সমাবর্তনে উৎসবমুখর সিলেটের লিডিং ইউনিভার্সিটি
গাউন পরা শিক্ষার্থীদের অনেকে আকাশে টুপি ছুড়ে মারছেন। কেউ বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলছেন, কেউ দল বেঁধে আড্ডায় মশগুল। আনন্দ-উচ্ছ্বাস আর গল্পগুজবে যেন মুখর পুরো ক্যাম্পাস। শনিবার সকালে সিলেটের প্রথম বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় লিডিং ইউনিভার্সিটিতে দেখা যায় উৎসবমুখর এ দৃশ্য। উপলক্ষ ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ সমাবর্তন।
এবারের সমাবর্তনে ৬ হাজার ১৯৩ জন গ্র্যাজুয়েটকে ডিগ্রি প্রদান করা হয়। তবে সমাবর্তনে অংশ নিতে নিবন্ধন করেন ১ হাজার ৭৫ জন। তাঁদের মধ্যে কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফলের জন্য ১৫ জনকে চ্যান্সেলর গোল্ড মেডেল, ভাইস চ্যান্সেলর গোল্ড মেডেল, ফাউন্ডার গোল্ড মেডেল এবং কো-ফাউন্ডার গোল্ড মেডেল দেওয়া হয়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সমাবর্তন অনুষ্ঠানে গ্র্যাজুয়েটদের অনেকে পরিবারের সদস্যদের নিয়েও হাজির হয়েছিলেন। বন্ধুদের পাশাপাশি পরিবারের স্বজনদের সঙ্গেও ছবি তুলে স্মৃতি করে রাখতে ভোলেননি তাঁরা। পুরো ক্যাম্পাস ছিল উৎসবমুখর।
সমাবর্তনে সভাপতির বক্তব্য দেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন, পানিসম্পদ এবং তথ্য উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। মূল বক্তার বক্তব্য দেন বিশিষ্ট জিনবিজ্ঞানী আবেদ চৌধুরী। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন।
লিডিং ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান সৈয়দ রাগীব আলী সমাবর্তনে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন। স্বাগত বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মোহাম্মদ তাজ উদ্দিন। এ ছাড়া চ্যান্সেলর গোল্ড মেডেলপ্রাপ্ত বিবিএ প্রোগ্রামের শিক্ষার্থী এ এস এম সুফিয়ান পাবেল অনুভূতি প্রকাশ করে বক্তব্য দেন।
সভাপতির বক্তব্যে সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, ‘আমাদের ছোটবেলা থেকে বড় করা হয়েছে ঢাকা শহরে একটি প্লট, ফ্ল্যাট থাকতে হবে, গাড়ি থাকতে হবে, ভালো একটা করপোরেট চাকরি থাকতে হবে। অথবা বিসিএস দিয়ে সরকারি চাকরি পেতে হবে। আসলে সমাজের প্রতি দায়িত্ব পালন করতে হলে এগুলো করতে হবে, এমন কোনো কথা নেই। এই মানদণ্ড সমাজ সৃষ্টি করে গেছে।’
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে সৈয়দা রিজওয়ানা আরও বলেন, ‘সমাজে কেউ যেন কাউকে বিশ্বাস করতে না পারে, তার একটি প্রতিযোগিতা চলছে। এটা ভেঙে দেওয়া দরকার। আপনারা যদি আমাকে বিশ্বাস করেন, আমি যদি আপনাদের কাউকে বিশ্বাস করি, তাহলে অশুভ শক্তি সহজে প্রবেশ করতে পারে না। অশুভ শক্তি অনুপ্রবেশ করাতে সবাইকে বিতর্কিত করা হয়। দেশকে ভালোবেসে কোনো মানুষ কাজ করবে, এ বিশ্বাসটা যেন সমাজে না থাকে, এ জন্যই সবার মনে সন্দেহ ঢুকিয়ে দেওয়া হয়।’
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সমাবর্তনে ২০১৮ সাল থেকে ‘ফল ২০২৪’ সেমিস্টার পর্যন্ত চারটি অনুষদের অধীনে (ব্যবসায় প্রশাসন, কলা ও আধুনিক ভাষা, সামাজিক বিজ্ঞান এবং আধুনিক বিজ্ঞান) ১০টি বিভাগের স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন ৬ হাজার ১৯৩ জন। সমাবর্তনে তাঁদের ডিগ্রি দেওয়া হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রের তথ্যানুযায়ী, ২০০১ সালে প্রতিষ্ঠিত এ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তনে ১৫৬ জন, দ্বিতীয় সমাবর্তনে ১ হাজার ২১০ জন এবং তৃতীয় সমাবর্তনে ৪ হাজার ৭৩৪ জন গ্র্যাজুয়েটস ছিলেন।
এবারের সমাবর্তনে এ এস এম সুফিয়ান পাবেল চ্যান্সেলর গোল্ড মেডেল এবং আফসানা ফেরদৌসী, করিমা বিনতে কালাম, আশরাফুন নাহার মেমোরি ও রফিকুর রহমান ভাইস চ্যান্সেলর গোল্ড মেডেল পেয়েছেন। এ ছাড়া দিপু চক্রবর্তী পার্থ, মো. খালেদুর রহমান (মানিক), আতিকা ফারিহা ও অষ্টমী দেব ফাউন্ডার গোল্ড মেডেল এবং শাহ নুসরাত জাহান (সাদিয়া), তাসফিয়া সিদ্দিকা, মলয় চন্দ্র দে, ফারিয়া জাহান, আসিফ ইবনে আজির ও আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের কো-ফাউন্ডার গোল্ড মেডেল পেয়েছেন।
চতুর্থ সমাবর্তনের মূল আয়োজন শেষে সন্ধ্যা ছয়টায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শুরু হয়। এ পর্বে শিক্ষার্থীরা নেচেগেয়ে উচ্ছ্বাস করছেন। রাত ১০টা পর্যন্ত এ আয়োজন চলবে বলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।