ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জাহাঙ্গীর হোসেন দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন শ্রেণির একাধিক ছাত্রীকে বিভিন্ন কৌশলে যৌন হয়রানি করে আসছিলেন। বিষয়টি শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে জানতে পেরে একাধিক অভিভাবক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতির কাছে অভিযোগ জানান। তবে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। পরে অভিভাবকেরা বিষয়টি থানা–পুলিশকে জানায়। অভিযোগ পেয়ে পুলিশ আজ ওই বিদ্যালয়ে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা পান। পরে পুলিশ জাহাঙ্গীর হোসেনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা নাজমা আক্তার বানু বলেন, এক সপ্তাহ আগে বিদ্যালয়ের এক ছাত্রীর অভিভাবক তাঁর কাছে অভিযোগ দিয়েছিলেন যে জাহাঙ্গীর হোসেন ওই ছাত্রীকে যৌন হয়রানি করেছেন। এ ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার বিদ্যালয়ে জরুরি সভা ডাকা হয়েছিল। কিন্তু বিভিন্ন কারণে ওই দিন সভা করা যায়নি। আজ ওই ঘটনায় বিদ্যালয়ে সভা চলছিল। বিকেলে চারটার দিকে পাঁচবিবি সার্কেলের জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) ইশতিয়াক আলম, থানার ওসিসহ পুলিশের একটি দল বিদ্যালয়ে এসে চারজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে যৌন হয়রানির সত্যতা পান। এরপর পুলিশ জাহাঙ্গীর হোসেনকে আটক করে থানায় নিয়ে গেছে।

জানতে চাইলে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি এরশাদুল হক বলেন, ‘জাহাঙ্গীর হোসেন ছাত্রীদের সঙ্গে বাজে আচরণ করতেন, সেটা আগে থেকে আমরা কিছু জানতাম না। এক সপ্তাহ আগে নবম শ্রেণির এক ছাত্রীর অভিভাবক বিষয়টি আমাদের জানিয়েছিলেন। আমরাও চাই এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার হোক।’

তবে পুলিশি হেফাজতে জাহাঙ্গীর হোসেন এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি চক্রান্তের শিকার হয়েছি।’

পাঁচবিবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পলাশ চন্দ্র দেব প্রথম আলোকে বলেন, জাহাঙ্গীর হোসেনের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। তাঁকে আটক করে থানায় আনা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন