সৌদির বাদশাহ আবদুল আজিজের নামে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতা মুসলিম বিশ্বের বড় ও মর্যাদাপূর্ণ একটি প্রতিযোগিতা। এবার ছিল প্রতিযোগিতার ৪২তম আসর। প্রতিযোগিতায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ১৫৩ জন কোরআনে হাফেজ অংশ নেন। স্থানীয় সময় গত বুধবার রাতে মক্কায় বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে চূড়ান্ত বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়। এ সময় তাকরিমকে এক লাখ রিয়াল (প্রায় সাড়ে ২৭ লাখ টাকা) পুরস্কার ও সম্মাননা ক্রেস্ট দেওয়া হয়।

পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে সৌদি বাদশাহ সালমানের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তাঁর উপদেষ্টা ও মক্কা নগরীর গভর্নর খালেদ আল ফয়সাল বিন আবদুল আজিজ এবং দেশটির ইসলাম ও দাওয়াহ-বিষয়ক মন্ত্রী আবদুল লতিফ বিন আবদুল আজিজ আলে শেখ। ১০ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া প্রতিযোগিতা ২১ সেপ্টেম্বর শেষ হয়। চূড়ান্ত পর্বে উত্তীর্ণ ১৫ প্রতিযোগীকে ২৭ লাখ রিয়াল পুরস্কার দেয় কর্তৃপক্ষ।

ভাদ্রা গ্রামের বাসিন্দা মো. সম্রাট প্রথম আলোকে বলেন, ‘তাকরিম আগেও একটি আন্তর্জাতিক হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতায় সাফল্য পেয়েছে। এবার সৌদি আরবে যাওয়ার পর থেকে গ্রামের মানুষ তার সাফল্যের আশায় বসেছিল। তাকরিম গ্রামবাসীর সেই আশা পূরণ করেছে। সে আমাদের গর্ব। তার সাফল্যে পুরো টাঙ্গাইল জেলা সম্মানিত হয়েছে।’

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, তাকরিমের সাফল্যের খবর গ্রামে পৌঁছানোর পর তাদের বাড়িতে গিয়ে অনেকেই তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে আনন্দ ভাগাভাগি করেন।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য বেল্লাল হোসেন বলেন, তাকরিম দেশের জন্য সম্মান বয়ে এনেছে। আগেও লিবিয়া থেকে পুরস্কার নিয়ে আসার পর ভাদ্রা ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছিল। এবারও তাকে সংবর্ধনা দেওয়ার পরিকল্পনা আছে। ভাদ্রা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ইমাম হাফেজ শাহ আলম বলেন, তাকরিম আগামী বুধবার গ্রামে আসবে বলে জানা গেছে। তাকে অভ্যর্থনা জানাতে সবাই প্রস্তুত হয়ে আছে। সে দেশের জন্য সম্মান বয়ে এনেছে।

এর আগে ১৬ জুন লিবিয়ার রাজধানী বেনগাজিতে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতায় ৪০টি দেশের মধ্যে তাকরিম সপ্তম স্থান অর্জনের পাশাপাশি সর্বকনিষ্ঠ প্রতিযোগী হিসেবে বিশেষ সম্মাননা লাভ করে। এ ছাড়া গত ৫ মার্চ ইরানের রাজধানী তেহরানে অনুষ্ঠিত ৩৮তম আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় ২৯টি দেশের মধ্যে তাকরিম প্রথম স্থান অর্জন করে।

প্রসঙ্গত, তাকরিম ঢাকার মারকাযু ফয়জিল কোরআন আল ইসলামি মাদ্রাসার ছাত্র। তার বাবা হাফেজ আবদুর রহমান একটি মাদ্রাসার শিক্ষক। মা গৃহিণী। তার কৃতিত্বের জন্য মাদ্রাসার সুপারিনটেনডেন্ট ও গুলশান সোসাইটি মসজিদের খতিব মুফতি মুরতাজা হাসান ফয়েজী দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন