আওয়ামী লীগের যাঁরা অপরাধ করেননি, তাঁদের নিরাপত্তার দায়িত্ব সরকারের: ফয়জুল করীম

বরিশাল প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির ও বরিশাল–৫ ও ৬ আসনের প্রার্থী মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম। আজ বুধবার দুপুরে তোলাছবি: প্রথম আলো

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির ও বরিশাল–৫ ও ৬ আসনের প্রার্থী মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম বলেন, আওয়ামী লীগ যাঁরা করেন, তাঁদের নাগরিকত্ব বাতিল করেনি সরকার, আওয়ামী লীগের কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। তবে যদি আওয়ামী লীগের কোনো ব্যক্তি অন্যায় না করেন এবং কোনো মামলা না থাকে, তাহলে তাঁর নিরাপত্তার দায়িত্ব সরকারের।

আজ বুধবার দুপুরে বরিশাল প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির। দলটির উদ্যোগে এ সভার আয়োজন করা হয়।

মতবিনিময় সভায় মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম বলেন, ‘পুরোনো বন্দোবস্ত দেশের শান্তিশৃঙ্খলা ও সমৃদ্ধি আনতে পারেনি, সামাজিক ন্যায়বিচার ও ইনসাফ কায়েম করতে পারেনি, দেশের টাকা বিদেশে পাচার রোধ করা যায়নি। আমাদের লক্ষ্য, দেশে সব ক্ষেত্রে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করা, কোরআন–সুন্নাহর আইন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি কল্যাণ রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলা।’

প্রশাসনের উদ্দেশে ইসলামী আন্দোলনের এই নেতা বলেন, ‘আমরা দেখেছি, প্রশাসন কোনো একটি দলের দিকে ঝুঁকে পড়েছে। এ দেশের মানুষের মধ্যে সন্দেহ ও প্রশ্ন জেগেছে, এই প্রশাসন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট উপহার দিতে পারবে কি না। এ জন্য প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বলব, আপনারা কোনো বিশেষ দলের দিকে ঝুঁকে পড়বেন না। কালোটাকা, সন্ত্রাসী ও অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার রোধে ব্যবস্থা নিন।’

এখনো অনেককে আওয়ামী লীগ ট্যাগ দিয়ে গ্রেপ্তার ও হয়রানি করা হচ্ছে মন্তব্য করে ফয়জুল করীম বলেন, গণহারে করা মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় আসামি হিসেবে লোকজনকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে, এটা আর করা যাবে না। সুষ্ঠু নির্বাচন করতে হলে সবার জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি করে এসব বন্ধ করতে হবে।

আওয়ামী লীগের ভোটাররা কাদের ভোট দেবেন, এমন এক প্রশ্নের জবাবে ফয়জুল করীম বলেন, যাঁদের মাধ্যমে জানমাল, ইজ্জত ও ব্যবসা–বাণিজ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে, তাঁরাই জনগণের ভোট পাবেন। আওয়ামী লীগের নেতা–কর্মী ও সমর্থকেরাও সেই প্রার্থীকে ভোট দেবেন, যাঁদের কাছে তাঁরা নিজেদের নিরাপদ মনে করবেন। জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘জোট হয়নি। তবে জামায়াতের আমিরের সম্মানার্থে তাঁর আসনে ইসলামী আন্দোলন প্রার্থী দেয়নি। তাঁরাও আমাদের সম্মান করে তাঁদের প্রার্থী তুলে নিয়েছেন, এ জন্য আমরা ধন্যবাদ জানাই।’

ইসলামী আন্দোলন নতুন কোনো জোটে যাবে কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ফয়জুল করীম বলেন, ‘নতুন করে কোনো জোটে যাওয়ার এখন সুযোগ নেই। তবে ভবিষ্যতে ইসলামি শরিয়াহর ভিত্তিতে যদি কেউ আইন প্রণয়ন করতে চায়, তাহলে আবারও জোট হতে পারে।’