জাতীয় দলের ফুটবলার রহমত মিয়ার বিরুদ্ধে প্রথম স্ত্রী ও শাশুড়িকে মারধরের অভিযোগ

নারী নির্যাতনপ্রতীকী ছবি

বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের খেলোয়াড় রহমত মিয়ার বিরুদ্ধে তাঁর প্রথম স্ত্রী, শাশুড়িসহ কয়েকজনকে মারধর ও অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার জাঙ্গালিয়া গ্রামে রহমত মিয়ার নিজ বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। বর্তমানে তাঁর স্ত্রী সাদিয়া ইসলাম (১৯), শাশুড়ি আফরোজা বেগম মহম্মদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২০২২ সালে মহম্মদপুর উপজেলার জাঙ্গালিয়া গ্রামের রহমত মিয়ার সঙ্গে রাজশাহী সদর উপজেলার তকিপুর গ্রামের সাইফুল ইসলামের মেয়ে সাদিয়া ইসলামের বিয়ে হয়। সাদিয়ার মায়ের বাবার বাড়ি মহম্মদপুর উপজেলায়। এ সূত্র ধরে পারিবারিকভাবে তাঁদের বিয়ে হয়। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে এই দম্পতির একটি কন্যাসন্তান জন্ম নেয়। সাদিয়ার অভিযোগ, তিনি অন্তঃসত্ত্বা থাকা অবস্থায় রহমত মিয়া বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন এবং ২০২৫ সালে তাঁর অনুমতি ছাড়াই দ্বিতীয় বিয়ে করেন। এর পর থেকে সাদিয়াকে নানাভাবে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। প্রায় এক বছর ধরে তাঁরা আলাদা থাকছিলেন।

সাদিয়া জানান, গতকাল বিকেলে কন্যাসন্তানকে স্বর্ণালংকার উপহার দেওয়ার কথা বলে রহমত মিয়া কন্যাসহ তাঁকে মহম্মদপুর মধুমতী সেতুর ওপর ডাকেন। সেখানে কথা বলার একপর্যায়ে সাদিয়ার কোল থেকে সন্তানকে কেড়ে নিয়ে রহমত মিয়া নিজের বাড়িতে চলে যান। সন্তানকে ফিরে পেতে সাদিয়া তাঁর মা, মামি ও স্থানীয় ইউপি সদস্য ইরানি বেগমকে সঙ্গে নিয়ে রহমতের বাড়িতে যান।

সাদিয়া ইসলাম বলেন, ‘বাড়িতে ঢোকার পরপরই রহমত, তাঁর বাবা ও ভাই মিলে দুই পাশের মূল ফটক তালাবদ্ধ করে দেন। এরপর সে (রহমত মিয়া) লাঠি দিয়ে, বুট দিয়ে আমাকে মারধর করে, দেয়ালে মাথা ঠুকে দিয়ে শ্বাস রোধ করার চেষ্টা করে। এমনকি আমার সঙ্গে থাকা আমার মা, মামিকেও মারধর করে।’

ঘটনার সময় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় ইউপি সদস্য ইরানি বেগম। তিনি বলেন, ‘ওরা দুই গেটে তালা মেরে দেয়, যাতে কোনো লোকজন বাসার ভেতর ঢুকতে না পারে। রহমত আমার গলা চিপে ধরে ধাক্কাতে ধাক্কাতে নিয়ে গেছে। একপর্যায়ে আমি গোপনে আমার স্বামীকে ফোন দিলে তিনি পুলিশ নিয়ে আসেন।’

মারধরের শিকার আফরোজা বেগম বলেন, তাঁদেরকে ঘরে আটকে খুন করার হুমকি দিচ্ছিলেন রহমত ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা। পরে পুলিশ ও স্থানীয় সাংবাদিকেরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁদের উদ্ধার করেন।

এ ঘটনার পর গতকাল রাতে সাদিয়া ইসলাম ও তাঁর মাকে মহম্মদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। জানতে চাইলে মহম্মদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা চিকিৎসক আবু আহসান আজ শনিবার দুপুরে প্রথম আলোকে বলেন, গতকাল রাতে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়ে দুজন হাসপাতালে ভর্তি হন। এর মধ্যে সাদিয়া ইসলামের আঘাত ও শারীরিক অবস্থা বেশ জটিল ছিল। তিনি তীব্র আতঙ্কগ্রস্ত থাকায় শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। মেডিকেল বোর্ডের মাধ্যমে তাঁর ইনজুরি মূল্যায়নের চেষ্টা চলছে। তবে বর্তমানে তিনি আশঙ্কামুক্ত। অন্যজনের আঘাত সাধারণ প্রকৃতির।

মহম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মাদ আশরাফুজ্জামান জানান, স্থানীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদকের মাধ্যমে বিষয়টি জানার পরপরই তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে অবরুদ্ধ ব্যক্তিদের উদ্ধার করা হয়। ঘটনাটি মূলত প্রথম পক্ষের স্ত্রী এবং সন্তানকে কেন্দ্র করে পারিবারিক সহিংসতা। এ বিষয়ে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি। অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে জানতে জাতীয় ফুটবল দলের ডিফেন্ডার রহমত মিয়ার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে স্ত্রী ও শাশুড়িকে মারধরের অভিযোগ এড়িয়ে যান। আজ দুপুরে তিনি বলেন, ‘এটা নিয়ে আপনারা সামনে আসেন, তখন কথা বলব।’ কখন ও কোথায় আসতে হবে জানতে চাইলে ‘আগে তাঁদের (স্ত্রীর) পরিবারের সঙ্গে কথা বলি, পরে আপনাদের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলব’ বলে সংযোগ কেটে দেন এই ফুটবলার।