তিনি শামা ওবায়েদের গাড়ি ভাঙা মামলার আসামি, তাঁর হাতেই ফুল দিয়ে বিএনপিতে যোগদান

ফরিদপুরের সালথায় শামা ওবায়েদের গাড়ি ভাঙা মামলার আসামি আওয়ামী লীগ নেতা আনোয়ার হোসেন তাঁর (শামা ওবায়েদ) হাতে ফুল দিয়ে বিএনপিতে যোগদান করেন। রোববার বিকেলেছবি: প্রথম আলো

ফরিদপুরের সালথায় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় বিএনপির প্রার্থী শামা ওবায়েদের গাড়ি ভাঙার মামলার আসামি হয়েছিলেন আওয়ামী লীগ নেতা আনোয়ার হোসেন মিয়া। আজ রোববার বিকেলে সালথায় শামা ওবায়েদের হাতেই ফুল দিয়ে বিএনপিতে যোগদান করেছেন তিনি।

শামা ওবায়েদ বিএনপির ফরিদপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এবং সালথা ও নগরকান্দা উপজেলা নিয়ে গঠিত ফরিদপুর-২ আসনে দল মনোনীত প্রার্থী। আজ বিকেলে সালথার ভাওয়াল গ্রামে বিএনপির প্রয়াত নেতা আতিয়ার রহমান কবির মিয়ার কবর জিয়ারত করে একটি সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় অংশ নেন তিনি। ওই সভায় শামা ওবায়েদের হাতে ফুলের তোড়া দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগদান করেন আনোয়ার হোসেন মিয়া। পরে তিনি বক্তব্যও দেন।

আনোয়ার হোসেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। তিনি ভাওয়াল ইউনিয়নের ইউসুফ দিয়া গ্রামের বাসিন্দা। ২০১৮ সালের নির্বাচনের সময় বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রচারণার কাজে সালথায় যান শামা ওবায়েদ। তখন তাঁর গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। ওই গাড়ি ভাঙচুরের মামলার ১২ নম্বর আসামি আনোয়ার হোসেন। তিনি এখন জামিনে আছেন বলে আইনজীবীরা জানিয়েছেন।

সভায় নিজের বক্তব্যে আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমি আজ থেকে বিএনপি নেত্রী শামা ওবায়েদের দলে মিশে গেলাম। আগামীতে আমি শামা ওবায়েদের একজন সৈনিক হয়ে ধানের শীষের পক্ষে কাজ করে যাব।’

সভায় সালথা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান তালুকদার, উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. ওয়াহিদুজ্জামান, সালথা উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আছাদ মাতুব্বরসহ বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সিদ্দিকুর রহমান তালুকদার প্রথম আলোকে বলেন, ‘আওয়ামী লীগ নেতা আনোয়ার হোসেন আমাদের নেত্রী শামা ওবায়েদের ওই অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিয়ে ধানের শীষের পক্ষে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।’

তবে বিএনপিতে যোগ দিলেও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক পদ থেকে আনোয়ার ইস্তফা দেননি বলে দাবি করেছেন আওয়ামী লীগের নেতারা। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।

জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য শওকত হোসেন নিজের ফেসবুকে লিখেছেন, ‘উনি (আনোয়ার) সালথা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। উনার ভাই ছিলেন সালথা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। আরেক ভাই জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি ও জজকোর্টের এপিপি।...যে পদ দিয়ে এত টাকা কামিয়েছে। আফসোস, সেই পদটাও সাথে নিয়ে গেল, পদত্যাগ না করেই বিএনপিতে যোগ দিল। মানুষ এত বড় অকৃতজ্ঞ হয় কী করে?’

এ বিষয়ে আনোয়ার হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করলেও বন্ধ থাকায় তাঁর বক্তব্য জানা যায়নি। তাঁর ভাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন বলেন, আনোয়ারের বিএনপিতে যোগ দেওয়ার কথা তিনি শুনেছেন। তাঁর নিজের সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার আছে। তবে আনোয়ার তাঁর কাছে কোনো পদত্যাগপত্র দেননি। হয়তো দু-এক দিনের মধ্যে লিখিতভাবে জানাবেন।