জোর করে নারীর ভিডিও ধারণ, অভিযোগ যুবদল কর্মীর বিরুদ্ধে

যৌন নির্যাতনপ্রতীকী ছবি

বরিশালের গৌরনদীতে জোরে এক নারীর ভিডিও ধারণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক যুবদল কর্মী ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে। ঘটনার ৫৪ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে আত্মগোপনে রয়েছেন শাহীন মৃধা নামের ওই যুবদল কর্মী।

স্থানীয় একাধিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, প্রায় এক মাস আগে একটি বসতঘর থেকে এক নারী ও এক যুবককে আটক করেন শাহিন মৃধা ও তাঁর সহযোগীরা। অভিযোগ, তাঁরা ওই নারীকে যৌন হয়রানির পাশাপাশি জোর করে ভিডিও ধারণ করেন। গতকাল শুক্রবারেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

ঘটনাটি সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত জানার চেষ্টা করা হবে। কোন প্রেক্ষাপটে ভিডিওটি ধারণ করা হয়েছে, সেটিও খতিয়ে দেখা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দলীয়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মনির হোসেন আকন, সদস্যসচিব, গৌরনদী উপজেলা যুবদল

অভিযোগের বিষয়ে জানতে শাহীন মৃধার মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও সংযোগ বন্ধ পাওয়া যায়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তিনি আত্মগোপনে আছেন।

শাহীন মৃধা যুবদলের সক্রিয় কর্মীর বিষয়টি নিশ্চিত করে গৌরনদী উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব মনির হোসেন আকন বলেন, ঘটনাটি সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত জানার চেষ্টা করা হবে। কোন প্রেক্ষাপটে ভিডিওটি ধারণ করা হয়েছে, সেটিও খতিয়ে দেখা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দলীয়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ঘটনায় থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি জানিয়ে গৌরনদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তারিক হাসান রাসেল শনিবার রাতে প্রথম আলোকে বলেন, অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আইনজীবীদের ভাষ্য, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ধরনের ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে ভুক্তভোগী সামাজিক ও মানসিক মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়ে। এ বিষয়ে বরিশাল চিফ মেট্রোপলিটন আদালতের সহকারী সরকারি কৌঁসুলি (এপিপি) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বাবলু প্রথম আলোকে বলেন, এটা সাইবার নিরাপত্তা আইনে গুরুতর ও জামিন অযোগ্য অপরাধ।