কুমিল্লার বার্ড যেন একটুকরো ফুলের রাজ্য

কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকার বার্ডের আঙিনায় এখন বাহারি ফুলের মেলাছবি: প্রথম আলো

বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (বার্ড) সেজেছে নতুন রূপে। পুরো বার্ড আঙিনাতেই এখন বাহারি ফুলের সমাহার। বাগানে বাগানে ফুটে থাকা হাজার হাজার রংবেরঙের ফুল বিমোহিত করছে ফুলপ্রেমীদের।

কুমিল্লা নগর থেকে প্রায় আট কিলোমিটার এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কোটবাড়ি এলাকার নন্দনপুর থেকে তিন কিলোমিটার পশ্চিমে বার্ডের অবস্থান। গতকাল সোমবার দুপুরে বার্ড আঙিনা ঘুরে অন্তত ১৫টি বাগানে নানা রঙের ফুলের সমারোহ দেখা গেছে। প্রতিটি ফুলের বাগানেই মধু আহরণে ব্যস্ত মৌমাছিরা। মনের আনন্দে উড়ে বেড়াচ্ছে প্রজাপতির দল।

বার্ডের লালমাই অডিটোরিয়ামের সামনের বাগানটি এখনো ফুলে ফুলে ভরা। সেখানে প্রতিটি গাছেই ফুটেছে রংবেরঙের ফুল। এসব ফুলের মধ্যে গোলাপই আছে অন্তত দশ প্রকারের। এর মধ্যে তাজমহল গোলাপ, ঝুমকা গোলাপ, সাদা গোলাপ আর হাজারি গোলাপের সৌন্দর্য যে কাউকে মুগ্ধ করে।

এই বাগানের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন ৫২ বছর বয়সী আলী হোসেন। তিনি ১৯৮৮ সাল থেকে বার্ডে মালি হিসেবে কাজ করছেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, এসব ফুল আরও দেড় মাসের বেশি সময় ধরে বাগানে থাকবে। প্রতিদিনই অনেক মানুষ ফুল দেখতে আসেন। অনেকে ফুলের সঙ্গে ছবি তোলেন, কেউ ভিডিও করেন। তবে তাঁরা খেয়াল রাখেন, কেউ যেন ফুল নষ্ট করতে না পারে।

বার্ডের আঙিনার প্রতিটি বাগানেই ফুটে আছে রংবেরঙের ফুল
ছবি: প্রথম আলো

বার্ডের গবেষণা বিভাগের সামনের বাগানটিও এখন বাহারি রঙের ফুলে ভরা। সবচেয়ে বড় বাগানটি দেখা গেছে আখতার হামিদ খান গ্রন্থাগারের পাশে। সেখানে ফুল আর ফুল। সাদা, লাল, গোলাপি, হলুদসহ বিভিন্ন প্রজাতির গোলাপে ভরপুর বাগানটি। সূর্যমুখী, গাঁদা, ইনকা গাঁদা, চায়না গাঁদা, রাজ গাঁদা, ডালিয়া ছাড়াও আছে সালবিয়া, স্টার, ফ্লক্স, ক্যালেন্ডুলা বা পট ম্যারিগোল্ড, সেলোসিয়া, পেটুনিয়াসহ নানা প্রজাতির ফুল।

বার্ড সূত্র জানায়, ১৯৫৯ সালের ২৭ মে সমাজবিজ্ঞানী আখতার হামিদ খান বার্ড প্রতিষ্ঠা করেন। লালমাই-ময়নামতি পাহাড় ও পাহাড়ের পাদদেশে ১৫৬ একর জায়গা নিয়ে অবস্থিত বার্ড ক্যাম্পাস। এটি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ একটি স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠার পর থেকে বার্ড পল্লী উন্নয়নের ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ, গবেষণা ও প্রায়োগিক গবেষণার মাধ্যমে পল্লী অঞ্চলের মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়ন এবং পল্লীর দারিদ্র্য বিমোচনে সাহায্য করে যাচ্ছে। বার্ড ক্যাম্পাসে বর্তমানে অন্তত ১৫টি ফুলের বাগান রয়েছে।

বার্ডের বাগানে আছে নানা জাতের গোলাপ ফুল
ছবি: আবদুর রহমান

বার্ডের বাগান শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী পরিচালক (কৃষি ও পরিবেশ) মো. সালেহ আহমেদ বলেন, প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বার্ডের বাগানগুলোয় প্রতিবছর ফুল ফোটানো হয়। এবার বাগানের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। গেল বছরের চেয়ে এবার অন্তত তিনটি বাগান বেশি করা হয়েছে। সব কটি বাগানে ১৫ হাজারের বেশি ফুলের চারা রোপণ করা হয়েছে। গত অক্টোবরের শেষ দিকে বাগান প্রস্তুত করে নভেম্বরের শুরুতে ফুলগাছ লাগানো হয়। ডিসেম্বরের শেষ দিক থেকে ফুল আসা শুরু হয়েছে। আগামী ফেব্রুয়ারির শেষ পর্যন্ত প্রতিটি বাগান ফুলে ভরা থাকবে।

বার্ডের আঙিনায় অন্তত ১৫টি বাগানে নানা রঙের ফুলের সমারোহ
ছবি: প্রথম আলো

আনিকা সুলতানা নামে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী এসেছেন বার্ড ক্যাম্পাসে। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘গত বছর এমন সময় বার্ডে ঘুরতে এসে ফুলের সমারোহ দেখেছিলাম। আজ এসে মনে হলো, এ বছর ফুলের পরিমাণ আরও বেড়েছে। সত্যিই বার্ডের এই দৃশ্য এখন অসাধারণ। খুবই ভালো লেগেছে ফুলের রাজ্যে ছবি তুলতে।’

বার্ডের মহাপরিচালক সাইফ উদ্দিন আহমেদ মনে করেন, ফুলের বাগানগুলো বার্ডের সৌন্দর্য বাড়িয়ে তুলেছে। দেশ-বিদেশের সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তাসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ প্রশিক্ষণ নিতে বার্ডে আসেন। তাঁরাও ফুলের সৌন্দর্য দেখে মুগ্ধ হন।