বাগেরহাটে ব্যাংকের লকার থেকে ২০০ ভরি স্বর্ণালংকার গায়েব, থানায় অভিযোগ

লকার থেকে স্বর্ণালংকার গায়েব হওয়ার অভিযোগ পেয়ে তদন্তে নেমেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার দুপুরে বাগেরতাট শহরের খানজাহান আলী সড়কে পূবালী ব্যাংকের শাখায়ছবি : প্রথম আলো

বাগেরহাটে পূবালী ব্যাংকের লকারে রাখা প্রায় ২০০ ভরি স্বর্ণালংকার পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন এক গ্রাহক। এ ঘটনায় বাগেরহাট সদর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন সুমন কুমার দাস নামের ওই গ্রাহক।

এ পরিপ্রেক্ষিতে তদন্তে নেমেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে শহরের খানজাহান আলী সড়কে থাকা পূবালী ব্যাংকের ওই শাখায় গিয়ে দেখা যায়, সিআইডি, জেলা পুলিশ ও পিবিআই কর্মকর্তারা উপস্থিত। সেখানে তাঁরা কয়েক ঘণ্টা ধরে বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা করেন।

এ বিষয়ে পূবালী ব্যাংকের বাগেরহাট শাখার সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) মনিরুল আমিন বলেন, ‘লকার খুলতে দুটি চাবি লাগে। দুটি চাবির একটি গ্রাহকের কাছে, অন্যটি ব্যাংকের কাছে থাকে। অভিযোগকারী গ্রাহকের ওই চাবি তাঁর কাছেই ছিল, যা ছাড়া গ্রাহকের লকার খোলা সম্ভব নয়। এখানে তিনি কী রেখেছিলেন, তার কোনো ঘোষণাও ছিল না। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে পুরো ঘটনা বেরিয়ে আসবে।’

গ্রাহক সুমন কুমার দাসের লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১৫ অক্টোবর পূবালী ব্যাংক, বাগেরহাট শাখার লকারে পরিবারসহ আত্মীয়স্বজনের আনুমানিক ২০০ ভরি স্বর্ণালংকার রাখা হয়। পারিবারিক অনুষ্ঠান থাকায় গতকাল বুধবার ব্যাংকে গিয়ে লকারে মজুত রাখা স্বর্ণ নিতে গিয়ে দেখা যায় লকারটি ফাঁকা। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে ব্যাংক কর্মকর্তা ও পুলিশ প্রশাসনকে জানান।

এদিকে ব্যাংকের লকার থেকে গ্রাহকের রাখা মালামাল খোয়া গেছে—এমন খবর পেয়ে লকার ব্যবহারকারী অনেক গ্রাহকই ব্যাংকে ছুটে আসেন। তাঁরা তাঁদের লকার খুলে দেখেন।

পূবালী ব্যাংকের এই শাখার লকার ব্যবহারকারী শহরের নাগের বাজার ও আমলাপাড়া এলকার দুজন গ্রাহক বলেন, লকার থেকে একজন গ্রাহকের স্বর্ণালংকার গায়েব হয়ে যাওয়ার খবর পেয়ে এসেছেন। এই ব্যাংকের লকারে তাঁদের পরিবারের স্বর্ণালংকার রাখা আছে। খুলে দেখেছেন, সব ঠিকঠাক আছে।

বাগেরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) শামীম হোসেন বলেন, ‘ব্যাংকের লকার থেকে থেকে স্বর্ণালংকার খোয়া গেছে এমন অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। আমরা বিষয়টি তদন্ত করছি। তদন্ত শেষে স্পষ্ট হওয়া যাবে।’

এদিকে এই ঘটনার দুই দিন আগে একই ভবনে থাকা নগদ ডিস্টিবিউশন হাউস থেকে প্রায় ৩৩ লাখ টাকা নিয়ে পালিয়ে গেছেন প্রতিষ্ঠানটির হিসাবরক্ষক মো. মনিরুজ্জামান। এ ঘটনায় বাগেরহাট সদর মডেল থানায় বুধবার মামলা হয়েছে। এ বিষয়ে তদন্ত ও অভিযুক্ত মনিরুজ্জামানকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।