তাঁরা শুধু সড়কেই ডাকাতি করেন
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ সড়কের লাউয়াছড়া এলাকায় সম্প্রতি একটি ডাকাতির ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ডাকাতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যদেরও শনাক্ত করা হয়েছে। তাঁদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। আজ মঙ্গলবার দুপুরে মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সভাকক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য দেওয়া হয়। এ সময় বলা হয়, এই ডাকাত দলের সদস্যরা শুধু সড়কেই ডাকাতি করে থাকেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য এবং বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে জানানো হয়েছে, গত ২৫ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ সড়কের কমলগঞ্জ উপজেলার লাউয়াছড়া তেরা সেতু–সংলগ্ন স্থানে একটি ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এ সময় ১৪-১৫ জনের একটি ডাকাত দল সড়কে গাছ ফেলে যানবাহন চলাচলে বাধার সৃষ্টি করে। ডাকাতেরা সিএনজিচালিত অটোরিকশা, মাইক্রোবাস ও ট্রাক থামিয়ে চালকদের হাত-পা বেঁধে ফেলে। জখম ও মৃত্যুর ভয় দেখিয়ে যাত্রীদের সঙ্গে থাকা নগদ টাকা, মুঠোফোন ও অন্যান্য মূল্যবান জিনিস লুটপাট করে। ডাকাত দল প্রায় আধা ঘণ্টা ধরে লুটপাট চালায়। কমলগঞ্জ থানার পুলিশ ডাকাতির খবর শুনে ঘটনাস্থলে গেলে ডাকাতেরা পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় ২৭ সেপ্টেম্বর কমলগঞ্জ থানায় পুলিশ একটি মামলা করে। ডাকাতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার ও লুট হওয়া মালামাল উদ্ধারে কমলগঞ্জ থানা ও জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সমন্বয়ে একটি দল গঠন করা হয়। এরপর পুলিশ গোপন সূত্র ও তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ডাকাতির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে সাতজনকে গ্রেপ্তার এবং লুটে নেওয়া মালামাল উদ্ধার করে।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জাকারিয়া বলেন, ‘আমরা মূল ডাকাতদের ধরতে পেরেছি। ডাকাতির সঙ্গে জড়িত অন্যদেরও শনাক্ত করা গেছে। আশপাশের জেলার সঙ্গে সমন্বয় করে বাকিদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। রশিদপুরে ডাকাতির সঙ্গেও তাদের সংযোগ পাওয়া গেছে। আমাদের ধারণা, ডাকাতেরা বাইরের হলেও লাউয়াছড়ার আশপাশের গ্রামের কেউ না কেউ তাদের আশ্রয় দেয়।’
সংবাদ সম্মেলনে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিষয়ে জানানো হয়, ১৫ অক্টোবর সিলেট থেকে সুনামগঞ্জের বশির আহমেদ, মৌলভীবাজার সদর থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আবুল হোসেন, কুলাউড়া থেকে কইনুল ইসলামকে এবং ১৬ অক্টোবর সিলেট থেকে হবিগঞ্জের সবুজ মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে গত ২৯ সেপ্টেম্বর কমলগঞ্জের লোকমান মিয়া, আবদুল মালিক ও আরিফ মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে সবুজ মিয়া ডাকাতির ঘটনায় ১৪-১৫ জন জড়িত থাকার বিষয়ে আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। অন্যদিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বশির আহমেদ ও আবুল হোসেনকে তিন দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ। আজ তাঁদের রিমান্ড শেষ হয়েছে। গ্রেপ্তার সাতজনকেই আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গ্রেপ্তার প্রত্যেকের নামে বিভিন্ন থানায় তিন থেকে পাঁচটি করে মামলা আছে।
পুলিশের দাবি, এই দলের সদস্যরা ১৩ অক্টোবর ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের হবিগঞ্জের রশিদপুরে ডাকাতির সঙ্গেও জড়িত ছিলেন। দলটি শুধু সড়কেই ডাকাতি করে থাকে। বাসাবাড়িতে ডাকাতির কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে লুট হওয়া বিভিন্ন মডেলের ১৮টি মুঠোফোন, ৫৩ হাজার টাকা এবং ডাকাতির সময় ব্যবহৃত ৪টি দা, ১টি রামদা, ১টি তলোয়ার, ১টি কিরিচ, ১টি ছুরি ও ১টি হাতকরাত উদ্ধার করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুদর্শন কুমার রায় ও হাসান মোহাম্মাদ নাছের রিকাবদার, কমলগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আবদুর রাজ্জাক প্রমুখ।