সিলেট ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে ইউএনও কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দিল যুবদল–ছাত্রদল

সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ের প্রধান ফটক তালাবদ্ধ করে বিক্ষোভ করেছে উপজেলা যুবদল ও ছাত্রদলের একাংশ। আজ সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকেছবি : প্রথম আলো

সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ের প্রধান ফটক তালাবদ্ধ করে বিক্ষোভ করেছে উপজেলা যুবদল ও ছাত্রদলের একাংশ। ফ্যামিলি কার্ড শুমারির জন্য সুপারভাইজার ও তথ্য সংগ্রহকারী স্বেচ্ছাসেবী নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগে আজ সোমবার এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

একই অভিযোগ তুলে আজ দুপুরে চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে ইউএনওর কার্যালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন ছাত্রদল ও যুবদলের নেতা–কর্মীরা। এ ছাড়া রাজশাহীর বাগমারা উপজেলায় মানববন্ধন কর্মসূচি পালন

দক্ষিণ সুরমায় বেলা ১১টার দিকে উপজেলা যুবদল ও ছাত্রদলের ব্যানারে একদল নেতা-কর্মী বিক্ষোভ শুরু করেন। বেলা দেড়টা পর্যন্ত তাঁরা ইউএন অফিসের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে কর্মসূচি পালন করেন। এ সময় তাঁরা ফ্যামিলি কার্ড শুমারির জন্য লোকবল নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ আনেন। তাঁদের দাবি, দ্রুত প্রশ্নবিদ্ধ নিয়োগপ্রক্রিয়ায় নিয়োজিতদের বাদ দিয়ে প্রকৃতদের শুমারিকাজে নিয়োগ দিতে হবে।

গত শনিবার রাতে উপজেলা প্রশাসনের ওয়েবসাইটে শুমারিকালীন তথ্যসংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার পদে স্বেচ্ছাসেবী নিয়োগের তালিকা প্রকাশ করা হয়। এ তালিকায় স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, বিজ্ঞপ্তি আহ্বানের মাধ্যমে পাওয়া বৈধ আবেদনকারীদের ব্যবহারিক ও মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হয়। এরপর চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত, রিজার্ভ ও অপেক্ষমাণ প্রার্থীদের ফলাফল প্রকাশ করা হয়।

ফলাফল অনুযায়ী উপজেলার আটটি ইউনিয়নে চূড়ান্তভাবে ৬৯ জন তথ্যসংগ্রহকারী এবং ৬ জন সুপারভাইজার নিয়োগ দেওয়া হয়। এর বাইরে তথ্যসংগ্রহকারী পদে ৬ জনকে রিজার্ভ ও ৪১ জনকে অপেক্ষমাণ রাখা হয়। এ ছাড়া সুপারভাইজার পদে একজনকে রিজার্ভ ও চারজনকে অপেক্ষমাণ রাখা হয়েছে।

তবে যুবদল ও ছাত্রদলের কিছু নেতা কোনো ব্যক্তির নাম উল্লেখ না করে অভিযোগ করেন, স্থানীয় প্রভাবশালী একজন রাজনীতিবিদের দেওয়া তালিকা অনুযায়ী দক্ষিণ সুরমা উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড শুমারিতে সুপারভাইজার ও তথ্য সংগ্রহকারী পদে মনোনীতদের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। এতে অনেক যোগ্য ব্যক্তি বাদ পড়েছেন।

আজ বিকেল সাড়ে চারটার দিকে যোগাযোগ করলে দক্ষিণ সুরমার ইউএনও এমদাদুল হক শরীফ প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি তখন অফিসে ছিলাম না। তখন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এক মিটিংয়ে যোগ দিতে আসি, এখনো এখানে আছি। শুনেছি, কিছু ব্যক্তি তখন গিয়ে ফ্যামিলি কার্ড শুমারির জন্য নিয়োগ করা লোকবল নিয়ে বিক্ষোভ করেছেন। কিন্তু কী অনিয়ম হয়েছে, এর কোনো তথ্য তাঁরা দেননি।’

কোনো রাজনীতিবিদের তালিকার ভিত্তিতে লোকবল নিয়োগ দেওয়া হয়েছে কি না, এ অভিযোগের জবাবে ইউএনও বলেন, ‘এমন তথ্য সঠিক নয়। যাঁরা আবেদন করেছেন, তাঁদের মধ্য থেকে স্বচ্ছতার ভিত্তিতেই যথাযথ প্রক্রিয়া মেনে লোকবল নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।’

এদিকে ফ্যামিলি কার্ড শুমারির জন্য লোকবল নিয়োগে মনোনীতদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর গত শনিবার রাতে জৈন্তাপুরে এবং গতকাল রোববার কোম্পানীগঞ্জ ও বালাগঞ্জ উপজেলায়ও বিক্ষোভ করেছেন একদল ব্যক্তি। তাঁদের অভিযোগ, নিয়োগে অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে। অযোগ্যদের তালিকায় ঠাঁই দেওয়া হয়েছে।

