কোনো ছেলে নেই, পাঁচটি মেয়ে। দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত পারিবারিক কবরস্থানটি এজমালি সম্পত্তি। আমাদের পূর্বপুরুষদের এখানে দাফন করা হয়েছে। মরদেহ দাফন নিয়ে বিবাদ তৈরি হওয়ায় আমরা বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ি। তাই বাড়াবাড়ি না করে শেষ পর্যন্ত বাড়ির আঙিনাতেই মামাকে সমাহিত করার সিদ্ধান্ত নিই।’

নুরুলের এক ভাতিজা মাহবুবুর আলমের ভাষ্য, প্রবাসী আলম জায়গাটি নিয়ে এ বছরের জানুয়ারি মাসে আদালতে বণ্টন মামলা করেছেন। মামলা চলছে। তবে আদালত এখন পর্যন্ত ওই জমির ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা বা রায় দেননি।

এ বিষয়ে জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে মো. আলম প্রথম আলোকে বলেন, ওই সম্পত্তি নিয়ে পাকিস্তান আমল থেকেই বিরোধ চলছিল। তাঁর অভিযোগ, নুরুল ইসলাম জীবিত অবস্থায় তাঁকে আক্রমণ করতে এসেছিলেন এবং তাঁর খেতের ধান নষ্ট করেছিলেন। এ কারণে তিনি বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিতে বিবেচনা করতে পারেননি।

পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েছিল বলে জানান শাহরাস্তি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান। তিনি বলেন, দুই পক্ষকে নিয়ে সমঝোতার মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। পরে রাতে বাড়ির আঙিনায় কবর খোঁড়ার কাজ হয়ে যায়। বৃদ্ধকে সেখানেই দাফন করা হয়েছে।