নাটোরে ছাত্রদল-যুবদলের আন্দোলনে ফ্যামিলি কার্ড শুমারির নিয়োগ পরীক্ষার ফল স্থগিত

ফ্যামিলি কার্ড শুমারির নিয়োগ পরীক্ষার ফলাফল বাতিলের দাবিতে লালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে ছাত্রদল ও যুবদলের বিক্ষোভ। বুধবার দুপুরেছবি: ভিডিও থেকে সংগৃহীত

নাটোরের চারটি উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড শুমারির তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার পদে নিয়োগ পরীক্ষার ফলাফল স্থগিত করেছে কর্তৃপক্ষ। লালপুর ও বাগাতিপাড়া উপজেলা ছাত্রদল-যুবদলের আন্দোলনের মুখে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে এ ফলাফল স্থগিত করা হয়।

ফ্যামিলি কার্ড শুমারির নিয়োগ পরীক্ষার ফলাফল বাতিলের দাবিতে ছাত্রদল-যুবদল নেতা-কর্মীরা বুধবার দিনভর লালপুর ও বাগাতিপাড়া উপজেলা পরিষদ চত্বরে বিক্ষোভ মিছিল করেন। এ সময় ভাঙচুর ও কর্মকর্তা-সাংবাদিকদের লাঞ্ছিত করার ঘটনা ঘটে। বিক্ষোভকারীরা ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ফলাফল বাতিলের দাবি জানান। অন্যথায় সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) প্রত্যাহারের দাবি করেন তাঁরা।

ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ফলাফল স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আমরা শুধু উপজেলা নিয়োগ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি।
নূর মোহাম্মদ, নাটোর জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক

জেলা সমাজসেবা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, রাজশাহী বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয়ের পরিচালক সৈয়দ মোস্তাক হাসান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে নাটোরের লালপুর, বাগাতিপাড়া, বড়াইগ্রাম ও গুরুদাসপুর উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড শুমারির তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার পদে জনবল নিয়োগের পরীক্ষার ফলাফল স্থগিত করা হয়েছে। গতকাল বিকেলে সংশ্লিষ্ট উপজেলা কর্তৃপক্ষকে এ স্থগিতাদেশের বিষয়টি জানানো হয়েছে।

নাটোর জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক নূর মোহাম্মদ ফলাফল স্থগিতের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ফলাফল স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আমরা শুধু উপজেলা নিয়োগ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি।’

আরও পড়ুন

বুধবার সাড়ে ১১টার দিকে স্থানীয় ছাত্রদল-যুবদল নেতারা মিছিল নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের কার্যালয়ে যান। এ সময় তাঁরা ফলাফল তৈরিতে ইউএনওদের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ তুলে স্লোগান দেন। কার্যালয়ের দরজায় লাথি মারেন, ফুলের টব ভাঙচুর করেন এবং ইউএনওদের বিকেল চারটা পর্যন্ত অবরুদ্ধ করে রাখেন।

এ সময় সাংবাদিকেরা পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে বিক্ষোভকারীদের হামলার শিকার হন। এতে অন্তত ছয়জন সাংবাদিক আহত হন। দুই সাংবাদিকের মুঠোফোন কেড়ে নিয়ে ছবি ও ভিডিও মুছে ফেলা হয়।

সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনার প্রতিবাদে নাটোরের সর্বস্তরের সাংবাদিকেরা গতকাল বিকেলে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে প্রতিবাদ মিছিল করেন। তাঁরা ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সাংবাদিক নির্যাতনকারীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান।