পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আজ সকালে শিপন তাঁর শাশুড়ি ফাতেমা বেগমকে কল করে নাদিরার অসুস্থতার কথা জানান। সকাল ১০টার দিকে ফাতেমা বেগম শিপনের বাড়িতে গিয়ে ঘরে খাটের ওপর মেয়ের লাশ উপুড় করে শোয়ানো অবস্থায় পান। তিনি থানায় গিয়ে ঘটনাটি পুলিশকে জানালে বেলা দুইটার দিকে পুলিশ এসে লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

গৃহবধূর স্বজনেরা জানান, প্রেমের সম্পর্ক করে দুই বছর আগে শিপন ও নাদিরা বিয়ে করেন। বিয়ের পর নাদিরা মায়ের সঙ্গেই থাকতেন। তাঁর সাত মাসের একটি শিশুসন্তান আছে। গত সাত মাস নাদিরা স্বামীর বাড়িতে থাকতেন। গৃহবধূর মায়ের অভিযোগ, স্বামীর বাড়িতে আসার পর প্রায়ই তাঁকে যৌতুকের জন্য মারধর করতেন শিপন। দুই মাস আগে একবার হাতে সিগারেটের ছেঁকা দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছিলেন। অত্যাচারের কারণে মেয়ে তাঁর বাড়িতে চলে আসে।

ফাতেমা বেগম কাঁদতে কাঁদতে প্রথম আলোকে বলেন, ‘গতকাইল রাইতে মাইয়া আমারে ভয়েস (মেসেজ) পাঠাইয়া ফোন ঘুরাইতে (করতে) বলে। আমি ফোন ঘুরাইলে (করলে) মাইয়ারে কথা কইতে দেওয়া হয় নাই। ওই সময় মাইয়া যে কী কইলো অইলে, জানি না। এরপরে এত কল দিলাম, আর ধরল না। মাইয়ার জামাই সকালে কল দিয়া কয়, সে নাকি অসুস্থ, তাড়াতাড়ি আইতাম। আইয়া দেহি, মাইয়া আমার বিছনার ওপরে উপোত হইয়া শুইয়া আছে। ক্যারে ট্যাহা দিই না, এর লাইগা আমার মাইয়ারে মাইরা লাইছে।’

ফাতেমা বেগম আরও বলেন, ১৫ বছর আগে স্বামীর সঙ্গে তাঁর ছাড়াছাড়ি হয়। এরপর পাটকলে চাকরি করে মেয়েকে বড় করেছেন। এত অল্প বয়সে মেয়েকে বিয়ে দিতে চাননি, কিন্তু প্রেমের সম্পর্ক হওয়ায় বিয়ে দিয়েছিলেন। তিনি আরও বলেন, যৌতুকের জন্য নাদিরাকে শিপন খুব অত্যাচার করতেন, টাকা চাইতেন, ফার্নিচার চাইতেন। এসব দিতে না পারায় মেয়েকে হত্যা করে আত্মহত্যার নাটক সাজিয়ে এখন সবাই পালিয়ে গেছেন।

ঘটনার পর শিপনসহ তাঁর পরিবারের সদস্যরা এলাকাছাড়া। এ ব্যাপারে শিপন মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।

শিবপুর থানার উপপরিদর্শক কামরুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে খাটের ওপর শোয়ানো অবস্থায় পুলিশ তাঁর লাশ উদ্ধার করে। নিহত গৃহবধূর স্বামীসহ বাড়িটির কোনো সদস্যকে পাওয়া যাচ্ছে না। সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর হত্যা নাকি আত্মহত্যা, সেটি নিশ্চিত হওয়া যাবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন