ট্রেন আসতে দেখে দৌড়ে গিয়ে লেভেল ক্রসিং গেট বন্ধ করল কিশোর
লেভেল ক্রসিংয়ে গেট থাকলেও সেখানে কোনো গেটম্যান ছিলেন না। এ অবস্থায় ট্রেন আসতে দেখে স্থানীয় এক কিশোর দৌড়ে গিয়ে গেটটি বন্ধ করে। ট্রেন চলে যাওয়ার পর সে আবার গেট খুলে দেয়। এতে দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পান পথচারীরা।
গতকাল রোববার বিকেলে মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার চৌধুরী বাজার-ভবানীপুর লেভেল ক্রসিং গেটে এ ঘটনা ঘটে। পরে ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।
২৭ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, ট্রেন আসার শব্দ শুনে খালি গায়ের এক কিশোর গিয়ে শরীরের সব শক্তি দিয়ে গেট বন্ধ করছে। ট্রেন চলে যাওয়ার পর আবার গেট খুলে দেয় সে। এরপর দুই পাশে আটকে পড়া কয়েকজন পথচারী লেভেল ক্রসিং পার হন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ময়জুল ইসলাম নামের এক মাদ্রাসাশিক্ষার্থী ভিডিওটি ধারণ করেন। আজ সোমবার দুপুরে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে ময়জুল বলেন, তাঁর বাড়ি পাশের পৃথিমপাশা ইউনিয়নের রবিরবাজার এলাকায়। গতকাল রোববার বিকেলের দিকে তিনি রাউৎগাঁওয়ের ভবানীপুর এলাকায় বেড়াতে যাচ্ছিলেন। চৌধুরী বাজার-ভবানীপুর লেভেল ক্রসিংয়ে পৌঁছে দেখেন, ঢাকা থেকে সিলেটগামী আন্তনগর জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস ট্রেন কিছুদূরে। এক কিশোর আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে ক্রসিংয়ের গেট বন্ধ করছে। তিনি দেরি না করে দ্রুত মুঠোফোনে দৃশ্যটি ভিডিও করেন।
ট্রেন যাওয়ার কিছুক্ষণ পর একজন গেটম্যান সেখানে আসেন। ওই গেটম্যানকে ময়জুল প্রশ্ন করলে গেটম্যান তাঁকে জানান, তিনজন গেটম্যান থাকার কথা, কিন্তু আছেন দুজন। পালা করে তাঁরা দায়িত্ব পালন করেন। সন্ধ্যার আগপর্যন্ত অপর সহকর্মীর দায়িত্ব ছিল। দাপ্তরিক কাজে কুলাউড়া রেলস্টেশনে চলে যাওয়ায় কিছু সময়ের জন্য গেট ফাঁকা ছিল বলে ওই গেটম্যান দাবি করেন।
দুর্ঘটনা ঘটলে এর দায় কে বহন করতেন—এই প্রশ্নে ওই গেটম্যান কোনো জবাব দেননি বলে ময়জুল জানান। পরে কিশোরের সাহসিকতা তুলে ধরাসহ এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণে তিনি ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেন। তবে ওই কিশোরের নাম জানা সম্ভব হয়নি। তার বয়স ১৪-১৫ হতে পারে। বাড়ি আশপাশে কোথাও হতে পারে বলে জানান তিনি।
লেভেল ক্রসিংয়ের গেট দেখাশোনার দায়িত্ব রেলওয়ের প্রকৌশল (পথ) বিভাগের। এ বিষয়ে জানতে চাইলে কুলাউড়া জংশন রেলস্টেশনের উপসহকারী প্রকৌশলী (পথ) মো. মোজাম্মেল হক মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, দাপ্তরিক কাজে তিনি কোনো গেটম্যানকে গতকাল রোববার ডাকেননি। চৌধুরী বাজার-ভবানীপুর লেভেল ক্রসিং গেটে তিনজন গেটম্যান ছিলেন। তাঁদের মধ্যে একজন বছরখানেক আগে অসুস্থ হয়ে মারা গেছেন। এখন দুজন দায়িত্ব পালন করেন। এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান তিনি।