তবে জন্মনিবন্ধন সংশোধন করাতে এসে আনসার সদস্যদের হাতে তরুণের পিটুনির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইউএনও ফাতেমা সুলতানা। বিকেল চারটায় মুঠোফোনে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ওই তরুণ লাইনে দাঁড়াতে গিয়ে অন্যজনের সঙ্গে মারামারি করে চোখের নিচে আঘাত পেয়েছেন। আনসার সদস্যরা তাঁকে রক্ষা করেন। পরে তিনি তাঁর গাড়িতে করে ওই তরুণকে হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠিয়ে দেন।

ভুক্তভোগী আহসান হাবিব প্রথম আলোকে বলেন, তিনি কবিরহাট পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। আজ সকাল সাড়ে আটটার দিকে তিনি তাঁর ছোট ভাইয়ের জন্মনিবন্ধন সংশোধনের আবেদন অনুমোদনের জন্য ইউএনও কার্যালয়ের সামনে যান। তখন সেখানে তিনি ছাড়া কমপক্ষে ১৫০ থেকে ২০০ জন সেবাপ্রার্থী ছিলেন।

আহসান হাবিবের ভাষ্য, তিনি ইউএনও কার্যালয়ের সামনে যাওয়ার পর সেখানে তাঁর বন্ধু মনির হোসেনের সঙ্গে দেখা হয়। তিনিও ভাইয়ের জন্মনিবন্ধন সংশোধনের আবেদন অনুমোদন করতে এসেছিলেন। দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত ইউএনও কারও আবেদন অনুমোদন করেননি। ঘণ্টার পর ঘণ্টা সবাই সেখানে দাঁড়িয়ে ছিলেন। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মনিরকে তাঁর বড় ভাই কল করে দেরি হওয়ার কারণ জানতে চান। তখন মনির ভিডিও কলে ভাইকে লাইনে দাঁড়ানোর চিত্র দেখাচ্ছিলেন। এ সময় আনসার সদস্য ইউনুছ এসে তাঁর হাত থেকে মুঠোফোন কেড়ে নেন। তখন তিনি আনসার সদস্যকে ফোন ফেরত দেওয়ার অনুরোধ জানালে তিনি হাতের লাঠি দিয়ে সজোরে তাঁর মাথায় আঘাত করেন। কিন্তু আঘাত মাথায় না লেগে বাঁ চোখে লাগে।

আহসান হাবিবের অভিযোগ, আঘাতে তিনি চোখে কিছু না দেখে বসে পড়েন। এ সময় আনসার সদস্য ইউনুছ ও রনি তাঁকে লাঠি দিয়ে একাধিক আঘাত করেন। পরে তিনি ইউএনও কার্যালয়ের ভেতরে ঘটনা জানাতে গেলে কক্ষের ভেতরে দুই আনসার সদস্য তাঁকে দ্বিতীয় দফায় মারধর করেন। এরপর ইউএনও দুই আনসার সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলে তাঁকে হাসপাতালে গিয়ে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিতে বলেন।

ইউএনও ফাতেমা সুলতানা দাবি করেন, দুই আনসার সদস্য ওই তরুণকে কিছু করেননি। তাঁরা পিটুনির সঙ্গে জড়িত নন। তাঁদের প্রত্যাহার করা হয়নি। তাঁরা কবিরহাটেই আছেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন