পটুয়াখালীতে মোটরসাইকেল থামিয়ে শ্রমিক দল নেতাকে কুপিয়ে হত্যা
পটুয়াখালী সদর উপজেলায় রিপন কাজী (৩৮) নামের এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার মরিচবুনিয়া ইউনিয়নের গগনখা বাজারসংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত রিপন কাজীর বাড়ি সদর উপজেলার মরিচবুনিয়া ও আমতলী উপজেলার গুলিশাখালী ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী কালীবাড়ি গ্রামে; বাবার নাম মিজানুর রহমান কাজী। তিনি গুলিশাখালী ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সভাপতি ছিলেন।
নিহত রিপনের মা ও ভাই অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক ও পারিবারিক বিরোধের জেরে রিপনের চাচাতো ভাইয়েরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছেন। হামলাকারীদের সঙ্গে তাঁর বাবা মিজানুর রহমান কাজীও ছিলেন।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও নিহতের চাচাতো ভাই রাজীব কাজী (৩০) বলেন, ‘মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে আমি ও রিপন গগনখা বাজার থেকে মোটরসাইকেলে করে বাড়ি ফিরছিলাম। পথে ফারুক মাস্টারের বাড়ির সামনে পৌঁছালে চাচাতো ভাই রাসেল কাজী মোটরসাইকেল থামিয়ে কথা বলতে আসেন। এ সময় হঠাৎ রাসেল কাজী, রিফাত কাজী (২৬), সোহাগ কাজী (৪২), রাহাত কাজী (২৯) এবং রিফাতের খালাতো ভাই পলাশসহ ৭–৮ জন ধারালো অস্ত্র নিয়ে রিপনের ওপর হামলা চালান। হামলাকারীদের সঙ্গে রিপনের বাবা মিজানুর রহমানও ছিলেন।’
রাজীব আরও বলেন, ‘প্রাণে রক্ষা পেতে আমি পাশের একটি খালে ঝাঁপ দিয়ে দিই। অপর পারে উঠে চিৎকার করতে থাকি। পরে পরিবারের সদস্যরা এসে রিপনকে উদ্ধার করে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।’
নিহতের ছোট ভাই রাব্বী কাজী (২৭) অভিযোগ করেন, তাঁর বড় ভাই রিপন কাজী গুলিশাখালী ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সভাপতি ছিলেন। অন্যদিকে চাচাতো ভাই রিফাত কাজী একই ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি। স্থানীয় রাজনৈতিক আধিপত্যকে কেন্দ্র করে তাঁদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এ ছাড়া তাঁদের বাবা মিজানুর রহমান কাজী একাধিক বিয়ে করায় বাড়ির জমিজমা বিক্রি করছিলেন। চাচাতো ভাইয়েরা কম দামে জমি কেনার উদ্দেশ্যে বিয়ে করতে তাঁকে উৎসাহ দিতেন। এসব বিষয় নিয়েও দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধ ছিল। সেই বিরোধের জেরেই পরিকল্পিতভাবে তাঁর ভাইকে হত্যা করা হয়েছে।
রাব্বী কাজী জানান, এ ঘটনায় তাঁর মা আমেনা বেগম (৫০) বাদী হয়ে পটুয়াখালী সদর থানায় মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
ঘটনার পর মিজানুর রহমান কাজী ও অন্য অভিযুক্ত ব্যক্তিরা আত্মগোপনে আছেন। ফলে তাঁদের কোনো ভাষ্য পাওয়া যায়নি।
পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে এবং ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। অভিযুক্তদের ব্যক্তিদের ধরতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।