ক্রিকেটার নাঈমকে হেনস্তার তদন্তে আরও চার দিন সময় পেয়েছে পুলিশ

পুলিশি হেনস্তার পর ঘটনার বর্ণনা দেন ক্রিকেটার নাঈম হাসানছবি: প্রথম আলো

জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে পুলিশি হেনস্তার তদন্তে আরও চার কার্যদিবস সময় পেয়েছে পুলিশ। গতকাল বৃহস্পতিবার নগর পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী এই সময়সীমা বর্ধিত করেন।

জানতে চাইলে তদন্ত কমিটির প্রধান ও নগর পুলিশের উপকমিশনার (পশ্চিম) মো. আলমগীর হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে। ইতিমধ্যে ২৯ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। জড়িত ব্যক্তিদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।’

আলমগীর হোসেন আরও বলেন, যে খুদে বার্তায় ক্রিকেটার নাঈমকে তল্লাশি করেছিল পুলিশ, সেটি যে বা যে সংস্থা থেকে এসেছে, তা–ও তদন্ত করা হচ্ছে। এ জন্য চার কার্যদিবস বাড়তি সময় চাওয়া হয়েছে। পুলিশ কমিশনার তা মঞ্জুর করেছেন।

নাঈম হাসানের বড় ভাই কামরুল আলম প্রথম আলোকে বলেন, ‘নাঈম ধকল কাটিয়ে উঠছেন। তিনি এখন সিলেটে খেলছেন। সেখানে আছেন। আমরা চাই, এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হোক। খুদে বার্তাটি যে বা যাঁরা দিয়েছেন, তাঁদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে। তাঁরা কী উদ্দেশ্যে এ ঘটনা ঘটিয়েছেন, তা–ও বের করা দরকার।’

১২ জুন রাতে ফ্লাইটে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে নামার পর অটোরিকশায় বাসার উদ্দেশে রওনা হন ক্রিকেটার নাঈম। এক্সপ্রেসওয়ে থেকে নামার সময় লালখান বাজার এলাকায় পুলিশ অটোরিকশাটি থামায়। এরপর চালকের কাছ থেকে গাড়ির কাগজপত্র নিয়ে নেয়। পরে গাড়ি থেকে নামিয়ে খুলশী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শফিকুল ইসলাম ও পুলিশের সোর্স সোহেল তাঁকে লাঠি ও পাইপ দিয়ে মারধর করেন বলে অভিযোগ নাঈমের।

আরও পড়ুন

একপর্যায়ে তাঁকে একটি অটোরিকশায় থানায় নেওয়া হয়। সেখানেও তাঁকে হেনস্তা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে বিসিবি কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে থানা থেকে ছাড়া পান নাঈম। এ ঘটনায় দুই পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। তাঁরা হলেন এসআই শফিকুল ইসলাম ও কনস্টেবল মো. রাসেল চৌধুরী। পুলিশের তথ্যদাতা সোহেলকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ছাড়া পরদিন রাতে খুলশী থানার ওসি আরিফুর রহমানকেও প্রত্যাহার করা হয়।

ঘটনার পর পুলিশ কমিশনারের নির্দেশে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠিত হয়। কমিটির প্রধান নগর পুলিশের উপকমিশনার (পশ্চিম) আলমগীর হোসেন। কমিটিকে পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়। গতকাল পাঁচ কার্যদিবস শেষ হওয়ায় আরও চার দিন সময়সীমা বাড়ানো হয়।

আরও পড়ুন