যুক্তরাজ্যে বাংলা ভাষার প্রসারে কাজ করছেন জগন্নাথপুরের সামাদ আলী
যুক্তরাজ্যে বাংলা ভাষা শিক্ষার প্রসারে কাজ করছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সৈয়দ সামাদ আলী। ২৪ বছর ধরে দেশটির বিভিন্ন শহরে বাংলা ভাষা শিক্ষা বিস্তারে তিনি কাজ করছেন। এ কাজের স্বীকৃতি হিসেবে তাঁকে ব্রিটেনের রাজা চার্লসের সম্মাননা এমবিই (মেম্বার অব দ্য মোস্ট এক্সিলেন্ট অর্ডার অব দ্য ব্রিটিশ এম্পায়ার) খেতাব পেয়েছেন।
সৈয়দ সামাদ আলীর পৈতৃক বাড়ি সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলায়। জগন্নাথপুরের সৈয়দপুর শাহারপাড়া ইউনিয়নের সৈয়দপুর হাড়িকোনা গ্রামের শামসুল আলী ও রোকেয়া বেগম দম্পতির ছেলে তিনি। সৈয়দ সামাদ আলী ১৯৯৯ সালে যুক্তরাজ্যে যান। সেখানে গিয়ে তিনি বাংলা ভাষা শিক্ষার প্রসারে কাজ শুরু করেন। ২০০৫ সালে যুক্তরাজ্যের নর্থ ইস্টের সান্ডারল্যান্ডের থর্নহীল সেকেন্ডারি স্কুলে শিক্ষকতা শুরু করেন। এ ছাড়া সাউথমুর একাডেমিসহ বিভিন্ন কলেজে বাংলা ভাষার ওপর পাঠদান করেন। সৈয়দ সামাদ আলী বাংলা শিক্ষার প্রতি আগ্রহ বাড়াতে বাংলা ভাষায় পাঠ্যবই রচনা করেন। তাঁর এই বই যুক্তরাজ্যের ডারহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বীকৃতি লাভ করে। তিনি বাঙালি নতুন প্রজন্মের ছেলেমেয়ে ও তাদের অভিভাবককে শিক্ষায় সহায়তা করতে কমিউনিটি ভাষা ক্লাসে পাঠদান, মা–বাবার অনুবাদক হিসেবে কাজ করা ও যুক্তরাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে অপরিচিত অভিভাবকদের সহায়তার জন্য কেন্দ্রীয় মসজিদে মসজিদে বাংলা ভাষা শিক্ষায় কাজ করেন।
সৈয়দ সামাদ আলী বলেন, ‘যুক্তরাজ্যে গিয়ে অনুভব করলাম, নতুন প্রজন্মের অনেকেই বাংলা ভাষার প্রতি আগ্রহ হারাচ্ছেন। তাই বাংলাকে নতুন প্রজন্মের কাছে জাগিয়ে রাখতে কাজ শুরু করি। এ জন্য প্রথমে পাঠ্যবই রচনা করি। বইটি যুক্তরাজ্যের ডারহাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্বীকৃতি লাভ করে। এরপর নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলা ভাষা শিক্ষার প্রসার বাড়তে থাকে। বর্তমান প্রজন্মের প্রধান ভাষা ইংরেজি। কিন্তু তাদের মা–বাবা, দাদা-দাদি ও স্বজনদের ৫০ শতাংশ ইংরেজিতে কথা বলতে পারেন না। তাই নতুন প্রজন্মকে ইংরেজি শিক্ষার পাশাপাশি বাংলা ভাষা শেখাতে কাজ করছি। বর্তমানে নতুন প্রজন্মের মধ্যে বাংলা ভাষা শেখার আগ্রহ বেড়েছে।’
সান্ডারল্যান্ডের বাসিন্দা সৈয়দ এমদাদ হোসেন বলেন, ‘কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ সৈয়দ সামাদ আলীকে এমবিই খেতাবের সম্মাননা দেওয়া হয়। তাঁর এ স্বীকৃতিতে একজন বাঙালি হিসেবে আমরা গর্বিত।’
যুক্তরাজ্যের নতুন দিন পত্রিকার সম্পাদক আবদুল করিম গনি বলেন, বাংলা ভাষা শিক্ষা বিস্তারে সামাদ আলী বাঙালি কমিউনিটিতে বিশেষ অবদান রাখছেন। নতুন প্রজন্মের বাঙালি ছেলেমেয়েরা বাংলা ভাষাচর্চা থেকে হারিয়ে যাচ্ছিল। তাঁর নানা উদ্যোগে বাংলা ভাষাচর্চা বাড়ছে। বাঙালি কমিউনিটির অনেকের সন্তান যুক্তরাজ্যে জন্মগ্রহণ করছে এবং ইংরেজি ভাষায় পারদর্শী হচ্ছে। এতে বাঙালি মা–বাবা ও স্বজনদের সঙ্গে সম্পর্কে জটিলতার সৃষ্টি করছে। সামাদ আলীর উদ্যাগ এ ধরনের জটিলতা অনেকটা নিরসন করছে।
সৈয়দ সামাদ আলী মাঝেমধ্যে বাংলাদেশে আসেন। সর্বশেষ ২০২১ সালের ডিসেম্বরে তিনি জগন্নাথপুরে নিজ বাড়িতে আসেন। এক মাস তিনি গ্রামের বাড়িতে ছিলেন এবং এলাকার বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে যোগ দেন। তাঁর মা রুকেয়া বেগম বলেন, সামাদ আলী দু-তিন বছর পরপর দেশে আসেন, প্রবাসে থাকলেও সব সময় তিনি পরিবার ও গ্রামের মানুষের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ রাখেন।