খুলনা শিল্প ও বণিক সমিতির পরিচালক মফিদুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, একটি সেতু বদলে দেবে দক্ষিণাঞ্চলকে। কাছাকাছি মোংলা বন্দর থাকায় আমদানি–রপ্তানিমুখী শিল্পকারখানার অন্যতম স্থান হবে খুলনা। সড়কপথে পায়রা সমুদ্রবন্দরও ব্যবহার করতে পারবেন ব্যবসায়ীরা। ট্রেনে ভারত, নেপাল, ভুটানের সঙ্গে আমদানি–রপ্তানি সহজ হবে। এ কারণে খুলনায় ব্যবসায়ীরা বিনিয়োগে আগ্রহী হচ্ছেন।

মফিদুল ইসলাম বলেন, যেসব শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে গেছে, তাতে ব্যাপক জায়গা। সরকার চাইলে ওই সব জায়গায় নতুন নতুন শিল্পকারখানা গড়ে তোলার ব্যবস্থা করতে পারে।

খুলনায় শিল্পাঞ্চলের প্রতিবন্ধকতা

পদ্মা সেতুর কারণে যেমন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, তেমনি কিছু প্রতিবন্ধকতাও রয়েছে। সংসদ সদস্য (রূপসা-তেরখাদা-দিঘলিয়া) ও বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি আবদুস সালাম মুর্শেদী প্রথম আলোকে বলেন, বিনিয়োগকারীদের নজর এখন খুলনায়। বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য সব ধরনের অনুকূল পরিবেশ খুলনা অঞ্চলে নেই। বিশেষ করে খুলনার সঙ্গে ঢাকার সরাসরি আকাশপথে যোগাযোগ নেই। গ্যাস সরবরাহের পর্যাপ্ত সুবিধা ও মোংলা বন্দরের সক্ষমতা নেই।

সালাম মুর্শেদী বলেন, গ্যাস ছাড়া উৎপাদনমুখী শিল্প সম্ভব নয়। বড় বড় শিল্পকারখানা করতে গেলে ক্রেতা দরকার। এ জন্য আন্তর্জাতিকভাবে চাহিদা তৈরি করতে প্রয়োজন বিমানবন্দর। চাহিদার বিষয়টি মাথায় রেখে মোংলা বন্দরকে আধুনিক ও গভীর সমুদ্রবন্দর করা জরুরি।

জানতে চাইলে সুন্দরবন গ্যাস কোম্পানির মহাব্যবস্থাপক (পরিকল্পনা) মো. সালাহউদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, সরকারের পরিপত্র অনুযায়ী পরিকল্পিত শিল্পাঞ্চল ছাড়া কোথাও গ্যাস সরবরাহ করা যাবে না। এখন শুধু খুলনা বিসিক শিল্পনগরে গ্যাস সরবরাহের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তবে সরকার চাইলে শিল্পপ্রতিষ্ঠানে গ্যাস সরবরাহের মতো সক্ষমতা রয়েছে।

উৎপাদনমুখী শিল্প নেই

বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের খুলনা কার্যালয়ে বিভাগের ১০ জেলার বিনিয়োগ তথ্য থেকে জানা যায়, খুলনা ও এর আশপাশের জেলায় রপ্তানিমুখী বড় শিল্পকারখানা নেই। এসব জেলায় অটো ব্রিকস, অর্গানিক ফার্টিলাইজার, প্লাস্টিক কারখানা, জুট মিল, ফিড মিল ও খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ কারখানা রয়েছে। এর বাইরে মোংলা বন্দরকেন্দ্রিক গড়ে উঠেছে কিছু এলপিজি গ্যাস কারখানা।

বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের পরিচালক (খুলনা বিভাগ) প্রণব কুমার রায় প্রথম আলোকে বলেন, খুলনা অঞ্চলে বিনিয়োগ প্রত্যাশার চেয়ে অনেক কম। উৎপাদন খাতে বিনিয়োগ নেই বললেই চলে। ছোট ছোট যেসব কারখানা চালু আছে, সেগুলোর অধিকাংশই যশোর ও কুষ্টিয়াভিত্তিক। ওই সব কারখানার উৎপাদিত পণ্য রপ্তানি হয় না।

পড়ে আছে বন্ধ শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জমি

খুলনা নগরের নিউমার্কেট এলাকার উত্তর-পশ্চিম পাশেই ছিল খুলনা টেক্সটাইল মিল। ১৯৩১ সালে ২৬ একর জায়গার ওপর প্রতিষ্ঠিত মিলটি লোকসান দেখিয়ে ১৯৯৩ সালের ১৯ জুন বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরপর একে একে বন্ধ হয়েছে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন একমাত্র হার্ডবোর্ড মিল, এশিয়ার বৃহৎ নিউজপ্রিন্ট মিল, দাদা ম্যাচ ফ্যাক্টরি। সর্বশেষ ২০২০ সালের জুলাইয়ে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সব পাটকল বন্ধ করে দেওয়া হয়। ’৬০ ও ’৭০–এর দশকে খুলনায় ওই সব শিল্পকারখানা গড়ে উঠেছিল।

এসব শিল্পপ্রতিষ্ঠানের শত শত একর জমি পড়ে আছে। সরকার সঠিক পরিকল্পনা করে ওই জমিতে শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার ব্যবস্থা করতে পারে।

খুলনার নাগরিক নেতা ও সরকারি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অর্থনীতির অধ্যাপক আনোয়ারুল কাদির বলেন, বন্ধ হওয়া কারখানাগুলোর যে পরিমাণ জমি রয়েছে, তাতে শিল্প এলাকা করতে নতুন করে জমি অধিগ্রহণ করতে হবে না। সরকার ভেবেচিন্তে ব্যবস্থা নিলে বা বিনিয়োগকারীদের কাছে বিশেষ আকর্ষণ তৈরি করতে পারলে খুলনা আবার শিল্পনগরী হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন