কালিয়াকৈর উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে কালিয়াকৈর-ফুলবাড়িয়া সড়কের পাশে বড়কাঞ্চানপুর টেকিবাড়ি বাজার। ওই বাজার থেকে পূর্ব দিকে কয়েকটি বাড়ি পাড় হলেই মুদিদোকানদার ফজলুর রহমানের বাড়ি। বাড়ির একটি ঘরের বারান্দায় খুঁটির সঙ্গে জিহাদের বাম হাত শিকলে বাঁধা। ওই অবস্থায় ছেলেকে খাবার খাইয়ে দিচ্ছিলেন মা জিয়াসমিন বেগম। মানুষ দেখলেই জিহাদ শিকল ধরে টানাটানি করে ছুটে যেতে চায়।

জিহাদের পরিবার ও স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জিহাদ কথা বলতে পারে না। আরেকটু বড় হলে বোঝা যায়, সে মানসিক ভারসাম্যহীন। নিজের বাড়ি ও আশপাশের বাড়িতে এটা–সেটা ভাঙচুর করত তখন। হঠাৎ হঠাৎ কোথায় চলে যায়, খুঁজে পেতে কষ্ট হয়। তখন তাকে শিকলে বাঁধা হয়।

জিহাদের মা জিয়াসমিন বেগম বলেন, ‘ছেলেটা আমারে মা আর বাবারে বাবা বলে ডাকতে পারে। আর কিছুই বলতে পারে না। হারায় যাইত খালি। একেবারে যদি হারিয়ে যায়, তখন কী হবে? ছেলে যেমনই থাকুক, ওকে হারাতে চাই না। তাই একটা শিকল দিয়ে ঘরের বারান্দার খুঁটির সঙ্গে ওরে আটকায় রাখি। কোথাও যাতে চলে যেতে না পারে।’

বাবা ফজলুর রহমান বলেন, ‘রাতের বেলায় জিহাদ আমাদের সঙ্গেই ঘুমায়। তখন শিকল দিয়ে বাঁধা থাকে না। মাঝেমধ্যে মধ্যরাতে ঘুম থেকে উঠে ঘরে ভাঙচুর করে। ডাক্তার দেখিয়েছি। তাঁরা বলেছেন, দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা করালে জিহাদ ভালো হতে পারে। এর জন্য অনেক টাকা প্রয়োজন। সেই টাকা আমাদের নেই।’

কালিয়াকৈর উপজেলার চাপাইর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান সাইফুজ্জামান সেতু বলেন, ‘জিহাদের পরিবারটি খুবই অসহায়। মাঝেমধ্যে আমি তাদের পরিবারের খোঁজখবর নিয়ে থাকি। তারা আরও ভালো কীভাবে চলতে পারে, সে বিষয় দেখব।’