পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এক যুগ আগে পৌর শহরের ঘোড়াকান্দা এলাকার ঝুমুরকে বিয়ে করেন রুবেল। তাঁদের সংসারে একটি মেয়ে ও একটি ছেলে আছে। বছরখানেক আগে রুবেল লিবিয়ায় যান। বিদেশে থাকতে স্থানীয় জাভেদের সঙ্গে ঝুমুরের বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের কথা জানতে পারেন রুবেল। ছয় মাস আগে দেশে ফেরার পর ওই বিষয় নিয়ে ঝুমুর ও রুবেলের মধ্যে দাম্পত্য বিরোধ বাড়ে। ওই ঘটনার সূত্র ধরে ঝুমুরের চুল কেটে দেন রুবেল। প্রতিকার পেতে আইনের আশ্রয় নেন ঝুমুর।

এলাকাবাসী জানান, ঝুমুরের দায়ের করা নারী নির্যাতনের মামলায় রুবেল গ্রেপ্তান হন। কারাগারে থাকা রুবেলকে চার মাস আগে তালাক দিয়ে জাভেদকে বিয়ে করেন ঝুমুর। কিন্তু জাভেদকে বিয়ে করার বিষয়টি মেনে নিতে পারেননি রুবেল। জামিনে মুক্ত হয়ে তিনি ঝুমুরের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন এবং প্রায়ই মুঠোফোনে কথা বলতেন। সাবেক স্বামীর সঙ্গে কথা বলার বিষয়টি ভালোভাবে নিচ্ছিলেন না জাভেদ। এ নিয়ে রুবেল ও জাভেদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। গতকাল রাত সাড়ে ১১টার দিকে জাভেদের বাড়িতে যান রুবেল এবং জাভেদকে মারধর করেন। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে হাতাহাতির একপর্যায়ে রুবেলকে ছুরিকাঘাত করেন জাভেদ। গুরুতর আহত অবস্থায় রুবেলকে ঢাকায় নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ ভোরে মৃত্যু হয়।

পুলিশি হেফাজতে জাভেদ বলেন, ‘আমাকে মারধর করার আগে আমার বাবাকে মারধর করেন রুবেল। আমি ফেরানোর চেষ্টা করেছি। তখন ছুরি দিয়ে আমাকে আঘাত করতে চেয়েছিল। আমি রুবেলের কাছ থেকে ছুরি কেড়ে নিয়েছিলাম। তখন রুবেলের শরীরে আঘাত লেগে যায়।’

এ ঘটনায় ভৈরব থানায় তিনজনকে আসামি করে হত্যা মামলা হয়েছে। মামলার বাদী রুবেলের বাবা মুসলিম মিয়া। আসামি করা হয়েছে জাভেদ, ঝুমুর বেগম ও সৌরভ মিয়া নামের জাভেদের এক স্বজনকে। মুসলিম মিয়া বলেন, ‘আমার ছেলের বউকে বিপদে ফেলেছেন জাভেদ। জাভেদের কারণে আমার সব শেষ।’

ভৈরব থানার পরিদর্শক (অপারেশন) কাইসার আহমেদ বলেন, এক নারীকে নিয়ে সাবেক ও বর্তমান স্বামীর মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়। মূলত ওই বিরোধের জের ধরে হত্যাকাণ্ডটি ঘটে। রাতেই জাভেদকে আটক করা হয়। আজ হত্যা মামলার আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।