স্থানীয় লোকজন জানান, পক্ষ দুটির বিরোধের কারণে ইউনিয়নের আধারা, বকুলতলা ও সোলারচর এলাকায় শান্তি নেই। শতাধিকবার সংঘর্ষে জড়িয়েছে। এসব সংঘর্ষে ১৯৮৮ সালে সোলার চর এলাকার মজিবুর রহমান, ১৯৯৯ সালে দুলাল মাঝি, ২০০০ সালে আক্তার হোসেন, ২০১৩ রুবেল হোসেনের মৃত্যু হয়। সবশেষ গত সোমবার বকুলতলা এলাকার মনির হোসেন মোল্লা (৬৫) নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে ওই দুই পক্ষের সংঘর্ষের মধ্যখানে পড়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। বিষয়টি নিয়ে মঙ্গলবার প্রথম আলোয় সংবাদ প্রকাশিত হয়।

এটুকু ছেলে মারামারির কিছুই বোঝে না। অথচ সুরুজ-আলী হোসেনদের সংঘর্ষে আমার ছেলেটাও গুলিবিদ্ধ হয়েছে।
সালমা আক্তার, গুলিবিদ্ধ সাইফ হোসেনের মা

মনির হোসেনের স্ত্রী মঞ্জু বেগম বলেন, ‘আমার স্বামী কোনো দলাদলিতে ছিল না। দুই পক্ষের দ্বন্দ্বে নিরীহ মানুষটাকে গুলি করে মারা হলো। আমার চাওয়া, সুরুজ-আলী হোসেনদের দ্বন্দ্বে আর কেউ যেন স্বামীহারা, বাবাহারা না হয়।’

মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মৃণাল কান্তি দাস বলেন, আওয়ামী লীগের রাজনীতি মানুষের শান্তির জন্য। যারা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত, তারা আওয়ামী লীগের ন্যায়নীতিতে বিশ্বাসী নয়। তাদের বারবার অনুরোধ করলেও থামেনি। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যদি গুরুত্বসহকারে নিরপেক্ষভাবে বিষয়টি দেখতে, তাহলে এই এলাকার কেউ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করে রেহাই পেত না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সোলার চর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, রাস্তার পাশে পুলিশের একটি দল বসে আছে। কিছুক্ষণ পরপর রাস্তার ওপর টহল দিচ্ছে। এলাকার প্রতিটি বাড়ি পুরুষশূন্য। অনেক বাড়ি তালাবদ্ধ। যে কয়েকটি বাড়ির দরজা খোলা ছিল, সেখানে নারীদের ছাড়া আর কাউকে দেখা যায়নি।

মুন্সিগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তারিকুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, প্রত্যেকটি ঘটনার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মামলা হয়েছে। আসামি গ্রেপ্তার হয়েছে। স্থানীয় দ্বন্দ্বগুলো নিরসনে পুলিশ আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে।

সুরুজ মিয়া ও আলী হোসেনদের কোনোভাবে রোখা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন।

ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সুরুজ মিয়ার বাড়িতে গিয়ে তাঁকে পাওয়া যায়নি। মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলে বন্ধ পাওয়া যায়। ৩০ বছর ধরে সুরুজ মিয়ার সঙ্গে দ্বন্দ্বের কথা নিশ্চিত করেছেন আলী হোসেন। তাঁর ভাষ্য, ইউনিয়নের নিরীহ মানুষের ওপর সুরুজের লোকেরা জুলুম–অত্যাচার করে আসছে। যখনই তিনি এর প্রতিবাদ করতে গিয়েছেন, তখনই দ্বন্দ্ব–সংঘর্ষ হয়েছে। এসব ঘটনায় নিজের পক্ষের শতাধিক মানুষ আহত এবং তিনজন নিহত হয়েছেন বলে জানান আলী হোসেন।

দ্বন্দ্বের অবসান চান আলী হোসেন। তাঁর দাবি, বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্যের মাধ্যমে মীমাংসা করা হয়েছিল। তিনি মানলেও সুরুজ মিয়া মীমাংসা মানেননি। এর ফলে দ্বন্দ্ব চলমান রয়েছে।

সোমবারের সংঘর্ষের সময় গুলিবিদ্ধ হয় সাইফ হোসেন নামের এক শিশু। একটি ছররা গুলি তার গালে লাগে। মা সালমা আক্তার প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার ছেলের বয়স মাত্র তিন বছর। এটুকু ছেলে মারামারির কিছুই বোঝে না। অথচ সুরুজ-আলী হোসেনদের সংঘর্ষে আমার ছেলেটাও গুলিবিদ্ধ হয়েছে। আল্লাহ অল্পের জন্য ছেলের চোখটা বাঁচাইছে। যারা সংঘর্ষে করে, তারা ভালোই আছে। আমাদের মতো সাধারণ মানুষ মরছে।’