মেঘলা আকাশ। কখনো ফোঁটা ফোঁটা বৃষ্টি; কখনো রোদ। এরই মধ্যে আজ বুধবার সকালে নীলফামারী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ কৃতী শিক্ষার্থীদের পদচারণে মুখর হয়ে ওঠে। সংবর্ধনা দেওয়া হয় এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া কৃতী শিক্ষার্থীদের। ‘স্বপ্ন দেখো জীবন গড়ো’ স্লোগানে শিক্ষার ডিজিটাল প্লাটফর্ম শিখোর পৃষ্ঠপোষকতায় প্রথম আলোর এ আয়োজনে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত উচ্ছ্বাসে মেতে ছিল সাত শতাধিক কৃতী শিক্ষার্থী। সঙ্গে ছিলেন অভিভাবকেরাও। অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি ও গুণীজনেরা শিক্ষার্থীদের দেন নানা দিকনির্দেশনা।
জেলার ছয়টি উপজেলার জিপিএ-৫ পাওয়া ৯২২ শিক্ষার্থী অনলাইনে নিবন্ধন করে অনুষ্ঠানে অংশ নিতে আসে। সংবর্ধনার নিবন্ধনের আমন্ত্রণ কার্ড হাতে নিয়ে সারিবদ্ধভাবে শিক্ষার্থীরা সংগ্রহ করে ক্রেস্ট আর স্ন্যাকস। সবার চোখেমুখে ছিল খুশির ঝিলিক। অনেক দিন পর সহপাঠীদের সঙ্গে দেখা হওয়ায় একে অপরের সঙ্গে কুশল বিনিময় ও আড্ডায় মেতে ওঠে তারা।
সকাল ৯টার কিছু আগে থেকে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আসতে শুরু করে দূরদূরান্তের শিক্ষার্থীরা। কথা হয় ডোমার উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নের বসুনিয়ার হাট এলাকার শিক্ষার্থী হেমা রানী রায়ের সঙ্গে।। হেমা জানায় সে তাঁর দাদার সঙ্গে এসেছে। সকালে এখানে আসার উৎকণ্ঠায় রাতে ঠিকমতো ঘুমাতেও পারেনি সে। কখন সকাল হবে আর কখন এখানে আসবে। সঙ্গে বৃষ্টির ভয়ও ছিল তার। হেমা বলে, ‘সব কিছু মিলে সময়ের আগে পৌঁছতে পেরে খুবই আনন্দ হচ্ছে। জীবনে আমার এটাই প্রথম বড় কোনো অনুষ্ঠানে আসা।’
ডোমার উপজেলা শহর থেকে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আসা নাফিসা লুবনা ও নাফিসা লুবাবা যমজ বোন। তারা দুজনই এবারের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে। লুবাবা বলে, ‘এখানে এসে খুব ভালো লাগছে। পরীক্ষার পর থেকে অনেক বান্ধবীর সঙ্গে দেখা হচ্ছিল না। আজ সবাই মিলে গল্প, আড্ডা আর পুরোনো স্মৃতি নিয়ে কথা বলতে পেরে ভালো লাগছে।’
সকাল ৯টা ৫৮ মিনিট নীলফামারী বন্ধুসভার সদস্যদের জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় মূল আয়োজন। অনুষ্ঠানের শুরুতে ঢাকার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় নিহত ব্যক্তিদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
নীলফামারী বন্ধুসভার সভাপতি রুবি আক্তারের সঞ্চালনায় শুরু হয় আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন প্রথম আলোর নীলফামারী প্রতিনিধি মীর মাহমুদুল হাসান। সম্পাদক মতিউর রহমানের বক্তব্য পাঠ করেন প্রথম আলোর সৈয়দপুর প্রতিনিধি এম আর আলম।
অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে প্রথম আলোর রংপুরের সাবেক নিজস্ব প্রতিবেদক আরিফুল হক, নীলফামারী সরকারি কলেজের উপাধ্যক্ষ গোলাম মোস্তফা চৌধুরী, নীলফামারী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নলিনী কান্ত রায়, অভিভাবক সাদেক হোসেন, আব্দুল খালেক, শিক্ষার্থী, আবির ইসলাম, নাফিসা লুবাবা বক্তব্য দেন।
মিথ্যা, মুখস্থ ও মাদকের বিরুদ্ধে শপথ পাঠসহ আলোচনার ফাঁকে ফাঁকে চলে বন্ধুসভার সদস্যদের সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। অনুভূতি প্রকাশ, গান, কবিতা আর নৃত্যে জমে ওঠে পুরো অনুষ্ঠান। এতে বন্ধুসভার সদস্যদের পাশাপাশি সংবর্ধনা নিতে আসা কৃতী শিক্ষার্থীরাও অংশ নেয়।
নীলফামারী সরকারি কলেজের উপাধ্যক্ষ গোলাম মোস্তফা চৌধুরী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, ‘তোমাদের সাফল্যের ধারা অব্যাহত রাখতে হবে এবং ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে হবে। আমরা যে নতুন বাংলাদেশ গড়তে চাই, তার জন্য তোমাদের শিক্ষা, পরিশ্রম, সততা ও নৈতিকতার প্রয়োজন। তাহলেই আমরা কাক্ষিত বাংলাদেশ গড়তে পারব।’
নীলফামারী সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নলিনী কান্ত রায় বলেন, ‘তোমাদের অধ্যবসায়, শিক্ষকদের দিকনির্দেশনা এবং উভয়ের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফলাফল তোমাদের এ সাফল্য। তোমাদের এ অর্জন শিক্ষকদের দিকনির্দেশনা এবং পরিবার থেকে নীতিনৈতিকতার শিক্ষা নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে হবে।’
অভিভাবক সাদেক হোসেন বলেন, ‘জীবনে সফল হওয়ার জন্য যারা স্বপ্ন দেখো সেই স্বপ্ন সফলের প্রথম ধাপ এসএসসি। সামনের ধাপ বিপজ্জনক। এই ধাপ যে সাফল্যের সঙ্গে পারি দিতে পারবে, সেই সফল হতে অনেক দূর এগিয়ে যাবে। আগামীতে এইচ এসসিতে যাতে আরও ভালো করা যায় সেই চেষ্টা আমাদের করতে হবে। অনেক মেধাবীকে আমরা হেরে যেতে দেখেছি, কিন্তু পরিশ্রমিকে হারতে দেখিনি।’
আয়োজনটি পাওয়ার্ড বাই কনকা-গ্রি এবং সহযোগিতায় আছে কনকর্ড গ্রুপ, ফ্রেশ, বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশ লিমিটেড, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি, কোয়ালিটি গ্রুপ, প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটি, অতীশ দীপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ইউসিএসআই ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ শাখা ক্যাম্পাস, আকিজ টেলিকম লিমিটেড, আম্বার আইটি লিমিটেড, এটিএন বাংলা ও প্রথম আলো বন্ধুসভা।