শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনায় ছাত্রদলের বহিষ্কৃত দুই নেতাকে চার সেমিস্টারের জন্য বহিষ্কার

তারেক রহমান (বাঁয়ে) ও হাসিবুর রহমানছবি: সংগৃহীত

সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহপরান হলের এক শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনায় ছাত্রদলের বহিষ্কৃত দুই নেতাকে চার সেমিস্টারের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে জরুরি সিন্ডিকেট সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বিষয়টি প্রথম আলোকে গতকাল রাতে নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক খায়রুল ইসলাম।

আরও পড়ুন

বহিষ্কৃত নেতারা হলেন পরিসংখ্যান বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের তারেক রহমান ও একই বর্ষের পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের হাসিবুর রহমান। তারেক রহমান বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সহদপ্তর সম্পাদক এবং হাসিবুর রহমান যোগাযোগবিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। ১৯ জুলাই তাদের সংগঠন থেকে বহিষ্কার করে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি–শৃঙ্খলা, নিরাপত্তা ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ককে সুদৃঢ় করতে কর্তৃপক্ষ এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
খায়রুল ইসলাম, উপাচার্য, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

সিন্ডিকেট সূত্রে জানা গেছে, চার সেমিস্টারের জন্য বহিষ্কারের পাশাপাশি ওই সময়ে দুই শিক্ষার্থীর ক্যাম্পাসে প্রবেশও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে তারেক রহমানের আবাসিকতা বাতিল করে তাঁকে আজীবনের জন্য হল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। ভবিষ্যতে তাঁরা যাতে আর কোনো শৃঙ্খলাভঙ্গের ঘটনায় জড়িত না হন, সে জন্যও তাঁদের কড়াভাবে সতর্ক করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন

উপাচার্য খায়রুল ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি–শৃঙ্খলা, নিরাপত্তা ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ককে সুদৃঢ় করতে কর্তৃপক্ষ এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিভাবকের জায়গা থেকে এমন কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়া কষ্টের। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থিতিশীলতা রক্ষার্থে ও বৃহত্তর স্বার্থে এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

১৬ জুলাই শাহপরান হলের ক্যানটিনের খাবারের মান নিয়ে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে মন্তব্য করেন সামাজিক বিজ্ঞান বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী খাইরুল খন্দকার। অভিযোগ ওঠে, এর জেরে ১৮ জুলাই রাতে তাঁকে মারধর করেন হাসিবুর রহমান ও তারেক রহমান। ঘটনার প্রতিবাদে ওই রাত থেকেই টানা তিন দিন বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা।

আরও পড়ুন

পরে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর জরুরি সিন্ডিকেট সভায় অভিযুক্ত দুজনের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।