জান্নাতুন প্রথম আলোকে বলেন, সন্তান প্রসবের পর নার্সিংহোম থেকে বাসায় গিয়ে তাঁর মন মানে না। তিনি মেয়ের কবর দেখতে চান। এই নিয়ে প্রতিদিনই স্বামীর সঙ্গে তাঁর ঝগড়া হতো। রহিদুল তাঁকে মারধরও করেছেন। কিন্তু কবর দেখাতে নিয়ে যাননি। বিষয়টি তিনি এলাকাবাসীকে জানিয়ে দেন। এলাকার লোকজন কবর দেখানোর জন্য রহিদুলকে চাপ দেন। একপর্যায়ে তিনি স্বীকার করেন বাচ্চাটি তিনি ২৪ হাজার টাকায় বিক্রি করেন। এলাকার লোকজন তখন নগরের রাজপাড়া থানার পুলিশকে খবর দেন। আজ বেলা ১১টার দিকে পুলিশ রহিদুলকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

রাজপাড়া থানার পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, থানায় আনার পর রহিদুল পুলিশকে জানায়, নগরের দাশপুকুর এলাকার তরিকুল নামের এক ব্যক্তির কাছে তিনি বাচ্চাটি বিক্রি (২৪ হাজার টাকায়) করেছিলেন। ওই এলাকা থেকে তরিকুলকে আটক করে পুলিশ। তরিকুল পুলিশের কাছে স্বীকার করেন, তিনি বাচ্চাটি গোদাগাড়ী উপজেলার কাঁকনহাট পৌর সদরের সিরাজুল ইসলামের স্ত্রীর কাছে ৩৫ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন। পুলিশ রহিদুলকে থানায় আটক রেখে তরিকুলকে নিয়ে কাঁকনহাটে অভিযান চালায়। বেলা দেড়টার দিকে সিরাজুলের স্ত্রী বিউটি খাতুনের কাছ থেকে নবজাতকটি উদ্ধার করে পুলিশ। জান্নাতুন সন্তান ফিরে পাওয়ার আশায় থানায় বসেই ছিলেন। দুপুরে পুলিশ বাচ্চা এনে মায়ের কোলে দেয়। সন্তানকে ফিরে পাওয়ার পরপরই মা জান্নাতুন নবজাতককে বুকের দুধপান করান।

এই অভিযানে গিয়েছিলেন রাজপাড়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কাজল কুমার নন্দী। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, এই ঘটনায় মানব পাচার আইনে একটি মামলার প্রস্তুতি চলছে। বাচ্চার মা জান্নাতুন মামলার বাদী হবেন।