১০০ গ্রাম প্লাস্টিক দিলেই চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় বিনা মূল্যে ঢুকতে পারবে শিক্ষার্থীরা
১০০ গ্রাম প্লাস্টিক বর্জ্য জমা দিলেই বিনা মূল্যে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় ঢুকতে পারবে শিক্ষার্থীরা। এ জন্য সঙ্গে থাকতে হবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচয়পত্র। প্লাস্টিক দূষণ সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের সচেতন করতে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের নেওয়া এ উদ্যোগ পরীক্ষামূলকভাবে চালু হয়েছে। প্রথম দিনেই সাত শিক্ষার্থী এ সুযোগ নিয়েছে। তাদের কাছ থেকে প্রায় ৭০০ গ্রাম প্লাস্টিক সংগ্রহ করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানার ডেপুটি কিউরেটর শাহাদাত হোসেন আজ মঙ্গলবার প্রথম আলোকে এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, চিড়িয়াখানার প্রবেশমুখে প্লাস্টিকের ওজন মাপার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। একজন শিক্ষার্থী কমপক্ষে ১০০ গ্রাম প্লাস্টিক বর্জ্য জমা দিলে বিনা মূল্যে চিড়িয়াখানায় প্রবেশ করতে পারবে। তবে শিক্ষার্থী হিসেবে পরিচয় নিশ্চিত করতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচয়পত্র দেখাতে হবে।
এর আগে গত সোমবার জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে জেলা পরিবেশ ও বন উন্নয়ন কমিটির মতবিনিময় সভায় এ উদ্যোগের ঘোষণা দেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। তিনি চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা পরিচালনা কমিটির সভাপতিও।
সভায় জেলা প্রশাসক বলেন, প্লাস্টিক বর্জ্য পরিবেশের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। যত্রতত্র ফেলে রাখা প্লাস্টিক সহজে মাটির সঙ্গে মেশে না। এসব বর্জ্যে পানি জমে মশার প্রজননস্থল তৈরি হতে পারে। দুর্গন্ধসহ বিভিন্ন পরিবেশগত ও স্বাস্থ্যঝুঁকিও তৈরি হয়।
শিক্ষার্থীদের পরিবেশ সংরক্ষণে সম্পৃক্ত করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, ‘এই পরিবেশটা সবার এবং এই পরিবেশে আমরা বসবাস করি। বসবাসের জন্য এই পৃথিবী ছাড়া আমাদের আর কোনো জায়গা নেই।’
প্লাস্টিক যাবে পুনঃপ্রক্রিয়াজাতে
শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা প্লাস্টিক বর্জ্য আবার আবর্জনার স্তূপে ফেলা হবে না। এগুলো পুনঃপ্রক্রিয়াজাত করার পরিকল্পনা করেছে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ। এ বিষয়ে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
ডেপুটি কিউরেটর শাহাদাত হোসেন বলেন, সংগৃহীত প্লাস্টিক কীভাবে পুনঃপ্রক্রিয়াজাত করে সম্পদ হিসেবে কাজে লাগানো যায়, সেটি নিয়ে আলোচনা চলছে। আপাতত উদ্যোগটি পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হয়েছে। শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের সাড়া কেমন পাওয়া যায়, তা দেখে পরবর্তী সময়ে এর মেয়াদ ও নিয়মকানুন পর্যালোচনা করা হবে।
বিশ্বজুড়ে প্লাস্টিক বর্জ্য এখন বড় পরিবেশগত সংকট। জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচির (ইউএনইপি) হিসাবে, প্রতিবছর প্রায় ১ কোটি ৯০ লাখ থেকে ২ কোটি ৩০ লাখ টন প্লাস্টিক বর্জ্য নদী, হ্রদ ও সাগরের মতো জলজ পরিবেশে গিয়ে মেশে। প্লাস্টিক সহজে পচে না। সময়ের সঙ্গে তা ক্ষুদ্র কণায় ভেঙে মাইক্রোপ্লাস্টিকে পরিণত হয় এবং পানি, মাটি ও খাদ্যশৃঙ্খলে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
কৃষিজমির টপসয়েল কাটা বন্ধে কঠোর অবস্থান
গত সোমবারের সভায় কৃষিজমির ওপরের উর্বর মাটি বা টপসয়েল কেটে ইট তৈরির বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থানের কথা জানান জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, কৃষিজমির উর্বর মাটি কেটে কোনোভাবেই ইট তৈরি করা যাবে না। এ ক্ষেত্রে আইন ও বিধিবিধান কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হবে। খাল খনন বা উন্নয়নকাজ থেকে বৈধভাবে পাওয়া মাটি ইট তৈরিতে ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার সভাপতিত্বে সভায় স্থানীয় সরকার বিভাগের চট্টগ্রামের উপপরিচালক গোলাম মাঈনউদ্দিন হাসান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শরীফ উদ্দিন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) পাঠান মো. সাইদুজ্জামান, পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম বিভাগের পরিচালক জমির উদ্দিন ও চট্টগ্রাম জেলার উপপরিচালক মো. মোজাহিদুর রহমানসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।