বগুড়ায় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীকে ধর্ষণ মামলায় এসআইয়ের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা
বগুড়ায় এক বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীকে ধর্ষণের মামলায় পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মিথুন সরকারের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। আজ বুধবার বগুড়ার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ আদালতের বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর এ আদেশ দেন।
মিথুন সরকার বগুড়ার শেরপুর থানায় কর্মরত ছিলেন। তাঁর বাড়ি শেরপুর জেলার সদর উপজেলার ভাতশালা ইউনিয়নের বয়ড়া পালপাড়া গ্রামে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় এক বছর আগে তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করে বগুড়া পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়।
বগুড়ার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) আশেকুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে প্রথম আলোকে বলেন, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা তামিল নিশ্চিত করতে আদালত থেকে আজ বিকেলেই বগুড়ার পুলিশ সুপার এবং রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজির কাছে আদেশের অনুলিপি পাঠানো হয়েছে।
আশেকুর রহমান আরও বলেন, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) বগুড়ার পরিদর্শক ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জাহিদ হোসেন মণ্ডলের দাখিল করা অনুসন্ধান প্রতিবেদন এবং ভুক্তভোগী ছাত্রীর দাখিল করা কথোপকথনের রেকর্ড আদালত পর্যালোচনা করেছেন। এতে আসামি মিথুন সরকারের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর উপাদান আছে মর্মে আদালত অভিযোগ আমলে নিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দিয়েছেন।
পিবিআইয়ের দাখিল করা প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগী ছাত্রী গত ৩০ জুন আদালতে নারাজি দরখাস্ত দেন। আদালত অনুসন্ধান প্রতিবেদনসহ মামলার তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করে অভিযোগ আমলে নিয়ে আজ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার আদেশ দেন।
এর আগে মামলার তদন্ত শেষে গত ১০ জুন আদালতে তদন্তকারী কর্মকর্তা জাহিদ হোসেন মণ্ডল অনুসন্ধান প্রতিবেদন দাখিল করেন। ওই প্রতিবেদনে ১৬৪ ধারায় আদালতে দেওয়া দুজন সাক্ষীর জবানবন্দি প্রদান ছাড়াও নানা তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপন করা হয়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, পুলিশের বিভাগীয় তদন্তেও অভিযোগের সত্যতা মিলেছে। তবে উচ্চ আদালতের একটি রায়ের কথা উল্লেখ করে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা অনুসন্ধান প্রতিবেদনে ওই ছাত্রী প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় আসামি মিথুন সরকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ৯(১) ধারায় (ধর্ষণের অপরাধ) আমলে নেওয়ার মতো কোনো অপরাধ করেননি বলে উল্লেখ করেন।
পিবিআইয়ের দাখিল করা ওই প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগী ছাত্রী গত ৩০ জুন আদালতে নারাজি দরখাস্ত দেন। আদালত অনুসন্ধান প্রতিবেদনসহ মামলার তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করে অভিযোগ আমলে নিয়ে আজ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার আদেশ দেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, গত বছর জুন মাসে বগুড়ার শেরপুর থানায় কর্মরত থাকাকালে এসআই মিথুন সরকারের সঙ্গে ভুক্তভোগী ছাত্রীর পরিচয় হয়। পরে ধর্মপরিচয় গোপন করে এসআই মিথুন ওই ছাত্রীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। গত বছরের ৩ জুন মেয়েটির জন্মদিনে বেড়াতে যাওয়ার কথা বলে কৌশলে শেরপুর উপজেলা শহরের খোন্দকারটোলা এলাকায় একটি বাসায় নিয়ে ওই ছাত্রীকে ধর্ষণ করেন। তরুণী বিষয়টি নিজের পরিবারকে জানালে পরিবার থেকে এসআই মিথুনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। মিথুন তখন বিয়ে করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে মামলা থেকে বাঁচার চেষ্টা করেন। তবে প্রতারণা বুঝতে পেরে ভুক্তভোগী ছাত্রী গত বছরের ১৭ আগস্ট বগুড়ার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ আদালতে এসআই মিথুন সরকারের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা দায়ের করেন।
মামলা দায়েরের পর এসআই মিথুন সরকারকে প্রথমে শেরপুর থেকে আদমদীঘি থানায় বদলি করা হয়। এর দুই দিনের মাথায় তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় মিথুন সরকারের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা রুজু হয়।
জানতে চাইলে বগুড়ার পুলিশ সুপার জাকির হাসান প্রথম আলোকে বলেন, সাময়িক বরখাস্ত থাকা এসআই মিথুন সরকারের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি–সংক্রান্ত আদালতের আদেশ এখনো হাতে পাননি। আদালতের আদেশ পাওয়া মাত্র আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।