নাচোলে ইউএনও কার্যালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ ছাত্রদল ও যুবদলের নেতা–কর্মীরা
ছবি : সংগৃহীত

নাচোলে আজ দুপুরে ফ্যামেলি কার্ড শুমারির জন্য তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ইউএনও কার্যালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরে তালা ঝুলিয়ে দেন ছাত্রদল ও যুবদলের নেতা–কর্মীরা।

তাঁরা এই নিয়োগের ফলাফল বাতিলের দাবিতে উপজেলা চত্বরে বিক্ষোভ মিছিল ও পথসভা করেন। পথসভায় নাচোল উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের, বিএনপি নেতা ও নাচোল ইউপির চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম, পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক দুরুল হোদা, যুবদল নেতা মো. আজিম, ছাত্রদল নেতা আসগার হাসান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

আবু তাহের প্রথম আলোক বলেন, অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে এ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আটজন সুপারভাইজার ও তথ্য সংগ্রহকারী মিলিয়ে মোট ৭০ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাঁদের বেশিরভাগ আওয়ামী লীগ ও জামায়াতের লোকজন। বিএনপির সামান্য কয়েকজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

আবু তাহের প্রথম আলোকে বলেন, ছাত্রদল ও যুবদলের কর্মীরা তালা দিয়েছেন। এতে বিএনপির কোনো নেতা–কর্মী অংশ নেননি। ইউএনও, সমাজসেবা, আইসিটি, বিআরডিবি অফিসসহ নিয়োগ প্রক্রিয়ায় যেসব অফিস জড়িত, সেসব অফিসে তালা মারা হয়েছে।

এ ব্যাপারে ইউএনও প্রিয়াঙ্কা দাস গণমাধ্যমকে বলেন, ‘প্রাতিষ্ঠানিক কাজে বাইরে থাকায় ঠিক কী ঘটেছে জানি না। তবে আমার অফিসে তালা মেরেছে বলে শুনেছি। গতকাল ফ্যামিলি কার্ড প্রদানে তথ্য জরিপের জন্য নিয়োগ ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। এখানে কোনো অনিয়ম–দুর্নীতি হয়নি। সরকারি কাজে এভাবে বাধা দেওয়া আইনসম্মত নয়।

বাগমারায় মানবন্ধন

রাজশাহীর বাগমারায় ফ্যামিলি কার্ড শুমারির স্বেচ্ছাসেবী তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার পদের নিয়োগে অনিয়ম, দুর্নীতি ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। ‘বাগমারা উপজেলা, ভবানীগঞ্জ ও তাহেরপুর পৌরসভার অধিকার বঞ্চিত পরীক্ষার্থী ও সাধারণ জনগণ’ এর ব্যানারে আজ দুপুরে উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্সের সামনে এই কর্মসূচি পালিত হয়।

রাজশাহীর বাগমারা ইউএনও কার্যালয়ের নিচে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। আজ সোমবার দুপুরে
ছবি : প্রথম আলো

আজ দুপুরে ইউএনও কার্যালয়ের নিচে অবস্থান নিয়ে মানববন্ধন করা হয়। এ সময় ইউএনও দোতলায় দাপ্তরিক কাজ করছিলেন। সাড়ে ১২টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত মানববন্ধন চলে। মানববন্ধনে ৭০-৮০ জন অংশ নেন। এতে স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাদের দেখা যায়। এদের মধ্যে বিএনপির উপজেলা শাখার সাবেক সদস্যসচিব শামসুজ্জোহা বাদশা, গোয়ালকান্দির সাধারণ সম্পাদক আকরাম হোসেন, তাঁতীদলের উপজেলা শাখার আহ্বায়ক মামুনুর রশিদ মামুনকে দেখা যায়। এ সময় ইউএনওর বিরুদ্ধে বিভিন্ন শ্লোগান দেওয়া হয়।

সভায় বক্তারা বলেন, বর্তমান বিএনপি সরকারের অন্যতম পাইলট প্রজেক্টের একটি হলো ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্প। বাগমারা উপজেলার বর্তমান ইউএনও এবং সমাজসেবা অফিসার এই প্রকল্পকে কলঙ্কিত ও প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের লোকজনদেরকে তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার পদে নিয়োগ দিচ্ছেন।

এই বিষয়ে কমিটির সভাপতি বাগমারার ইউএনও সেলিম আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন,  ‘একেবারে স্বচ্ছ ও মেধার ভিত্তিতে চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত কমিটি নিরপেক্ষভাবে কাজ করেছে।। কারো কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে অবশ্যই আমলে নেওয়া হবে।'

(প্রতিবেদন তৈরিতে তথ্য দিয়েছেন, নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ; প্রতিনিধি, বাগমারা, রাজশাহী)