বিটিএস–ভক্ত পাবনার তিন কিশোরী অন্য দেশে চলে যেতে চেয়েছিল, যেভাবে উদ্ধার

প্রতীকী ছবিএআই দিয়ে বানানো

একজন পড়ে অষ্টম শ্রেণিতে, দুজন ষষ্ঠ শ্রেণিতে—তিন বন্ধু। তারা দক্ষিণ কোরিয়ার সংগীতদল বিটিএসের ভক্ত। আছে টিকটক দেখার নেশা। টিকটক দেখেই ইচ্ছা জাগে অন্য দেশে চলে যাওয়ার। এরপর স্কুলের কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয় তিনজন। প্রথমে পরিকল্পনা ছিল সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ভারতে যাওয়ার। কিন্তু পথে বাদ সাধে এক পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রী। পরে ওই নারীর বুদ্ধিতেই উদ্ধার হয় তিন কিশোরী।

ওই তিন কিশোরীর বাড়ি পাবনা জেলা সদরের একটি গ্রামে। গতকাল রোববার নিখোঁজ হয় তারা। কুড়িগ্রাম থেকে তাদের উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ সোমবার দুপুরে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

বিটিএস দক্ষিণ কোরিয়ার সাত সদস্যের জনপ্রিয় গানের দল। ২০১৩ সালে আত্মপ্রকাশের পর অল্প সময়েই তুমুল জনপ্রিয় হয়ে ওঠে তারা, পরিণত হয় বিশ্বের আলোচিত ব্যান্ডগুলোর একটিতে। বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে এই ব্যান্ডের অসংখ্য দর্শক-শ্রোতা রয়েছেন, যাঁরা ‘বিটিএস আর্মি’ নামে পরিচিত।

উদ্ধার কিশোরীদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, তিন কিশোরীই টিকটকে আসক্ত ও বিটিএসের ভক্ত। তাদের একজনের সঙ্গে পরিবারের মনোমালিন্য হয়। এরপর তারা তিনজন মিলে অন্য দেশে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। সে অনুযায়ী গতকাল সকালে তারা স্কুলে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়। এরপর বাসে নাটোর, রংপুর হয়ে কুড়িগ্রামে পৌঁছায়। লক্ষ্য ছিল সীমান্ত এলাকায় যাওয়া। কুড়িগ্রামে পৌঁছালে তারা পথ হারিয়ে ফেলে। সন্ধ্যা নেমে এলে কুড়িগ্রাম বাস টার্মিনালে পৌঁছে রাত কাটানোর জন্য থাকার জায়গা খুঁজতে থাকে তারা।

একপর্যায়ে অপরিচিত এক মহল্লায় ঢুকে পড়ে কিশোরীরা। সেখানে তাদের গতিবিধি দেখে মহল্লায় থাকা এক পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রীর সন্দেহ হয়। পরে তিনি কৌশলে তিনজনকে বাড়িতে নিয়ে যান এবং পুলিশ কর্মকর্তা স্বামীকে বিষয়টি জানায়।

একটি কনসার্টে গাইছেন বিটিএসের সদস্যরা
ছবি: এএফপি

ওই পুলিশ কর্মকর্তার নাম তাজউদ্দিন আহম্মেদ। তিনি কুড়িগ্রাম সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই)। তাজউদ্দিন জানান, স্ত্রীর ফোনে বাড়িতে এসে কৌশলে তিন কিশোরীর কাছ থেকে বাড়ির ঠিকানা জেনে নেন। এরপর পাবনা সদর থানায় ও কিশোরীদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে পাবনা সদর থানা–পুলিশ গিয়ে তিন কিশোরীকে নিয়ে আসে।

তিন কিশোরী বাড়িতে না ফেরায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিলেন পরিবারের সদস্যরা। তাদের সন্ধানে পাবনা সদর থানায় তিনটি পৃথক সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করা হয়। এর পর থেকেই পুলিশ তিন কিশোরীর সন্ধান শুরু করে।

পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তারিকুল ইসলাম বলেন, নিখোঁজের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে পুলিশ কাজ করে। কুড়িগ্রাম সদর থানার উপপরিদর্শকের মাধ্যমে তিন কিশোরীর অবস্থান নিশ্চিত হওয়া যায়। পরে কুড়িগ্রাম পুলিশের সহযোগিতায় তাদের নিরাপদে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে কথা হয় অষ্টম শ্রেণিতে পড়ুয়া কিশোরীর বাবা–মায়ের সঙ্গে। তাঁরা দুইজনই এ ঘটনায় বিব্রত। বাবা বলেন, ‘ওরা ছোট মানুষ, ভুল করেছে। বাচ্চাদের ফিরে পেয়েছি এটাই শুকরিয়া।’