উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সঞ্জীব কুমার গোস্বামী জানান, কৃষকদের কাছ থেকে এ ব্যাপারে তিনি মৌখিক অভিযোগ পেয়েছেন। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে জানানোর জন্য তিনি কৃষকদের পরামর্শ দিয়েছেন।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা খাদেমুল ইসলাম বলেন, মৎস্য আইনে প্রবহমান জলধারা বাধাগ্রস্ত করা বা সোতি জাল দিয়ে মাছ ধরা সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ। গতকাল ভ্রাম্যমাণ আদালত গঠন করে শামুকজানি গ্রাম থেকে একটি সোতিজালের ঘের উচ্ছেদ করা হয়।

সরেজমিনে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কাগেশ্বরী নদীর শামুকজানি, দত্তপাড়া, তালপট্টি, বড়গ্রামসহ অন্তত ছয়টি স্থানে চাটাই, পলিথিন ও বাঁশের সাহায্যে পানি আটকে ফেলা হয়েছে। এরপর সেখানে সোতি জাল বসানো হয়েছে। এতে গজারিয়া, ঘুঘুদহ, বাঘারগাড়ি, মুক্তাহার, ইটকাটা, গাঙভাঙাসহ অন্তত ১৫টি বিলের পানি জমি থেকে স্বাভাবিক গতিতে খাল দিয়ে নামতে পারছে না। এসব বিলে আমনের আবাদ করা হয়েছিল।

উঁচু জমি থেকে কৃষকেরা আমন ধান কাটতে পারলেও নিচু এলাকার জমিতে এখনো পানি রয়ে গেছে। ফলে কৃষকের ধান কাটতে বিলম্ব হচ্ছে। ধান কাটার পর কৃষকদের এসব জমিতে পেঁয়াজ, রসুনসহ অন্য রবিশস্যের আবাদ করার কথা। কিন্তু এখন সেগুলো কিছুই করা যাচ্ছে না।

আফড়া গ্রামের কৃষক জানে আলম বলেন, ‘১৫ বিঘা জমিতে আমনের আবাদ করেছিলাম। ধান পাকলেও জমিতে পানি থাকায় সেই ধান কাটতে পারছি না। ১৫ দিন আগে বিলের পাশের জমিতে পেঁয়াজের চারা তৈরির জন্য বীজ ছিটানোর প্রয়োজন ছিল। পানির থাকায় তা-ও পারছি না।’

শামুকজানি গ্রামের পাশে সোতি জাল পেতেছেন ছানু খাঁ। তিনি বলেন, সোতি জালের কারণে পানিপ্রবাহ মোটেও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে না। প্রতিবছরই কৃষকদের নাম ব্যবহার করে একটি স্বার্থান্বেষী মহল পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে অপপ্রচার করে থাকে।

পাউবোর বেড়া কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী সুধাংশু কুমার সরকার বলেন, নিষ্কাশন খালে এভাবে পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বিভিন্ন দপ্তরে চিঠি দিয়েছেন।

ইউএনও মাসুদ হোসেন বলেন, অবৈধ সোতি জাল অপসারণের জন্য ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অভিযান চলছে।