ফরিদপুরে শ্রমিকবাহী পিকআপে ট্রেনের ধাক্কা, দুই ভাইসহ নিহত ৩

দুর্ঘটনার পর পিকআপ ভ্যানটি ছিটকে খাদে পড়ে যায়। আজ বেলা সাড়ে তিনটার দিকে ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার সোতাশি এলাকায়ছবি: প্রথম আলো

ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার একটি অরক্ষিত রেলক্রসিংয়ে যাত্রীবাহী ট্রেনের ধাক্কায় জুট মিলের শ্রমিকবাহী একটি পিকআপের তিন শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ১০ জন।

আজ সোমবার বেলা তিনটার দিকে বোয়ালমারী পৌর সদরের সোতাশি এলাকায় কালুখালী-ভাটিয়াপাড়া রেললাইনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

জনতা জুটমিলের শ্রমিক ময়না ইউনিয়নের বিলকড়ইল গ্রামের ছায়ফার মোল্লার দুই ছেলে মো. জব্বার মোল্লা (২২) ও মো. মুছা মোল্লা (২০) এবং একই গ্রামের আবুল কালামের স্ত্রী জাহানারা বেগম (৪৫)।

দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত পাঁচজনকে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্যদের বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

রেলওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় একাধিক বাসিন্দার সূত্রে জানা যায়, জনতা জুট মিলে কাজ শেষে ১৫ শ্রমিক ওই পিকআপে করে বোয়ালমারী পৌর সদরের দিকে যাচ্ছিলেন। পথে সোতাশি এলাকায় পৌঁছালে ওই রেলক্রসিংয়ের ওপর শ্রমিকবাহী পিকআপটির সঙ্গে কালুখালী থেকে ভাটিয়াপাড়াগামী যাত্রীবাহী লোকাল ট্রেনের সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের একজন স্থানীয় বাসিন্দা বিলায়েত হোসেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের বাড়ির সামনেই ঘটে এ দুর্ঘটনা। বাজার থেকে বাড়িতে এসে দুপুরে খাবারের জন্য মাত্র বসেছি, তখন হঠাৎ বিকট শব্দ শুনে দৌড়ে যাই। দেখি, ট্রেনের সঙ্গে জুট মিলের শ্রমিকদের গাড়ির সংঘর্ষ হয়ে তিনজন মারা গেছেন। আরও কয়েকজন আহত নারী-পুরুষকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।’

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম রকিবুল হাসান ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনোয়ার হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

এ বিষয়ে রাজবাড়ী রেলওয়ে থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রেলওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।