এই দুই তরুণী পুনর্বাসনকেন্দ্রের অস্থায়ী নিবাস থেকে স্থায়ী ঠিকানা পেয়েছেন। গতকাল শনিবার দুপুরে বরিশাল নগরের জাগুয়া এলাকায় সামাজিক প্রতিবন্ধী মেয়েদের প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসনকেন্দ্রে ধুমধাম করে দুজনের বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। বর ও কনেপক্ষ মিলেয়ে ৩০০ অতিথিকে বিয়ের অনুষ্ঠানে আপ্যায়ন করা হয়েছে। অতিথিদের পরিবেশন করা হয়েছে কাচ্চি, বিরিয়ানি, মুরগির রোস্ট, রুই মাছ ও কোমল পানীয়। তাঁদের বিয়ে উপলক্ষে কয়েক দিন ধরে পুনর্বাসনকেন্দ্রের নিবাসীদের মধ্যে ছিল আনন্দ ও উৎসবমুখর পরিবেশ। বর-কনের জন্য মঞ্চ সাজানো, সাজসজ্জাসহ অন্যান্য আয়োজন ছিল নজরকাড়ার মতো।

এমন আয়োজন ও বিবাহ নিয়ে বর-কনে সবাই সন্তুষ্ট। তানজিলার বরের নাম রেজাউল সরদার। আর ওবায়দুল মৃধা সৃষ্টি আক্তারের বর। দুই বরই পেশায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালক। রেজাউল বাক্‌প্রতিবন্ধী।

বিয়ের অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে যোগ দেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম, বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার আমিন উল আহসান, জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দিন হায়দার, ভোলার জেলা প্রশাসক তৌফিক ইলাহি চৌধুরী, পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন, সমাজসেবা অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক শহিদুল ইসলাম, উপপরিচালক আল মামুন তালুকদার, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক আলমগীর হোসেন খান, বরিশাল সদর উপজেলা চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান, সমাজসেবক মাহমুদুল হক খান, জেলা প্রবেশন কর্মকর্তা ও পুনর্বাসনকেন্দ্রের তত্ত্বাবধায়ক সাজ্জাদ পারভেজ প্রমুখ।

বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা ও মধ্যাহ্নভোজ শেষে সন্ধ্যা পর্যন্ত নানা উৎসব ও নতুন বর-কনেদের সংবর্ধনা। অতিথিরা তাঁদের সঙ্গে ছবি তোলেন ও আশীর্বাদ করেন। দুই নবদম্পতিকে দেওয়া হয় নানা উপহার। সংসারজীবন যাতে তাঁরা সচ্ছলভাবে চালাতে পারেন এ জন্য দুই বরকে উপহার দেওয়া হয় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা এবং দুই কনেকে দেওয়া হয়েছে সেলাই মেশিন। সেই সঙ্গে ডিনার সেট, বিছানাপত্র ও অন্যান্য গৃহস্থালি সামগ্রী উপহার দেওয়া হয়েছে তাঁদের।

এখানে এসে নিজেকে দক্ষ করে গড়ে তুলেছি ও আত্মবিশ্বাস অর্জন করেছি। এখন স্থায়ী ঠিকানা পেলাম। এটা সত্যি আমাদের জন্য খুবই আনন্দের দিন ও বড় পাওয়া।
তানজিলা আক্তার, কনে

বিয়ের পর তানজিলা তাঁর প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘এখানে এসে নিজেকে দক্ষ করে গড়ে তুলেছি ও আত্মবিশ্বাস অর্জন করেছি। এখন স্থায়ী ঠিকানা পেলাম। এটা সত্যি আমাদের জন্য খুবই আনন্দের দিন ও বড় পাওয়া। সবাই আশীর্বাদ করবেন যেন, সংসার জীবনটা সুখের হয়।’

পুনর্বাসনকেন্দ্রের তত্ত্বাবধায়ক ও জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের জেলা প্রবেশন কর্মকর্তা সাজ্জাদ পারভেজ বলেন, তানজিলা ও সৃষ্টির অসহায়ত্ব ঘোচাতে পেরে বেশ প্রশান্তি লাগছে। সবাই মিলে যদি এভাবে একেকটি অসহায় মেয়ের দায়িত্ব নেওয়া যায়, তাহলে অনেক মানুষের দুঃখ-দুর্দশা লাগব করা সম্ভব।