উন্নয়নের নামে অবকাঠামো হলেও জনকল্যাণ নিশ্চিত হয়নি: রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর
প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেছেন, ‘বিগত সময়ে উন্নয়নের নামে বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মিত হলেও প্রকৃত জনকল্যাণ নিশ্চিত হয়নি। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থান খাতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অভাব ছিল।’
শুক্রবার দুপুরে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার পল্লী উন্নয়ন একাডেমির হলরুমে ‘উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর টেকসই জীবনমান উন্নয়নে সমস্যা, সম্ভাবনা ও করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাশেদ আল মাহমুদ এ কথা বলেন।
রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, ‘স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসক নেই। অ্যাম্বুলেন্স আছে; কিন্তু চালক নেই। যন্ত্রপাতি আছে; কিন্তু সেগুলো পরিচালনার লোক নেই। আমরা চাই মানুষের কর্মসংস্থান হোক, সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত হোক এবং নারীর ক্ষমতায়ন ঘটুক। নারীর উন্নয়ন একটি দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ সূচক।’ অতীতে নারী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর সহিংসতা ও নির্যাতনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখানে কেউ সংখ্যালঘু নয়, সবার সমান অধিকার রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘নতুন সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের মূল লক্ষ্য হচ্ছে রাষ্ট্রব্যবস্থার সংস্কার, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, বৈষম্যহীন সামাজিক উন্নয়ন এবং টেকসই রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা গড়ে তোলা। আমরা এমন একটি রাষ্ট্র চাই, যেখানে সরকার জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ থাকবে এবং নাগরিকের অধিকার নিশ্চিত হবে।’
পল্লী উন্নয়ন একাডেমির মহাপরিচালক আবদুল্লাহ আল মামুনের সভাপতিত্বে সেমিনারে অন্যান্যের মধ্যে গোপালগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. সেলিমুজ্জামান সেলিম, গোপালগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জিলানী, গোপালগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য কে এম বাবর, জেলা প্রশাসক মো. আরিফ-উজ-জামান, পুলিশ সুপার মো. হাবীবুল্লাহ বক্তব্য দেন।
সেমিনারে উপকূলীয় অঞ্চলের জীবনমান উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়। খুলনার দাকোপ উপজেলার কৃষক নিমাই কুমার রায় উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ তুলে ধরে বলেন, বনদস্যুদের আক্রমণ, অনুন্নত যোগাযোগব্যবস্থা ও স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতার কারণে উপকূলে বসবাসকারী মানুষকে প্রতিনিয়ত নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়। তিনি টেকসই উন্নয়নে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান।