ময়মনসিংহে প্রথমবার এমপি হয়ে দুজন প্রতিমন্ত্রী, উচ্ছ্বসিত এলাকার মানুষ

এম ইকবাল হোসেইন (বাঁয়ে) ও ইয়াসের খান চৌধুরীছবি: সংগৃহীত

ময়মনসিংহ জেলা থেকে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে মন্ত্রিপরিষদে জায়গা পেলেন এম ইকবাল হোসেইন ও ইয়াসের খান চৌধুরী।

ময়মনসিংহ-৩ (গৌরীপুর) আসন থেকে নির্বাচিত এম ইকবাল হোসেইন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং ময়মনসিংহ-৯ (নান্দাইল) আসনে নির্বাচিত ইয়াসের খান চৌধুরী তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন। এ খবরে উচ্ছ্বসিত দুটি আসনের দলীয় নেতা–কর্মী ও ভোটাররা।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ময়মনসিংহ-৩ আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছেন এম ইকবাল হোসেইন। তিনি এর আগে ২০০৮ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে অংশ নিয়ে পরাজিত হয়েছিলেন। এবার ৭৫ হাজার ৩২০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন ইকবাল হোসেইন। এ আসনে ১৯৭৯ সালে বিএনপি থেকে নির্বাচিত নাজমুল হুদা উপমন্ত্রী ছিলেন।

গৌরীপুর উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক হাবিবুল ইসলাম খান বলেন, ‘আমাদের এমপি মন্ত্রী হয়েছেন। এতে আমরা আনন্দিত। দলীয় প্রধান তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আমরা সবাই মিলে এলাকার উন্নয়ন করব। আমাদের নেতা আগেই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, গৌরীপুরকে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ, দখলদার ও মাদকমুক্ত করবেন এবং উন্নয়নমূলক পরিকল্পনা রয়েছে। সেগুলো ইনশাআল্লাহ বাস্তবায়ন হবে। সে জন্য গৌরীপুরবাসীকে সহযোগিতা করতে হবে।’

আজ বিকেলে এম ইকবাল হোসেইনের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার এ খবর শোনার পর ময়মনসিংহ উত্তর জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেনের নেতৃত্বে নেতা-কর্মীরা নেচেগেয়ে বাদ্য বাজিয়ে পৌর এলাকায় আনন্দমিছিল করেন। এ সময় শহর ঘুরে ঘুরে এক মণ মিষ্টি বিতরণ করা হয়।

এম ইকবাল হোসেইন হলফনামায় আয়ের উৎসের স্থানে লেখা হয়েছে, প্রযোজ্য নহে। স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের স্থানে লেখা হয়েছে, আয়কর রিটার্ন কপি সংযুক্ত করা হয়েছে। তবে নির্বাচন কমিশনের সাইটে আয়কর সার্টিফিকেট পাওয়া গেলেও সম্পদের বিবরণী পাওয়া যায়নি।

এম ইকবাল হোসেইন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর এলাকায় মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ করা হয়। মঙ্গলবার বিকেলে গৌরীপুর পৌর এলাকায়
ছবি : প্রথম আলো

ময়মনসিংহ-৯ (নান্দাইল) থেকে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচিত ইয়াসের খান চৌধুরী প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন। তিনি সাবেক সংসদ সদস্য আনোয়ারুল হোসেন খান চৌধুরীর ছেলে। তাঁর চাচা খুররম খান চৌধুরীও এ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য। বাবা-চাচার ধারাবাহিকতায় ইয়াসের খান এবার ধানের শীষ নিয়ে প্রথমবার নির্বাচনেই জয়ী হয়েছেন। ইয়াসের খান একজন তথ্যপ্রযুক্তি বিজ্ঞানী। দীর্ঘদিন বিবিসি টেলিভিশন নেটওয়ার্ক লন্ডনের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের দায়িত্ব পালন করেছেন। বিদেশে থেকেও তিনি ছিলেন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত।

উপজেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘বিএনপি থেকে নান্দাইলে প্রথম মন্ত্রিত্ব পাওয়ায় আমরা খুবই খুশি। আমাদের অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। আমরা প্রত্যাশা করছিলাম তিনি মন্ত্রী হবেন, সেটি আমরা প্রচারণার সময় স্লোগানও বলতাম। নান্দাইলবাসীর জন্য অনেক বড় সুখবর। তিনি উন্নয়নের জন্য সর্বাত্মক কাজ করে যাবেন।’

ইয়াসের খান চৌধুরী প্রতিমন্ত্রী হচ্ছেন—এমন খবর পাওয়ার পর তাঁর গ্রামের বাড়ি নান্দাইলের মোয়াজ্জেমপুরে জামে মসজিদে বাদ জোহর বিশেষ দোয়ার আয়োজন করা হয়। গ্রামের বাসিন্দা মিন্টু মিয়া বলেন, বিএনপি থেকে প্রথমবার মন্ত্রিত্ব পাওয়ায় এলাকার মানুষ খুব আনন্দিত।

৪৪ বছর বয়সী ইয়াসের খান চৌধুরী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হলফনামায় উল্লেখ করেছেন, বছরে তাঁর আয় ১২ লাখ ২৩ হাজার টাকা। তাঁর স্ত্রী সানজীনা খান চৌধুরী ব্যবসা থেকে বছরে ২৩ লাখ ৪০ হাজার টাকা আয় করেন। তাঁর অস্থাবর সম্পদের বর্তমান আনুমানিক মূল্য ১ কোটি ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং স্ত্রীর অবস্থাবর সম্পদের বর্তমান মূল্য ১১ কোটি ৬৪ লাখ ৭৮ হাজার ৩৮৩ টাকা। তাঁর স্থাবর সম্পদের বর্তমান আনুমানিক মূল্য ১ কোটি ৩৫ লাখ টাকা এবং স্ত্রীর স্থাবর সম্পদের বর্তমান আনুমানিক মূল্য ৫ কোটি টাকা। ভাড়াটে জামানত, গাড়ি/হোম লোন বাবদ তাঁর দায় ১১ কোটি ৪৭ লাখ ৩ হাজার ৪৫৭ টাকা।