গাজীপুর মহানগর ট্রাফিক পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চান্দনা চৌরাস্তা হয়ে যানবাহন টঙ্গী, আবদুল্লাহপুর, ঢাকায় প্রবেশ করে থাকে। রাজধানীর সঙ্গে গাজীপুরসহ বৃহত্তর ময়মনসিংহ এবং উত্তরবঙ্গের ৩০ জেলার মানুষের যোগাযোগের ক্ষেত্রে চান্দনা চৌরাস্তা থেকে টঙ্গীর ১২ কিলোমিটার সড়কের গুরুত্ব অনেক। এ সড়ক দিয়ে দেশের অর্ধশত রুটে যানবাহন চলাচল করে। নির্বিঘ্নে চলাচলের জন্য দীর্ঘদিন আগে গাজীপুরের শিববাড়ী থেকে ঢাকার এয়ারপোর্ট পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার সড়ক বাস র‍্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্পের আওতায় আনা হয়েছে। শুরুতে কাজের ধীরগতি থাকলেও এখন কাজের গতি অনেকটাই বেগবান।

সড়কের এ অংশে চলমান নির্মাণকাজ, অবৈধ অটোরিকশার অবাধ চলাচল এবং অননুমোদিত যানবাহনের কারণে যানজট ছিল নিত্যসঙ্গী। এ ছাড়া গাজীপুর মহানগরীর বিভিন্ন সড়কে তিন চাকার এসব যান চলাচলে দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তিতে ছিলেন নগরবাসী। সম্প্রতি গাজীপুরের বিভিন্ন সড়কে ও মহাসড়কে রুট পারমিটবিহীন যানবাহন চলাচল ও ড্রাইভিং লাইসেন্সবিহীন চালকের কারণে বিভিন্ন স্থানে দুর্ঘটনা ও যানজট বাড়ছে।

গাজীপুর মহানগর পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, যানজট নিরসন এবং সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে মহাসড়ক অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে ১৪ জুলাই থেকে অভিযান শুরু হয়েছে। অভিযান চালিয়ে গত সাত দিনে ১ হাজার ১১৮টি অবৈধ অটোরিকশা জব্দ করা হয়। সড়ক পরিবহন আইন অমান্য করায় ২২৪টি যানবাহনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকায় মোটরসাইকেল, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, লেগুনা, প্রাইভেট কার, বাস, ট্রাকসহ ৩২টি পরিবহন ডাম্পিং করা হয়েছে।

গাজীপুর বিআরটিএর সহকারী পরিচালক আবু নাঈম বলেন, গাজীপুর জেলা প্রশাসন ও বিআরটিএ যৌথভাবে মহানগরীর শিববাড়ী-রাজবাড়ী-আমতলী সড়কে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অবৈধ যানবাহন নিয়ন্ত্রণের জন্য ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেছে।

সরেজমিনে আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, মহাসড়কের গাজীপুরের কোনো এলাকাতেই অটোরিকশা নেই। অভিযানের ভয়ে তাকওয়া পরিবহনের মিনিবাসের সংখ্যাও কমে গেছে। তাকওয়া পরিবহনের যে বাসের ফিটনেস নেই, চালকের লাইসেন্স নেই, তাঁরা গাড়ি নিয়ে বের হচ্ছেন না। আগে গাজীপুর শহরে এক লাইনে ১২ থেকে ১৪টি গাড়ি দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যেত, এখন সেখানে মাত্র ৩ থেকে ৪টি বাস দেখা যাচ্ছে। গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তা থেকে টঙ্গী পর্যন্ত দীর্ঘ যানজট থাকত। এখন সেখানে যানজট একেবারেই নেই।

উত্তরার আবদুল্লাহপুর এলাকায় কথা হয় গাজীপুরের তেলিপাড়া এলাকার বাসিন্দা শাহজাহান মিয়ার সঙ্গে। তিনি বলেন, আগে গাজীপুর থেকে টঙ্গী আসতে সময় লাগতে কমপক্ষে দুই ঘণ্টা বা তারও বেশি। কিন্তু কয়েক দিন ধরে সেই পথটুকু আসতে সময় লাগছে ৪০ থেকে ৪৫ মিনিট।

ভোগড়া এলাকার বাসিন্দা আবদুল লতিফ মিয়া বলেন, অটোরিকশা বন্ধ এবং তাকওয়া পরিবহন কমে যাওয়ায় সড়কটি এখন অনেক পরিচ্ছন্ন হয়েছে। এখন দাবি, এটা যেন ধরে রাখা যায়।

গাজীপুর মেট্রোপলিটনের কমিশনার মোল্যা নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা আইনের প্রয়োগ করছি, এটা অব্যাহত থাকবে। কোনো অবস্থাতেই এ অভিযান বন্ধ হবে না। এখন গাজীপুরের বাসিন্দাদের সচেতন হতে হবে।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন